রাজধানী

শহরের প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্য নিদিষ্ট কোন পার্কের ব্যবস্থা নেই

জিয়াউদ্দীন চৌধুরী (জেড সেলিম), বিশেষ প্রতিনিধি টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা :তানভীন সুইটি (মডেল,অভিনেত্রী) পার্ক চাই না।: প্রেমিক-প্রেমিকাদের নির্দিষ্ট পার্কের মধ্যে আদৌ আটকে রাখা যাবে কি? দেখা যাবে, পার্ক শূন্য, ওরা সেই-ই ভবঘুরে। তার চেয়ে বরং জনগণের স্থান, জনগণের মধ্যেই যুগল স¤প্রদায় থাকুক। ধরা পড়বার ভয়টুকু তো থাকবে। বিনা খরচায় জায়গাগুলো তো বৃন্দাবন, সেই বৃন্দাবনের জনপ্রিয়তার সামনে সাজানো গোছানো পার্ক টিকতে পারবে না। লাভারস পার্ক হলে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে। প্রণয়যুগল ছাড়াও প্রণয় দেখবার লোকের ভিড় নেহাত কম হবে না। এর চেয়ে বরং ওরা বলুক পার্ক চাই না, এই বেশ ভাল আছি।

সাবনাজ সাদিয়া ইমি (মডেল,কোরিওগ্রাফার)পার্কের প্রয়োজন অবান্তর :প্রেমের জন্যে নির্দিষ্ট পার্ক থাকা প্রশ্নের উৎপত্তি তাঁদের নিরাপত্তা এবং নির্জনতার প্রশ্ন থেকে। প্রেমিক-প্রেমিকাদের (বৈধ এবং অবৈধ) নির্জন বিচরণভূমির জন্যে যে বিশাল নন্দনকানন প্রয়োজন তা একেবারেই অসম্ভব। প্রেমপার্কে প্রবেশের জন্যে ওয়েটিং লিস্টে নাম রাখতে হলে প্রেমের মাধুর্য থাকবে কি? সত্যি বলতে কি, যাঁরা পারিপার্শ্বিক চাপে জীবন থেকে প্রেমকে বিদায় দিয়েছেন তারাও কিন্তু সাধারণ পার্কে এমন প্রেমপর্ব দেখলে নিজেদের জীবনেও আবার প্রেমের তাগিদ অনুভব করেন। আর প্রেমিক-প্রেমিকাহীন পার্ক কেবল মর্নিং ওয়কার/ইভিনিং ওয়কার এবং বৈষয়িক লোকদের দাপটে নিঃসন্দেহে তার লাবণ্য হারাবে। সব প্রেমিক একসঙ্গে প্রেমপার্কে ছুটলে নিজেদের মধ্যেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা স্বপ্নভঙ্গের বিড়ম্বনায় পড়বেন। তাই প্রেমিক-প্রেমিকার আলাদা পার্কের প্রয়োজন অবান্তর। প্রয়োজন শুধু একপক্ষের উদার মানসিকতা অন্যপক্ষের শালীনতাবোধ।

হাফছা এ্যানি(মডেল) অস্বাভাবিক কিছু নেই : প্রেম মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম। প্রেমিক-প্রেমিকারা পার্কে বসে প্রেম করবেন, এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। বসে থাকা নিরপরাধী প্রেমিক-প্রেমিকার উপর পুলিশের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন অনেক দেখেছি। কাগজেও প্রায়ই এমন খবর প্রকাশিত হয়।এই শহরে তাঁদের নিরিবিলিতে দু দণ্ড কাটাবার জায়গা নেই। লুকিয়ে চুরিয়ে প্রেম করতে হবে ছেলেমেয়েদের।ভয় যদি কেউ দেখে ফেলে বা কারোর বিরক্তির কারণ হয়। বাচ্চার হাত ধরে অপ্রস্তুত বাবা-মা পালাতে পারলে বাঁচেন। রুচিবোধ সকলের সমান নয়।

