ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ৪ মার্চ, বুধবার রাজধানীর সবুজবাগ থানার পূর্ব বাসাবোর বাসিন্দা জনৈক মোঃ সালাউদ্দিন মিয়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পত্রে সালাউদ্দিন মিয়া উল্লেখ করেন, মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান একজন উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তিনি দুটি পদ ১। সচিব ও ২। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদে রয়েছেন। উক্ত পদে থেকে বিভিন্ন সময়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করেন।
তার একক হস্তক্ষেপে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধা গ্রহণকারী কর্মকর্তা। কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি ও বদলী বানিজ্য করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান।
ইতিমধ্যে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, পরিচ্ছন্ন বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ, ভান্ডার বিভাগে হাজার কোটির টাকার দুর্নীতি হয়েছে। তার পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ বাগিয়ে দিয়ে মোটা অংশের কমিশন বাণিজ্য করেছেন।
আসাদুজ্জামানের রয়েছে নিজস্ব সিন্ডিকেট। একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাগণ। এরা সবাই সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের সময় নিয়োজিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। এসকল কর্মকর্তাগণ প্রশাসনের অন্যান্য মন্ত্রণালয় থেকে ডেপুটেশনে সিটি কর্পোরেশনে এসে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তাদের অত্যাচারে বঞ্চিত অনেক নিরীহ ও সৎ কর্মকর্তা, কর্মচারী।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট সদ্য বিদায়ী প্রশাসক বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে অবৈধভাবে নির্মিত মার্কেট ভেঙে দেওয়ার পর এই মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ছাদেকুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (টিইসি) খন্দকার মাহবুবুর আলম, নির্বাহী প্রকৗশলী নাইম রায়হান খান এর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অন্যান্য দোসররা মিলে কৃষি মার্কেট চালু করে এবং প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা ভাগ বাটোয়ারা করেন। একইভাবে সিটি কর্পোরেশনের আরও ৩০-৩৫ টি মার্কেট মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান এর একক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের আস্থাভাজন শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি আবদুল খালেক মজুমদার ১৬তম গ্রেডের কর্মচারী এবং মোহাম্মদ দ্বীন ইসলাম ১৬তম গ্রেডের কর্মচারী দুর্নীতিবাজ মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সহায়তায় ৯ম গ্রেডে সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে তাকে দুর্নীতির কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
সদ্য নিয়োগে বানিজ্য করে কোটি কোটি টাকা গ্রহণ করেছেন। গওঝঞ হতে লিখিত পরীক্ষা হওয়ার পরও তিনি ভাইবার নামে অনেক কর্মকর্তার নিকট থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ করেছেন।
এছাড়াও অনেক কর্মকর্তা ২০ বছর একই পদের চাকরী করলেও তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন উদাসীন। ফলে তারা হাইকোর্টে রিট পিটিশন করলে মহামান্য হাইকোর্ট কিছু নিয়োগ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।
দুর্নীতির মাধ্যমে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান নামে বেনামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। পাশাপাশি অবৈধ আয়ের অধিকাংশ অর্থ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন।



