topআন্তর্জাতিক

রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে ইরান

টাইমস ২৪ ডটনেট: পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন-তেহরান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই সম্প্রতি ইরানে যৌথ সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। তেল আবিব এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন লায়নস রোর’। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। এতে ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকে দেশব্যাপী ৭৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।


তবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের মধ্যেও পিছু হটেনি ইরান। জবাবে ‘অপারেশন ট্রু প্রোমিস ৪’ নামে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। ইসরাইলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইরান উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।


ইসরাইলের দখল করা সব ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারানোর পর এ হামলা শুরু হয়েছে। তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের পেছনে যে উসকানিমূলক ঘটনাগুলো কাজ করেছে, তার মধ্যে একটি স্কুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাও রয়েছে। ওই হামলায় প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মৃত্যু হয়।


এদিকে রুশ একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত বা নিষ্ক্রিয় করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরাইলের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে সফলভাবে আঘাত হেনেছে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে।


কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন ডলারের রাডার ধ্বংসের দাবি ইরানের: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন এখন মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এতে বহু প্রাণহানির পাশাপাশি বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জামও ধ্বংস হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসছে। ইরানের কয়েকটি গণমাধ্যম দাবি করেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রাডার এএন/এফপিএস-১৩২ ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ বিভাগ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এর জনসংযোগ দফতরের বরাত দিয়ে তেহরান টাইমস জানিয়েছে, এই রাডারের নজরদারি সক্ষমতা প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এএন/এফপিএস-১৩২ একটি অত্যাধুনিক আগাম সতর্কীকরণ রাডার, যা মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ট্র্যাক করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ এর মাধ্যমে দূর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় করা যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রাডারটি কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এটি বসানো হয়। তবে আইআরজিসি দাবি করেছে, একটি নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাডারটি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে। কিছু কাতারি কর্মকর্তা নাকি এই ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। যদি এটি সত্য হয়, তাহলে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।


ইরানের ৫০০’র বেশি জায়গায় হামলা, নিহত প্রায় ৮০০: ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানজুড়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার ইরানি রেড ক্রিসেন্টের বরাতে এ খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকে দেশব্যাপী ৭৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের টিমের মাঠ পর্যায়েরে তথ্য অনুযায়ী চলমান সংঘাতে ৭৮৭ জন শহীদ হয়েছেন। গত শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের ১৫৩ শহর, ৫০৪ জায়গায় ১ হাজার ৩৯টি হামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তেহরানে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া, ইরানি সংবাদমাধ্যম রাজধানীর পশ্চিমে কারাজ ও মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিক তেহরান।


ইরানি পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য ফাতেমেহ মোহাম্মদবেগি সোমবার বলেছেন, ইরানের নয়টি হাসপাতালে হামলা হয়েছে। ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগের জবাবে আইডিএফ দাবি করেছে যে,হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি। যদিও ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়কেই ওই হাসপাতালে হামলা চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরানের রাজধানী তেহরান, বুশেহর এবং উর্মিয়াসহ বিভিন্ন শহরে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে আমেরিকা-ইসরায়েল।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাল ইসরাইল: অবশেষে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরাইলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে। এরইমধ্যে সহস্রাধিক মানুষকে হাসপাতলে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৮৯ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৯ জনের স্বাস্থ্য মাঝারি অবস্থায় এবং ২৫৮ জন ভালো অবস্থা আছে। এছাড়া আটজনের স্বাস্থ্য উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে এবং চারজনের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত শনিবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মোট ১ হাজার ৫০ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২০ জন এখনও হাসপাতালে জরুরি বিভাগে রয়েছেন, বাকিদের চিকিৎসা করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ২১ জনের স্বাস্থ্য মাঝারি অবস্থায় এবং ৭৫ জন ভালো অবস্থায় রয়েছে।


বাহরাইনে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান: বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এমনটাই দাবি করেছে। আইআরজিসি জানায়, মঙ্গলবার চালানো এই হামলায় ২০টি ড্রোন ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এতে বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড ও সদর দপ্তর ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লেগেছে। তবে এ ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাহরাইনের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


লেবাননে স্থল অভিযান চালাবে ইসরায়েল: লেবাননে স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার ও অতিরিক্ত কৌশলগত অঞ্চল দখলের লক্ষ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সকে (আইডিএফ) স্থলভাগে অগ্রসর হওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের দেওয়া একটি বিবৃতিতে এই তথ্য জানা গেছে। সেখানে কাৎজে বলেছেন, তিনি এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের ওপর গুলিবর্ষণ রোধ করার জন্য, লেবাননের অতিরিক্ত কৌশলগত এলাকা দখল এবং অগ্রসর হওয়ার জন্য আইডিএফকে অনুমোদন দিয়েছেন।


বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন,আইডিএফ লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসী সংগঠনটি ইসরায়েলের আক্রমণের জন্য চরম মূল্য দিচ্ছে এবং দিতে থাকবে। কাৎজে আরও বলেন, ‘ইসরায়েল সীমান্তে বসবাসকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আমরা গ্যালিলির সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং আমরা তা পূরণ করব।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই সোমবার ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। এর প্রতিক্রিয়ায় লেবাননের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় দখলদার দেশ ইসরায়েল। হামলায় লেবাননের ৩১ নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৪৯ জন। পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান এয়াল জামির এক বৈঠকে বলেন, হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। এবার স্থল অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তের কথা জানাল ইসরায়েল।


ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ: ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র ব্যয়ভার নিয়ে বিশদ তথ্য ও বিশ্লেষণ সামনে আসতে শুরু করেছে। যদিও পেন্টাগন এখনও যুদ্ধের মোট খরচের আনুষ্ঠানিক কোনো হিসাব প্রকাশ করেনি। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই অভিযানের ব্যয় নিয়ে ভয়াবহ পূর্বাভাস দিচ্ছেন।


আনাদোলু নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় খরচ হচ্ছে প্রায় ৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। এর বাইরে বিমান পুনঃস্থাপন, এক ডজনেরও বেশি নৌযান মোতায়েন ও আঞ্চলিক সম্পদ সচল করার মতো প্রাক-আক্রমণ প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত আরও ৬৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ক্রিস্টোফার পেবল আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, যুদ্ধের গতি প্রকৃতি এবং প্রতিটি অস্ত্রের উচ্চমূল্য বিবেচনা করলে এই ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ‘সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির’ তথ্যমতে, ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের’ মতো একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনা করতেই প্রতিদিন প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরে একাধিক এ ধরনের গ্রুপ সক্রিয় থাকায় দৈনিক অপারেশনাল খরচ আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আর্থিক ব্যয়ের চেয়েও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুদ। ক্রিস্টোফার পেবল আরও সতর্ক করেছেন, ইরান ও তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণ মোকাবিলায় যেভাবে উচ্চগতির ইন্টারসেপশন বা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বর্তমান গতিতে অভিযান চললে বড়জোর কয়েক সপ্তাহ অস্ত্রের মজুদ অক্ষুণ্ন থাকতে পারে। ফলে যুদ্ধের আর্থিক স্থায়িত্বের চেয়েও এখন মার্কিন রণকৌশলের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্রুত ফুরিয়ে আসা উন্নত প্রযুক্তির গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম। মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী ও ব্যয়বহুল সংঘাত কতদিন স্থায়ী হবে সেটি অনিশ্চিত। ফলে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে এখন ওয়াশিংটনের অন্দরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে ইসরাইলের হামলা: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ভবনে বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরাইলি বাহিনী। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপি’র বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন। সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলি বিমান বাহিনী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সরকারি কমপ্লেক্সের ভেতরের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কমপ্লেক্সটিতে হামলার সময় প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ভবনে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ নিক্ষেপ করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এর আগে, তেল আবিবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়, হাইফায় নিরাপত্তা ও সামরিক কেন্দ্র এবং পূর্ব জেরুজালেমে একটি স্থাপনায় সোমবার হামলা চালানোর কথা জানায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রচারিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জায়নিস্ট শাসনের অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং তাদের বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সদর দফতরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ হামলায় খাইবার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানায় আইআরজিসি।


ইরানকে যে বার্তা দিলো সৌদি আরব: রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন দূতাবাসে বিপজ্জনক হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। হামলার ঘটনায় পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরব যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেয়ার বিকল্পসহ নিজেদের আত্মরক্ষা ও স্বার্থ রক্ষায় সব পদক্ষেপ নেয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এদিন ভোরে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ভবনটিতে সামান্য আগুন ধরে যায় এবং আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর সৌদি আরবে মার্কিন মিশনগুলোতে সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। সামাজিক

যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দূতাবাসের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার নির্ধারিত সব নিয়মিত ও জরুরি সাক্ষাৎকার বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি জেদ্দা, রিয়াদ ও দাহরানসহ বিভিন্ন মিশনে ‘নিরাপদ অবস্থানে থাকার’ নির্দেশনা কার্যকর রয়েছে। দূতাবাসে হামলার বিষয়টি উল্লেখ করে বিবৃতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দূতাবাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সকল নাগরিককে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী চলার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। তবে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে খুব শিগগির বড় ধরনের ‘পাল্টা পদক্ষেপ’ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এ হামলার জবাবে ওয়াশিংটন কী করতে যাচ্ছে, তা ‘আপনারা খুব দ্রুতই দেখতে পাবেন’।


প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হন। জবাবে ইসরাইলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

 

Related Articles

Back to top button