রুমানা সরণা(অভনেএী )-আলাদা ব্যবস্থা করা উচিত ::বিদেশে যেমন প্রেমিক-যুগল অনায়াসে রাস্তায়, পার্কে, রেস্তরাঁয় বসে গল্প করে, ঘুরে বেড়ায় সেই রকম অনায়াসলভ্য সুযোগ-সুবিধা আমাদের দেশে নেই এবং অদূর ভবিষ্যতে হবেও না। তার কারণ, আমাদের সমাজ প্রেমজ বিবাহ মেনে নিচ্ছে বটে, কিন্তু অনাবিল প্রেম করার স্বাধীনতা এখনও সহজসাধ্য নয়। তাই প্রেমিক-যুগলকে একটু আড়াল-আবডাল খুঁজতে হয়, একটু খরচ করে দূরে গিয়ে, অর্থাৎ পরিচিত গণ্ডি পার হয়ে ঘোরাফেরা করতে হয়। তা সত্তে¡ও গুণ্ডাশ্রেণি এবং অনেক সময়ে পুলিশ প্রেমিক-যুগলদের ওপর হামলা করে। এই হামলার প্রত্যুত্তর দেওয়ার মতো মানসিক অবস্থা এদের থাকে না। কিন্তু সুস্থ সমাজে প্রেম করার স্বাধীনতা দাবি করা অন্যায় কিছু নয়। তাই কেবল প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্যে যদি নির্দিষ্ট পার্ক থাকে, তা হলে তারা সেখানে স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা, গল্পগুজব করতে পারে। পার্কে নিশ্চয়ই পাহারার বন্দোবস্ত থাকবে।

শরমীলা বিশ্বাস(মডেল)পার্ক অপ্রয়োজনীয় : দ্রুতগতি সমাজ ব্যবস্থায় প্রেম করার সময় কোথায়? মোবাইল, ইন্টারনেট, কফি হাউস, কলেজের কমনরুম কিংবা সিনেমা হল থাকতে পার্ক অপ্রয়োজনীয়। তা ছাড়া শহরের একটি-দুটি নির্দিষ্ট জায়গায় পার্ক থাকলে সেখানে সকলের যাওয়ার সুযোগ ও সময় থাকে না। দেখা যায় এই পার্কে প্রেমের বদলে চলছে হকারি ও সমাজবিরোধীদের অপকর্ম। প্রেমের নামে একবার পার্ক চালু হলে সাধারণ কৌতুহলী মানুষের কাছে তা দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠবে। প্রেমের জায়গা ভরবে ব্যভিচারিতায়। প্রেম পবিত্র মনের ভালবাসার বন্ধন, তার রোমাঞ্চ ও রহস্যময়তা থাকবেই। তাকে পার্কের সীমানায় বেঁধে দেওয়া অসম্ভব। এ ছাড়া প্রেমে অনিচ্ছুক অভিভাবকদের রোষের শিকার হবে এই পার্ক।

Inline image

মোস্তফা হাসান জায়েদ(গায়ক,ডেন্টিষ্ট) থাকাটাই বাঞ্ছনীয় : প্রবচন বলে Half maked is dangerous than full maked’ যুবক-যুবতীর প্রেম নিবেদন সমাজের কোনও গর্হিত কাজে নিয়োজিত করা নয়। প্রেম মানে ব্যভিচার নয়। প্রেম চিরকালই ঋতুবসন্তের অভিরুচি। রাধাকৃষ্ণের প্রেম রাসলীলা নামে আজও সমাজে সমাদৃত। নিষেধের মধ্যে প্রেম বিনিময়ে একটা অপরাধ বোধের ইঙ্গিত দেয়। প্রেমিক-প্রেমিকার বন্ধনকে করে শিথিল। এ ছাড়াও একের প্রেম অন্যের চোখে অর্বাচীনের মাত্রা পায়, যদি তা নিষেধের বাতাবরণে পুষ্ট হয়। সমাজগতভাবে ভালবাসার জন্যে কেবলমাত্র প্রেমিক-প্রেমিকার নির্দিষ্ট পার্ক থাকা বাঞ্ছনীয়।

