জাতীয়

রামুতে ভোটমুখী হচ্ছেন সাধারণ মানুষ

এস. এম হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে কক্সবাজার-৩ আসনের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা রামুতে সন্ত্রাসবিরোধী কঠোর অভিযানে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন। রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে রামু থানা, গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ি ও ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের সমন্বিত অভিযানে সন্ত্রাসীরা এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়লেও রামু উপজেলায় ভোটারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটের উৎসবে অংশ নিতে আগ্রহ বাড়ছে সাধারণ মানুষের।
শতাধিক মোটরসাইকেল বহরে ব্যতিক্রমী মহড়া
বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনকে সামনে রেখে রামু থানার পুলিশ প্রশাসন প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেলের বিশাল বহর নিয়ে ব্যতিক্রমী মহড়া চালায়। এই মহড়ার মাধ্যমে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে দেওয়া হয়। মহড়াটি রামু উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ইউনিয়ন ও দুর্গম এলাকায় পরিচালিত হয়, যা স্থানীয়দের মাঝে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দেয়।
এ সময় ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জনতার উদ্দেশ্যে স্পষ্টভাবে বলেন, “রামু উপজেলায় সন্ত্রাসীদের কোনো ঠাঁই হবে না। নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ প্রশাসন কঠোর থেকে কঠোরতম অবস্থানে থাকবে।” দক্ষিণ মিঠাছড়িতে সাঁড়াশি অভিযান ২২ জানুয়ারি রামু থানা পুলিশের নেতৃত্বে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বাড়ি-ঘরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী বাহিনীর একাধিক আস্তানায় অভিযান চালিয়ে সেগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের এই আকস্মিক ও সমন্বিত অভিযানে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীরা এলাকা ছেড়ে পালাতে শুরু করেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
গর্জনিয়ায় চিরুনি অভিযান, অস্ত্রসহ ডাকাত সর্দার গ্রেপ্তার রামু উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদ গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছে চিরুনি অভিযান। গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (আইসি) শোভন কুমার সাহার নেতৃত্বে পরিচালিত এসব অভিযানের মূল লক্ষ্য—নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই যেন সন্ত্রাসীরা ভোটারদের মনে ভয় সৃষ্টি করতে না পারে।
ইতোমধ্যে গর্জনিয়ার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দারনী গ্রেপ্তার, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন পর গর্জনিয়ায় “শান্তির সুবাতাস” বইতে শুরু করেছে।
আইসি শোভন কুমার সাহা জানান, “নির্বাচন পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
ঈদগড়েও কঠোর অবস্থান একইভাবে ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে চালানো অভিযানে বেশ কয়েকজন কুখ্যাত অপরাধী আটক হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ। এসব অভিযানে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের নেতারা।
ভোটমুখী সাধারণ মানুষ টানা অভিযানের ফলে রামু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এখন নির্বাচনী পরিবেশ অনেকটাই স্বাভাবিক। বাজার, চা-দোকান ও গ্রামগঞ্জে ভোট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্য,
“আগে ভয় ছিল, এখন সাহস পাচ্ছি। নিরাপত্তা থাকলে আমরা ভোট দিতে যাব।”
উপসংহার সব মিলিয়ে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রামু উপজেলায় পুলিশ প্রশাসনের সক্রিয় ও দৃশ্যমান তৎপরতা সন্ত্রাসীদের কোণঠাসা করে ফেলেছে। নির্বাচনের মাঠে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলে রামু উপজেলায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর ভোটের প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।

Related Articles

Back to top button