আন্তর্জাতিক

রায় শুনে খুশি গাম্বিয়া, স্তব্ধ সু চি

টাইমস ২৪ ডটনেট, আন্তর্জাতিক ডেস্কা: জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) বলেছেন, গাম্বিয়ার করা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতকে অসহযোগিতা করেছে। ২০১৭ সালে রাখাইনে বেসমারিক নিরাপত্তায় ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমার। জেনোসাইড কনভেনশন অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্র বিচারের ঊর্ধ্বে নয়। এক রাষ্ট্র আরেক রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) নেদারল্যান্ডসের হেগে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) রায় পড়া শুরু করেন আদালতের প্রেসিডেন্ট আব্দুল কাওয়াই আহমেদ ইউসুফ। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে রায় ঘোষণার সময় নেদারল্যান্ডস এর হেগে আন্তর্জাতিক আদালত এ সব পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত বলেন, ‘রোহিঙ্গা গণহত্যার দায় কোনোভাবেই মিয়ানমার এড়াতে পারে না।’
আন্তর্জাতিক আদালত বলেন, ‘রাখাইনের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সম্পর্ক বহুবছরের। কিন্তু সেখানে সেনাবাহিনী দ্বারা জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এই অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক আদালতের রয়েছে।’এই রায়ে মিয়ানমারের আপত্তি অগ্রাহ্য করে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা চলবে বলেও জানিয়েছে আদালত। পঠিত রায়ে বিচারকরা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমার সরকার। গণহত্যার দায় এরাতে পারে না তারা। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। আইসিজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। রায় ঘোষণা করতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগবে বলে খবরে জানানো হয়।
এদিকে, আন্তর্জাতিক আদালতের রায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যাওয়ায় খুশি গাম্বিয়া। অন্যদিকে এই রায়ে স্বাভাবিকভাবেই সঙ্কটে পড়েছে মিয়ানমার। যদিও কোনো পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলার শুনানি শুরু হয়, যা চলে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৩ দিনের ওই শুনানিতে উভয় পক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে।
তখন সু চি দাবি করেন, রাখাইন রাজ্যে পুলিশ পোস্টে হামলাকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘর্ষ শুরু হয়। ফলে বিশাল সংখ্যক রোহিঙ্গা ওই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। আর এ বিষয়টিকে কোনোভাবেই গণহত্যা মানতে রাজি নন সু চি।
জাতিসংঘের আদালতে বিচারকদের উদ্দেশে সু চি বলেন, রাখাইনে সেনা অভিযানে যা ঘটেছে, তা গণহত্যার সংজ্ঞার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যে কারণে জাতিসংঘের আদালতে গাম্বিয়ার করা মামলা কেবলই ভুল দিককে নির্দেশ করছে। সু চি রাখাইন পরিস্থিতিকে ‘জটিল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ‘দুর্ভোগের’ বিষয়টি স্বীকার করে জানান, রাখাইন রাজ্যের অনেকেই সুরক্ষার জন্য পাশের দেশ বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। রাখাইন রাজ্যে ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানকে বার বার ‘অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন মিয়ানমারের এই নেতা। এ সময় তিনি বলেন, মিয়ানমারের সামরিকবাহিনী স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার জবাব দিচ্ছিল।
শুনানিতে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানায় গাম্বিয়া। এ সময় স্তব্ধ হয়ে বসে ছিলেন মিয়ানমারের প্রতিনিধি অং সান সু চি। গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবুবাকার তাম্বাদৌ আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, মিয়ানমারকে এ রকম নির্দয় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে বলুন। তাদের বর্বরতা বন্ধ করতে বলুন, যা আমাদের সবার বিবেককে নাড়া দিচ্ছে। মিয়ানমারকে তাদের নিজেদের লোকদের ওপর গণহত্যা চালানো বন্ধ করতে বলুন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিশাল সামরিক অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। এতে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা ওই রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মূলত এই অভিযান নিয়েই ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক আদালতের শুনানি চলবে।

ট্যাগ সমূহ
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

mersin escort mut escort mersin escort canlı tv izle konya escort