বিমানবন্দরের যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় – পকেটমার চক্র সক্রিয়

শাহীন শাহ্ ওয়ালীদ : ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন টিতে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানের যাত্রী সাধারণ যাতায়াত করে বিধায় স্টেশন টি কমলাপুর স্টেশনের থেকেও অধিক গুরুত্ব বহন করে আসছে আর এই রকম একটি স্টেশনে বেশ কিছু দিন থেকেই যাতায়াতরত রেল যাত্রী সাধারণদের কে পকেটমারদের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে । এ বিষয়ে তেমন কোন ভুমিকাও রাখা যাচ্ছে না, কেননা হাতে নাতে ধরতে না পারলে কাউকেই পকেটমার হিসেবে ধরা যাচ্ছে না বা আইনানুগ তেমন কোন ব্যবস্থাও গ্রহন করা যাচ্ছে না বলে সরেজমিন তদন্ত করে দেখতে পাওয়া গেল । কাউকে পকেটমার সন্দেহ করে বা পকেটমার হিসেবে চিনলেও তাকে আইনগতভাবে কিছুই করা যাচ্ছে না । প্লাটফরমে চলাচলরত বা অবস্থানরত সন্দেহজনক পকেটমারদের কিছুই বলতে পারা যায় না বা রেল পুলিশও তেমন কিছু করতে পারে না,যতক্ষন পর্যন্ত না তাদেরকে হাতে নাতে ধরতে না পারে । তাই এক পর্যায়ে পকেটমাররা ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে যাচ্ছে । পকেটমাররা কমলাপুর থেকে আসা আন্ত:নগর ট্রেনে যাত্রীদের ভীরের ভিতরে উঠার সময়ই ধাক্কাধাক্কি করে টার্গেট ব্যক্তিদের মোবাইল,মানিব্যগ সহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে নিচ্ছে । পকেটমাররা সঙ্গবদ্ধ হয়ে ৪/৫ জন একসাথেই থাকে । আর যে কিনা মালামাল নিয়ে নেয়, তার কাছে কোন মাল ই থাকে না । হাতবদল করে অন্য ব্যক্তির কাছে পার করে দেয় । তাই আপনি মাল নেয়া ব্যক্তিকে নিজ চোঁখে দেখে ধরে ফেললেও তার কাছে কিছুই পাবেন না । তখন আপনি নিজেই বিপদে পড়ে যাবেন । এমনকি আপনার মাল নিয়ে আবার আপনাকেই বিব্রতকর অবস্থায় ফেলবে । এমন কি আপনাকে ওরা সবাই মিলে মারধর ও করবে । প্রথম চেষ্টা থাকে প্লাটফরমে থেকে দরজা দিয়ে উঠার সময়ই কাজ করে অন্যের কাছে দেয়া আর ব্যর্থ হইলে ট্রেনে উঠতে উঠতে ভীরের ভিতরে ট্রেনের মধ্যেই টার্গেট ব্যক্তির মোবাইল মানিব্যাগ সহ পাসপোর্ট স্বর্ণলংকার রাখা ছোট ব্যাগ থেকে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে । এসব ঘটনার ভুক্তভোগীরা কোন অভিযোগ করার সুযোগও পায় না । শুধু ট্রেনের ভিতরেই বিষয়টি জানাজানি হয় আর তখন কিছু করারও থাকে না । এই রকম ফাক ফোকরে পকেটমাররা বীর দর্পে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে চলেছে । রেল পুলিশ দেখেও এবং বুঝেও কিছু করতে পারছে না । আমার কেহ কেহ ওদেরকে অতীতে গ্রেফতারের মাধ্যমে চিনতে পারলেও কিছু বলতে পারে না রিকভারী না থাকার কারনে বা হাতেনাতে ধরতে না পারাতে । তখন তারা পকেটমারদের কিছু না বলত শুধু চোঁখের ইশারাতে বিকাশে ফায়দা লুটছে । প্লাটফরমে ঘুরাঘুরি করে ওরা বিদেশ থেকে আসা প্রবাসী যাত্রীদের টার্গেট করে নিজেরা সঙ্গবদ্ধ হয়ে পরিকল্পনা করত ,কিভাবে তাদের মোবাইল,মানিব্যাগ সহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে নিতে পারে । এভাবেই জিন্মি অবস্থায় একান্ত অসহায় ও ভীষন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বিমানবন্দর রেল স্টেশন থেকে ভ্রমন করা সকল যাত্রী সাধারণ । কমলাপুর থেকে আসা এবং কমলাপুর অভিমুখে যাওয়া মানুষের ভীষন চাপ হওয়ায় ট্রেনগুলোতেই পকেটমারদের দখলে রয়েছে বলে সুত্রে জানা যায়। তাই ভুক্তভোগীদের একান্ত দাবি যেন সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি আমলে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করে প্রবাসী সহ সকল রেল যাত্রীদের মালামালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন । বাংলাদেশ রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ আশা করছেন দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ ।



