বাংলাদেশ

ঈদগড়ে অস্ত্র, গুলি সহ কারিগর গ্রেপ্তার; খুনিয়া পালংয়ে ইয়াবা,নগদ অর্থ সহ গ্রেপ্তার ২

এস. এম হুমায়ুন কবির, ব্যুরোচীফ, কক্সবাজার: কক্সবাজার জেলার ঈদগড় এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানা হিসেবে পরিচিত। বছরের পর বছর ধরে এখানকার সন্ত্রাসী চক্র নিজস্ব কারিগরের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরি করে আন্ডারগ্রাউন্ড অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের কাছে সরবরাহ করে আসছে। এমন তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরেও ছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া অস্ত্র কারিগর কালু চৌকিদারের গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেন। একপর্যায়ে ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে গত ১৭ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে রামু থানা পুলিশ ও ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে ঈদগড় ইউনিয়নের পানিস্যাঘোনা এলাকায় নুর মোহাম্মদ ওরফে কালু চৌকিদারের বসতঘরে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে ঘরের ভেতরে ধানের বস্তার মধ্যে লুকানো অবস্থায় ১০ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, ২ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ এবং ৩টি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়।
ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি নুর মোহাম্মদ ওরফে কালু চৌকিদার অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রেখেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, কালু চৌকিদার একজন দক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারিগর ও পেশাদার অস্ত্র ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত নুর মোহাম্মদ (৩৬) শহর আলীর ছেলে। তিনি ঈদগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পানিস্যাঘোনা এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে রামু থানা পুলিশের আরেকটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, আজ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকালে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমানের নির্দেশনায় এবং রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রামু থানাধীন খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ধেছুয়া পালং ঝুমকাটা গ্রামের আব্দুল মোনাফের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আসামি রফিকুল ইসলাম (২৬) ও আবদুল শুক্কুর (৩২)-এর হেফাজত থেকে ১৭০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রয়লব্ধ নগদ ২০ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি আব্দুল মোনাফ ও সেলিনা আকতারের সন্তান। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পেশার আড়ালে অবৈধ ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এ ঘটনায়ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানায়, অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

Related Articles

Back to top button