সোনা বউকে নিয়ে হানিফ রাজা’র দু’টি কবিতা

সোনা বউ শব্দটি যেভাবে এলো!
: বউ ও বউ শুনছো……..
: (রেগে গিয়ে). কে আপনার বউ। ভদ্রভাবে কথা বলবেন, উল্টা-পাল্টা বলবেন না। এখানে আপনার কোনো বউ থাকে না।
: প্লিজ ‘আমার সোনা বউ সরি..’
: বললাম তো ইচ্ছে হলে কথা বলবেন, না হয় বলবেননা.. তবে আবোল-তাবল বলবেন না।
: তাহলে তুমি কে?
: আমি শিমু.. শুধুই শিমু.. অনন্ত নামের কাউকে চিনি না। এতো মানুষের মধ্যে বউ বউ বলে চেচাচ্ছেন কেন? ..গরুর মত শব্দ করছেন সেটা জানেন না?
: হ্যাঁ.. জানিতো আর এই লক্ষী কালো মেয়েটাই আমার সোনা বউ। যে আমাকে পাগলের মত ভালোবাসে।
: আমি বউ তবে কারো বউ নই।
: আর ভুল হবে না, প্লিজ লক্ষীটি, কান ধরছি.. তোমার জন্যই আমি পাগল!
: আমি কাউকে কান ধরতে বলিনি, সরি বলতে বলিনি.. আজকের পর থেকে। কোনো কথা হবে না। আপনিও বলবেন না.. কে পাগল না ছাগল সেটা দেখার টাইম নাই..
: আচ্ছা.. ঠিক আছে . .তখন আমি কি করবো.,আমি কি মুখ বন্ধ রাখবো.?
: কোনো কথা হবে না, আমি কতক্ষণযাবত অপেক্ষা করছি আর আপনি ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছেন. একবার সকাল, আরেকবার বিকেল, পরে আবার আগামীকাল, এসব বলার মানে কি? কথা না রাখতে পারলে কথা দ্যান কেন? আমাকে এতো অবহেলা করছেন কেন? আমি অবহেলা সহ্য করতে পারিনা..(বাস্পরুদ্ধ কণ্ঠ)।
: জানি, এখন মিষ্টি মিষ্টি কথা বললেও তুমি রাগ করবে, এতে কোন লাভ হবে না, হয়তো অবশেষে আবার বলবে আমি এখন তোমার বোঝা হয়ে গেছি, তাই না? তাহলে আমাকে চলে যেতে দাও. । এসব কথা বললেই থাপড়্ইায়্যা বত্রিশটা দাঁত ফালাইয়া দিমু। তুমি এতো বদরাগী আর ফাজিল মেয়ে কেন? তাহলে যাও.. গুড বাই..

কিছুক্ষণ পর যুবকের দুঃখ ভারাক্রান্ত মুখ দেখে…
: এই… কি হলো? কোনো কথা বলছো না কেন..মুখ কালো করেছো কেন? আমিতো তোমারই বউ.. যখন তুমি না আসো ব্যস্ত থাকো, তখন মনে হয় তুমি আমাকে অবহেলা করছো, আমার কোনো মূল্যই নেই তোমার কাছে। জানো না আমি অবহেলা একদমই সহ্য করতে পারিনা, প্রচন্ড রাগ হয়, মনে হয় গলায় ফাঁস নিয়ে মরে যাই।
: আরে পাগলি আমাকে একটু সেক্রিফাইজ করো, তুমিতো জানো কত ব্যস্ত থাকে! আমিতো কোনোদিন তোমাকে অবহেলা করার কথা কল্পনাও করিনা. কারণ তুমি আমার সোনা বউ.. আমার জান… তোমাকে ছাড়া জীবন চলবে কিভাবে? কে আমাকে এতো ভালোবাসবে?
তারপর যুবতী যুবকের কাঁধে মাথা রাখলো..
ভালোবাসা আর মমত্ববোধ থেকেই সোনা বউ শব্দটি এলো।
=== //===
অভিমানি সোনা বউ..

: হ্যালো.. তুমি কই? এতো রাত হলো এখনও বাসায় ফিরোনি কেন?
: গাড়ীতে করে বাসায় ফিরছি, তুমি কি করো?
: শুয়ে আছি আর তোমাকেই ভাবছি। এতো রাত করলে কেন?
: অফিস থেকে বের হয়ে কয়েকজনের সাথে দেখা করে কথা বললাম তাই বাসায় ফিরতে দেরী হচ্ছে।
: কার সাথে? তোমার কোনো গার্লফ্রেন্ডের সাথে নাকি?
: এক সাথে কি অনেক গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা করা যায়? আমার গার্লফ্রেন্ডতো একজনই, যাকে আমি সোনা বউ বলে ডাকি।
: যেভাবে তুমি সারাদিন ব্যস্ততা দেখাও তাতে আমার সন্দেহ হয়, গার্লফ্রেন্ড বানিয়ে তার সাথেই সময় কাটাচ্ছো।
: (রেগে গিয়ে) তোমার মাথা ঠিক আছেতো? নাকি ডাক্তার দেখাতে হবে। সারাদিন যেভাবে আমাকে সারাদিন ফোনের পর ফোন দাও, তাতে কাজ বাদ দিয়ে তোমার ফোনই রিসিভ করতে হয়। তার উপর গার্লফ্রেন্ড! এতো সময় বা টাকা আমার নেই।
: রাগ করছো কেন? এইযে ধরা পড়ে গেছো, নিশ্চয়ই গার্লফ্রেন্ড আছে, তানা হলে এতো রেগে যেতে না। যখন ফোন ধরো না তখন তোমার উপর অভিমান করে ভাবি ওর সাথে আর কথাই বলবো না, কিন্তু তা পারি না..
: রাগ করলে তাই মনে হয়? রাখো, ফোন রাখো। আর কল দিও না,
কিছুক্ষণ পর যুবতী যুবকটির ফোনে কল দেয়..
: হ্যালো.. আবার কল দিয়েছো কেন? বাসার কাছাকাছি এসে পড়েছি। রাখো।
: তোমাকে আমি সব সময় ভাবিতো, অনেক ভালোবাসি! তুমি ফোন না ধরলে, দেরী করে বাসায় ফিরলে মনে হয় অন্য কোনো নারীর সাথে সময় কাটাচ্ছো। কি কারণে এমন হয় তা বুঝতে পারি না। মাঝে মাঝে তোমাকে নিয়ে আমার অনেক টেনশন হয়। আমি তোমাকে অনেক জ্বালাই তাই না? তুমিও একটা মানুষ বটে, মাঝে মাঝে অবাক হয়ে ভাবি তুমি আমাকে এতো সহ্য করো কিভাবে?
: আমার সব কিছু দিয়ে তোমাকে ভালোবাসি, আমাকে নিয়ে তোমার এতো টেনশনের পেছনের কারণ তুমি আমাকে পাগলের মত ভালোবাসো। গাড়ী থেকে নামছি, এবার ফোনটা রাখো.. বাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *