বাংলাদেশ

বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা: আইনি প্রক্রিয়া ও তথ্যের সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন

মাখদুম সামি কল্লোল: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান জনাব মো. সলিম উল্লাহর বিদেশ গমনে আদালতের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার আদেশ নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করছে, এই নিষেধাজ্ঞার ভিত্তি হিসেবে যেসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত গুরুতর কোনো প্রমাণের ভিত্তিতে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কিন্তু জনাব সলিম উল্লাহর ক্ষেত্রে দুদকের অনুসন্ধান এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিবাদী পক্ষকে কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ বা সম্পদের হিসাব (Asset Declaration) দাখিলের আনুষ্ঠানিক সুযোগ না দিয়েই সরাসরি আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সলিম উল্লাহর যে সম্পদের কথা প্রচার করা হচ্ছে, তার সিংহভাগই উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। এছাড়া তাঁর মালিকানাধীন ফ্ল্যাটটির বিপরীতে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বোঝা রয়েছে। আয়কর নথিতে (Tax Return) এই ঋণের তথ্য ও পৈতৃক সম্পত্তির বিবরণ যথাযথভাবে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও সেগুলোকে ‘অবৈধ অর্জন’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাঁর পরিবার দাবি করেছে।

বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সংস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং ইজারা বন্টনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, “চেয়ারম্যান মহোদয়ের কঠোর অবস্থানের কারণে যারা অবৈধ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তারাই পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।”

জনাব মো. সলিম উল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
তিনি দেশের আইন মেনে তদন্তে সব ধরনের নথিপত্র দিয়ে সহায়তা করবেন।
বিদেশে পালানোর কোনো পরিকল্পনা বা কারণ তাঁর নেই, কারণ তিনি তাঁর কর্মজীবন ও পারিবারিক ঐতিহ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।
তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সামাজিক ও পেশাগতভাবে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

একটি স্বচ্ছ রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য দুর্নীতি দমন জরুরি, তবে তা যেন তথ্যগত বিভ্রান্তি বা ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর হাতিয়ার না হয়। সচেতন মহলের প্রত্যাশা, দুদক এবং আদালত উভয় পক্ষই বস্তুনিষ্ঠ নথিপত্র পর্যালোচনা করে একজন সৎ কর্মকর্তার সম্মান রক্ষা করবেন এবং প্রকৃত সত্য জনসমক্ষে নিয়ে আসবেন।

Related Articles

Back to top button