
মাখদুম সামি কল্লোল: ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তামাক বিরোধী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।
রবিবার ২০ জানুয়ারি রাজধানীর বিএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত “তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ২০টি জেলার অবস্থা পর্যালোচনা ও করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, সরকার ও বেসরকারি উদ্যোগে তামাক নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হলেও বাস্তব প্রয়োগে ঘাটতি রয়ে গেছে। সভায় দ্রুত সংশোধিত অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করে কার্যকর প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়।
ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের যৌথভাবে প্রণীত “জেলাভিত্তিক রিপোর্ট কার্ড”-এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ জেলাতেই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। সিরাজগঞ্জ জেলার অবস্থা তুলনামূলক ভালো হলেও শেরপুর জেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। ৯টি জেলায় টাস্কফোর্স সভা নিয়মিত হয় না, ১৭টি জেলায় গত তিন মাসে কোনো জরিমানা করা হয়নি এবং ১৮টি জেলায় অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা নেই। এছাড়া ১০টি জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে।
সভায় বক্তারা জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় জোরদার, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত মনিটরিং, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।