অরণব(মডেল) নির্দিষ্ট পার্ক থাকাই উচিত :রাধাকৃষ্ণের সময় থেকেই প্রেমের সূচনা। প্রেম হল নারী ও পুরুষের জীবনের একান্ত ব্যক্তিগত দিক। দুটি হৃদয়ের মধ্যে ভালবাসার বিনিময়, আর এই প্রেম কখনওই দেহনিরপেক্ষ নয়। আমাদের সমাজ যতই আধুনিক হোক না কেন আজও শহরের মানুষরা প্রেমিক-প্রেমিকার পাশাপাশি বসা, হাতে হাত রেখে গল্প করা এবং প্রকাশ্য চুম্বন দৃশ্য দেখতে অনভ্যস্ত, সেই জন্যে তাদের বাঁকা দৃষ্টি, বিদ্রুপাত্মক হাসি ও কটু মন্তব্যে প্রেমালাপের রোম্যান্টিক মুহূর্তে যেমন বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তেমনই প্রেমিক-প্রেমিকারাও লজ্জিত, শঙ্কিত ও অপমাণিত বোধ করে। এ ছাড়া আজও কিছু রক্ষণশীল পরিবারে প্রেম অপরাধ হিসাবে গণ্য হওয়ায় এবং প্রেম করা নিষিদ্ধ থাকায় ওই সব পরিবারের ছেলেমেয়েরা তাদের মনের মানুষকে প্রেম নিবেদন করার সাহসটুকুও সঞ্চার করতে পারে না। খেয়াল রাখতে হবে, ওই সব পার্কে যেন কেবলমাত্র প্রেমিক-প্রেমিকারাই প্রবেশাধিকার পায়।

মেহেদী ইকবাল ইভান(মডেল) স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে দেওয়া উচিত :নিশ্চয়, প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্যে শহরে একটা নির্দিষ্ট কেন্দ্রস্থল বা পার্ক থাকা উচিত। কারণ পার্ক শুধু কৈশোরের প্রেম বা যৌবনের কেন্দ্রস্থল নয়, পার্ক শৈশরের জড়তা কাটাতে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করে। সেখানে অনেক শিশু তার মা-বাবার সঙ্গে এসে খেলাধুলো করে, অনেক প্রবীণ তাদের বার্ধক্যের অবসর সময়টুকু খেলা-রাজনীতি ও নানা দেশ-বিদেশের গল্পের মধ্যে দিয়ে কাটাতে পার্কে আসে। কিন্তু সেখানে যদি কোনও প্রেমিক-প্রেমিকা এসে গল্প করে, বা এমন কিছু অশালীন অবস্থার সৃষ্টি করে তাতে সকলেরই রীতিমত লজ্জার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু এই প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্যে যদি আলাদা স্থান থাকে তা হলে তারাও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারবে ।

রায়হান সুলতান রিজভী (মডেল)::কথা হল, এঁরা যাবেন কোথায়? সবাই ‘প্লুটোনিক লাভে’বিশ্বাসী হয়ে সব সময় সামাজিক শালীনতা বজায় রেখে চলবেন, এতটা আশা না করাই ভাল।তাই কেবলমাত্র প্রেমিক-প্রেমিকার জন্যেই শহরে নির্দিষ্ট কয়েকটি পার্ক থাকা দরকার।

আবু নাঈম, বাংলার মেলা (ডিজাইনার) ছায়া সুনিবিড় প্রেমোদ্যান চাই : একটু হাতে হাত রাখা, মুচকি হাসি, হৃদয়ের উষ্ণ ছোঁয়া, স্বপ্নের জাল বোনা, মুগ্ধতার আবেশে বিভোর হয়ে একান্তে হারিয়ে যাওয়া প্রেমের এই স্বাচ্ছন্দতায় বৃক্ষশোভিত শ্তা পরিবেশই মানানসই। আমাদের বর্তমান উন্নত ব্যস্ত জীবনে প্রতি পদে নানা সমস্যা আর টেনশনের ঘনঘটা। ফলে মানসিক অস্থিরতায় প্রায়শই আমরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ি। এমতাবস্থায় প্রেমের স্নিগ্ধ পরশই মনের অস্থিরতা কাটিয়ে মনে প্রশান্তি এনে দিতে পারে। আজকাল শহরের ব্যস্ত পরিবেশে মনের সুখে প্রেমের আলাপচারিতা মোটেই সুখপ্রদ নয়। প্রেমিকযুগলের প্রতি কিছু অবাঞ্ছিত যুবকের অশালীন মন্তব্য প্রায়শই বর্ষিত হয়। শান্তিরক্ষকদের (পুলিশ) অহেতুক অনুশাসনের মুখে পড়ে কখনও কখনও নাস্তানাবুদ হতে হয় প্রেমিক-প্রেমিকাদের। তাই প্রেমিক-প্রেমিকাদের নিশ্চিন্ত প্রেমালাপের জন্যে অবশ্যই শহরে বৃক্ষশোভিত ছায়া সুনিবিড় প্রেমোদ্যান চাই।

তৌহিদ চৌধূরী(ডিরেক্টর ইজি ফ্যাশন লি:কোরিওগ্রাফার)সভ্যতা ও সংস্কৃতির পরিপন্থী : পার্ক হল বিনোদনের জায়গা। এই নগরোদ্যান আবালবৃদ্ধবনিতার আমোদ-প্রমোদের কেন্দ্রস্থল। কিন্তু শুধুমাত্র প্রেমিক-প্রেমিকার জন্যে নির্দিষ্ট পার্ক এবং অবাধ বিচরণের সুযোগ করে দেওয়ার অর্থই হল ওদের প্রেম করাকে উসকে দেওয়া। এমনিতেই বর্তমান প্রজন্ম একটু বেশিমাত্রায় উচ্ছৃঙ্খল ও বাবা-মায়ের অবাধ্য। ভাললাগা আর ভালবাসা যে এক নয়, তা এই অপরিণত বয়সে স্থির সিদ্ধান্তে আসা অসম্ভব। অপরপক্ষে ভালবাসার মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পাশাপাশি যৌন আবেদন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। এই স্বাধীন ইচ্ছাকে ঠেকানো খুবই মুশকিল যা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। তা ছাড়া, নির্দিষ্ট পার্কে বহু প্রেমিক-প্রেমিকার অবাধ আনাগোনার ফলে এক যুগলের সঙ্গে অন্য যুগলের রেষারেষির সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অতএব সব দিক বিবেচনা করে কেবলমাত্র প্রেমিক-প্রেমিকার জন্যেই নির্দিষ্ট পার্ক থাকা উচিত নয়, যা কিনা আমাদের – সভ্যতর ও সংস্কৃতির পরিপন্থী।

সৌমিক দাস,(রং বাংলাদেশ )রোম্যান্টিক প্রস্তাব, কিন্তু : প্রস্তাবটা রোম্যান্টিক। কিন্তু বাস্তবে বাধা প্রচুর। শহর কংক্রিটের জঙ্গল। সবুজের সমাধি ঘটেছে। সব বয়সের মানুষের হাঁফ ছাড়ার, গল্পগুজব করার, হুড়োহুড়িতে মাতার পার্ক গোনাগুনতি। এর মধ্যে প্রেমিক-প্রেমিকাদের নির্দিষ্ট পার্ক! না হয় হবে। কিন্তু কতটা জায়গা জুড়ে? কটা? তাদের সংখ্যা তো ক্রমবর্ধমান। ভিড়ের চোটে অদলবদল হতে কতক্ষণ। আরও শতেক কাণ্ডকারখানা। কারা সামলাবে? ছেলে পুলিশ? মেয়ে পুলিশ? না নপুংসকদের ডাকতে হবে? ছাড়েন–না ও সব বায়না।

ট্যাগ সমূহ
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

mersin escort mut escort mersin escort canlı tv izle konya escort