ভারত

বৃহত্তর ডিব্রুগড় প্রেস ক্লাবের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের:: সমাজকর্মী জ্যোতি প্রসাদ কানৈয়ের ৫০ লক্ষ টাকার অনুদান

এম হাছিম আলী, ডিব্রুগড় থেকে : গুণগত সংবাদ পরিষেবার মাধ্যমে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভকে সুদৃঢ় করতে সাংবাদিকরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছেন। জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সংবাদক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ভারত সরকারের জাহাজ, জলপরিবহন ও বন্দর মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ডিব্রুগড়ের একটি স্বতন্ত্র মর্যাদা রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী ডিব্রুগড়ের নানা ইতিহাস সংরক্ষণ এবং পর্যটকদের আকর্ষণের ক্ষেত্রে বৃহত্তর ডিব্রুগড় প্রেস ক্লাব ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সংবাদপত্রের ইতিহাসে ডিব্রুগড়ের ভূমিকা সংরক্ষণ এবং শহরের প্রাচীন ঐতিহ্য পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এই সংগঠন অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।

উজনি অসমের অন্যতম সাংবাদিক সংগঠন বৃহত্তর ডিব্রুগড় প্রেস ক্লাবের স্থায়ী কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাতুল বুঢ়াগোহাঁইয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত ১১ বছরে ভারত বিশ্বমঞ্চে একটি শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। এই ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামুদ্রিক শক্তি হিসেবে ভারতকে পুনরায় বিশ্বশীর্ষে নিয়ে যেতে সরকার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যেসব দেশ সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জাহাজ নির্মাণের অবকাঠামো উন্নত করেছে, তারাই আজ বিশ্বশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।ডিব্রুগড় শহরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৮৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শহর ইতিমধ্যে ১৮৪ বছর অতিক্রম করেছে। একসময় ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে ডিব্রুগড়ের মোহনা ঘাট থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০টি জাহাজ চলাচল করত এবং এখানকার উৎপাদিত চা, তেল ও কয়লা বিশ্ববাজারে সমাদৃত হয়ে অসমের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছিল। তিনি মত প্রকাশ করেন যে বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের এই ইতিহাস গভীরভাবে অধ্যয়ন করা উচিত। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং তারা বিশ্বজয় করতে সক্ষম হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে প্রেস ক্লাবের স্থায়ী কার্যালয় ডিব্রুগড়ের ইতিহাস সংরক্ষণ ও পর্যটন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
৫০০০ বছর পূর্বের ভারতীয় সভ্যতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময়ে গুজরাটের লোথালে জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ হতো এবং ভারত সামুদ্রিক বাণিজ্যে বিশ্বে প্রথম স্থানে ছিল। সেই ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে লোথালে বিশ্বের বৃহত্তম ‘ন্যাশনাল মেরিটাইম কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের সামুদ্রিক ইতিহাস সংরক্ষিত হবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডিব্রুগড়ের বিধায়ক তথা শক্তি ও স্বাস্থ্য শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী প্রশান্ত ফুকন বলেন, সংবাদমাধ্যম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সুস্থ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রেখে নির্ভীকভাবে কাজ করা সংবাদকর্মীরা দেশের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি বলেন, প্রেস ক্লাবের নতুন কার্যালয় সম্পূর্ণ হলে সাংবাদিকদের কাজের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সুবিধা হবে এবং ভবিষ্যতেও তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট সমাজকর্মী, শিল্পোদ্যোগী ও দানবীর জ্যোতি প্রসাদ কানৈ বৃহত্তর ডিব্রুগড় প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য এককালীন ৫০ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদানের ঘোষণা করেন।অনুষ্ঠানে অনাতাঁৰ শিল্পী ভূবন গগৈয়ের পরিচালনায় এবং ড° চুমি ফুকনের নেতৃত্বে “তোরে মোরে আলোকৰে যাত্রা” শীর্ষক গান পরিবেশিত হয়ে উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে ।উল্লেখ্য, ডিব্রুগড়ের ডিকম থেকে খোৱাংলৈ পর্যন্ত কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত বৃহত্তর ডিব্রুগড় প্রেস ক্লাবের কার্যালয় এবং ডিব্রুগড় জেলা সাংবাদিক সংস্থার ভবন নির্মাণের জন্য সাংসদ তহবিল থেকে সর্বানন্দ সোনোয়াল ১০ লক্ষ টাকার অনুদান প্রদান করেছিলেন।অনুষ্ঠানে বৃহত্তর ডিব্রুগড় জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনজিৎ বরা, ডিব্রুগড় জেলা সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি বিপিন শর্মা, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজীব বরগোহাঁই, প্রাক্তন সম্পাদক রতন হাজরিকা, উপদেষ্টা ড° শশীকান্ত শইকীয়া, বীরেন বরুয়া, ‘অসম আদিত্য’ পত্রিকার মুখ্য সম্পাদক ড° নির্মল চাহেৱালা, ডিব্রুগড় পৌর নিগমের উপাধ্যক্ষ উজ্জ্বল ফুকন, সমাজকর্মী আত্মারাম বেমরিওয়াল, মটক স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের কার্যবাহী সদস্য দ্বীপজয় শইকীয়া, প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি বিভাস দুৱৰা, জেলা উন্নয়ন প্রাধিকরণের অভিযন্তা লক্ষ্মী বুঢ়াগোহাঁই, ডিব্রুগড় চেম্বার অব কমার্সের দীপক কেজরিওয়াল, সর্দার মালবিন্দর সিং, গুরুদ্বারের সভাপতি সর্দার জর্জপাল সিং, লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি সঞ্জয় জৈন, শ্বট পূজা কমিটির সভাপতি রামপত বর্মা, জৈন সমাজের সম্পাদক অমিত জৈন, জনগোষ্ঠীয় ঐক্য মঞ্চের সভাপতি রানা রঞ্জন গগৈ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য চন্দন ফুকন, জাতীয় যৌথ মঞ্চ অসমের আহ্বায়ক দিব্য গগৈ ও শরৎ হাজরিকা, ডিব্রুগড় সাহিত্য সভার সহকারী সম্পাদক মীনাক্ষী দাস বরুয়া, অসম সরকারের যুব লেখক বঁটা প্রাপক লেখিকা অর্পণা ফুকন দাস, সংগীতগুরু ড° চুমি ফুকন প্রমুখ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৃহত্তর ডিব্রুগড় প্রেস ক্লাবের প্রস্তাবিত ভবনে দুটি প্রেক্ষাগৃহ, আটটি অতিথি কক্ষ, একটি লাইব্রেরি, একটি কম্পিউটার রুম, ডিব্রুগড় জেলা সাংবাদিক সংস্থার কার্যালয়, প্রেস ক্লাবের নিজস্ব কার্যালয় এবং প্রায় দশটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকবে বলে সম্পাদক রাতুল বুঢ়াগোহাঁই জানান।

 

Related Articles

Back to top button