
নিজস্ব প্রতিবেদক : কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর কক্সবাজার এর উপ-পরিচালক বরাবরে গত ১০/১১/২০২৪ ইং তারিখ কচ্চপিয়া ইউনিয়নের কৃষকদের লিখিত অভিযোগের পর গত বছর (২০২৫ ইং সালে) রামু উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামকে কচ্চপিয়া থেকে বদলী করে পার্শবর্তী ইদগড় ইউনিয়নে দেয়া হয়। কিন্তু বছর না ঘুরতেই সে আবার কচ্চপিয়া গর্জনিয়া বদলী হতে যাচ্ছে এমন খবরে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশ্ন করেন কচ্চপিয়া গর্জনিয়া কি মধু আছে? বিতাড়িত হয়ে ও সে একই এলাকায় যেতে চায় কেন? তাহলে কি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক ছিল? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।
তার বিরুদ্ধে জেলার শীর্ষ ডাকাত, মায়নামারে বিভিন্ন পন্যপাচার ও গরু চোরাচালানকারী ডাকাত শাহিনের সাথে সার সহ বিভিন্ন কৃষিপন্য পাচার,
সহজ সরল কৃষকদের প্রণোদনার নামে নগদ টাকা গ্রহণ,আত্নীয় করন সহ বহুমুখি অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
খুচরা ডিলারদের সাথে সিন্ডিকেট করে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মায়ানমারে সার পাচার ছিল তার অন্যতম জঘন্য অপরাধ।
গত ১৩ বছর ধরে আওয়ামী লীগ এর ক্ষমতা ব্যবহার করে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে ১৩ বছর ধরে চাকরি।
পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নে তার বাড়ি হওয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদ সরকারের স্থানীয় এমপি কমল এর হাত ধরে তার চাকরি, তার আপন ভাইয়ের ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান তার ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন ১৩ বছর ধরে।
আলোচিত শীর্ষ ডাকাত, মায়নামারে বিভিন্ন পন্য পাচারকারী শাহীন এর চাচাতো বোন এর সাথে বিয়ে হওয়ায় পর থেকে ডাকাত শাহিনের সাথে মায়নামারে সার পাচারে নির্ভয়ে কাজ করে যায়, সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে মায়ানমার সার পাচার শুরু করে দীর্ঘ ১৩ বছর অনিয়ম করেছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান অভিযোগ হলো নিয়মিত মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেন না।
অনেক ক্ষেত্রে কৃষকরা তাদের চেনেন না এবং তারা ব্যক্তিগত কাজ বা ব্লক অফিসে না বসে অন্যত্র সময় কাটান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইতিপূর্বে বিএডিসি প্রকল্পে দুর্নীতি: রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শুকমনিয়া গ্রামে বিএডিসির খাল খনন ও পাইপ স্থাপনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে । স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব ছিল।
বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতাহীনতা: বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হলেও প্রকৃত কৃষকরা অনেক সময় তালিকা থেকে বাদ পড়েন বা সঠিক বরাদ্দ পান না বলে স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যারা কৃষি উপকরণ পায় টাকার বিনিময়ে তাদেরকে এ উপকরণ গুলো নিতে হয়।
এতশত অভিযোগের কারনে ও স্থানীয় কৃষকদের লিখিত অভিযোগের পর বিতাড়িত হয়ে আবার কচ্চপিয়া গর্জনিয়া এলাকায় বদলি হয়ে যাওয়ার খবর শুনে এলাকার কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি উপ সহকারী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাকে উর্ধতন অফিস দিছে আমি কাজ করতেছি। আমার বিরুদ্ধে ২/১ জন ব্যাবসায়ী ষড়যন্ত্র করছে, তবে সকল কৃষক আমাকে এখানে চায়, ১০/ ৫ দিন হলো কচ্চপিয়ায় কাজ শুরু করেছি। আপনি যা বলার উর্ধতন অফিসারকে বলেন।
এ বিষয়ে জানতে রামু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (চলিত দায়িত্ব) সুশান্ত দেব নাথ বলেন, তাকে বদলী করা হয়নি তার বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ায় তদন্তের স্বার্থে সাময়িক ভাবে তাকে ঈদগড় পাঠানো হয়েছিল, এখন তার অনিয়মের প্রমান পাইনি তাই আবার তাকে একই জায়গায় দেয়া হয়েছে। যেখানে হ্যাচিং হচ্ছে সেখানে আবার কেন দেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে, তিনি বলেন জনবল সংকট আছে তাই সমস্যা। একজন সরকারী চাকুরীজীবি কিভাবে একই জায়গায় ১২ বছর চাকরীতে রাখলেন এমন প্রশ্ন করলেও তিনি জনবল সংকটের কথা বলে বিজি আছে বলে ফোন কেটে দেন।



