ভারত

ডিব্রুগড়ে কবি- নাট্যকার- পরিচালক রফিকুল হোসেনকে সর্বজনীন শ্রদ্ধাঞ্জলি :: বিভিন্নজনের স্মৃতিচারণ

প্ৰতিনিধি, ডিব্রুগড়, ১৬ ফেব্রুয়ারি:বিশিষ্ট কবি, নাট্যকার, নাট্যপরিচালক ও সাংস্কৃতিক কর্মী সদ্যপ্রয়াত রফিকুল হোসেনের প্রতি এক শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান ডিব্রুগড়ের লাহোৱাল বকুলস্থিত বান্ধৈ কৃষিপাম প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। ডিব্রুগড়ের বহু নাট্যকর্মী, অভিনেতা, নাট্যপরিচালক ও সাংস্কৃতিক কর্মী তথা রফিকুল হোসেনের অনুরাগীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বান্ধৈ কৃষিপামের প্রাঙ্গণে দুটি বকুল চারা রোপণের মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানে কবি-নাট্যকারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নাট্যকার-পরিচালক তথা চাবুয়া ডি ডি আর কলেজের অধ্যাপক ডঃ দিগন্ত দত্ত বলেন যে, রফিকুল হোসেন কখনও নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তিনি সর্বদা নিয়মনিষ্ঠ, অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিপাটি ছিলেন। নাটকে রঙের প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত সচেতন ছিলেন এবং কবিতায় শব্দচয়ন ও চিত্রকল্প নির্মাণে অনন্য ছিলেন। দত্ত আরও বলেন যে, নাটকে সৌন্দর্য সৃষ্টি, আলো ও রঙের প্রয়োগের প্রসঙ্গে রফিকদাকে বাদ দিয়ে ভাবাই যায় না। বিশিষ্ট নাট্যকর্মী জয়ন্ত দত্ত স্মৃতিচারণ করে বলেন— ‘নাটক মানে যে “টোটাল থিয়েটার” হওয়া উচিত, সেই বিষয়টি রফিকদার কাছ থেকেই শিখেছিলাম।’ মাইজানে ‘স্বপ্নের বৃন্দাবন’ পরিচালনার সময় তাঁর সঙ্গে তিন মাস কাটানোর স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, রফিকুল হোসেন ছিলেন মানুষকে ভালোবাসা শিল্পী এবং সহজেই সকলকে আপন করে নিতে পারতেন। রফিকুল হোসেনের পরিচালনায় ডিব্রুগড়ে মঞ্চস্থ ‘নীলা জোনের একরাত্রি’ নাটকের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করা নাট্যকার- অভিনেতা বিষ্ণু গোহাঁই বলেন— ‘রফিকদা অভিনয়ে সর্বদা পারফেকশন চাইতেন। নাটককে যে এত উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা তাঁর নাটকে অভিনয় করার আগে জানতাম না ‘। অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত রফিকুল হোসেনের সান্নিধ্যের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, তাঁর মৃত্যু অসমের নাট্যজগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, রফিকুল হোসেন যেরকম অভিনয় প্রত্যাশা করতেন, তেমন অভিনয় দিতে তিনি নিজে ব্যর্থ হয়েছিলেন কবি-অধ্যাপক ডঃ নিরোদ গোহাঁই বলেন, রফিকুল হোসেন প্রকৃত অর্থে নাটকের জন্য এক নিবেদিত প্রাণ এবং একজন আড্ডাপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। ‘শরবিদ্ধ আকাশ’ কাব্যগ্রন্থটি অসমীয়া কাব্য-সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, লোকসাহিত্যের শব্দকে নতুন আঙ্গিকে ব্যবহার করে তিনি অসমীয়া সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট চিত্র ও ভাস্কর্য শিল্পী দেবকৃষ্ণ বরুয়া, কবি বীরেন গগৈ, ‘সময়ের কবিতা’ কাব্যপত্রিকার সম্পাদক রমেশ শইকীয়া সান্নিধ্যের স্মৃতি স্মরণ করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী প্রার্থনা ধাদুমিয়া রফিকুল হোসেনের গান পরিবেশন করেন এবং ডাঃ কৌশিক বাস্যস তাঁর কবিতা আবৃত্তি করে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত করে তোলেন।চাবুয়ার নাট্যকর্মী মুকুট নেওগ, সরল দত্ত, নিবেদিতা লাহন, রাণু দত্ত, কবি উজ্জ্বল চক্রবর্তী, কপুল মৰাণ, সাংবাদিক ধরনী গগৈ, লাহোৱাল প্রেস ক্লাবের সম্পাদক দিবাকর দত্ত, সঞ্চিতা চৰাক, রাখি বকলিয়াল, কৃষিপাম সংগঠক দয়ানন্দ বরুয়া, রাহুল কর্মকারসহ বহু অনুরাগীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই শ্রদ্ধাঞ্জলি সভার সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, কবি-লেখক ও শ্রী শ্রী অনিরুদ্ধদেব জুনিয়র কলেজের অধ্যক্ষ ভূষণজ্যোতি সন্দিকৈ।
অনুষ্ঠানের শেষে বান্ধৈ কৃষিপামের পক্ষ থেকে আগত সকলকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সমাজকর্মী অর্পণা বড়াই।

Related Articles

Back to top button