সাক্ষাৎকার

রক্ষণশীলতার নামে থামতে মানা: শাম্মী তুলতুল

তরুণ সাহিত্যিক শাম্মী তুলতুলের সাক্ষাৎকার

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: শাম্মী তুলতুল এ প্রজন্মের একজন তরুণ সাহিত্যসেবী। সাহিত্য সাধনায় আত্মনিয়োগ করে ইতিমধ্যে ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। এবারের একুশে বইমেলায় এসেছে তার সাইন্স ফিকশন ধর্মী নতুন বই ‘ভূত যখন বিজ্ঞানী।’ শিশু-কিশোরদের জন্য তার ৮ম বই এটি। বইটিতে ১২টি গল্প রয়েছে। গল্পগুলো মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষামূলক ও হাস্যরসাত্মক। বইটি প্রকাশিত হয়েছে প্রতিভা প্রকাশ থেকে। প্রকাশক মঈন মুরসালিন। প্রচ্ছদ করেছেন, নিসা মাহজাবিন। বইটির দাম রাখা হয়েছে ১৩৫ টাকা। পাওয়া যাচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্যাভিলিয়নের ২০৪-২০৬ নম্বর স্টলে।
একটি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, মুক্তিযোদ্ধা ও অভিজাত পরিবারে শাম্মী তুলতুলের জন্ম। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করে যাচ্ছেন নিয়মিত।কথা হয় সময়ের এই জনপ্রিয় তরুণ এই লেখকের সাথে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আমাদের প্রদায়ক আর. মাহমুদ।

১/একুশে বইমেলায় এবার কয়টি বই এসেছে আপনার?
: একুশে বই মেলায় একটি বই আসছে এবার। ছোটোদের গল্পগ্রন্থ।

২/লেখালেখির শুরুটা কীভাবে হলো?
: শৈশব থেকেই আমার খেলাধুলা, গান আবৃত্তি এসবে ঝোঁক ছিল প্রবল। প্রায়ই এসব ক্ষেত্রে আমি পুরস্কার পেতাম। আর প্রথম স্বরচিত ছড়া পাঠ করে পুরস্কার পাই ক্লাস ওয়ানে থাকতেই। এরপর দাদাকে আর নানিকে দেখেছি লেখালেখি করতে। তাদের দেখে আগ্রহটা আরো বেড়ে যায়। আর পরিবারটা যেহেতু সাহিত্য-সংস্কৃতিমনা ছিল তাই সুযোগটা নিজ চেষ্টায় কাজে লাগিয়েছি। ইচ্ছাটাই আসল বলতে পারেন।

৩/ লেখালেখির পথে কোনো বাধা-বিপত্তি এসেছে?
: প্রতিটা মহৎকাজে বাধা বিপত্তি থাকেই।ছেলে হোক কিংবা মেয়ে হোক। পরিবার যেহেতু রক্ষণশীল ছিল কিছুটা বিঘœ ঘটেছিল। তবে সেটা ছিল নিজেকে নিরাপদ রেখে সব কাজ করার বিষয়টি নিয়েই। তার জন্য রক্ষণশীলতা মানে এই নয় যে নিজের প্রতিভাকে থামিয়ে দেওয়া। আমার পরিবার এক্ষেত্রে আমার নিরাপত্তার কথাই ভাবতো বেশি।

৪/একজন লেখক হিসেবে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
: লেখক হিসেবে নিজেকে সমাজের সব অগ্রযাত্রার সহযোগী হিসবে দেখতে চাই।
৫/লেখালেখিকে কি পেশা হিসেবে নেয়ার ইচ্ছে আছে?
: নিজেকে একজন লেখক হিসেবেই প্রতিষ্ঠা করতে চাই। একজন ভালো লেখক হতে চাই মানুষ যার লেখালেখির মধ্যে নিজ সমাজের সামগ্রিক প্রতিচ্ছবি দেখতে পাবে তেমন সৃজনশীলতার জন্যই কাজ করে যেতে চাই। আপাতত এই আমার ভাবনা।

৬/একজন নারী নয়, মানুষ হিসেবে সাহিত্যকে কোথায় নিয়ে যেতে চান?
: মানুষ হিসেবে সাহিত্যকে সকল মানুষের ভালোবাসা, আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না, দু:খ-সুখের সঠিক প্রতিচ্ছবি করে গড়তে চাই। আমার চিরায়ত সমাজ জীবনের উপজীব্য করে তুলতে চাই।

৭/শিশুসাহিত্য নাকি অন্য, সাহিত্যের কোন শাখাটিকে প্রাধান্য দিবেন?
: শিশুসাহিত্যকে আমি অবশ্যই প্রাধান্য দিবো এবং দিচ্ছি। তার পাশাপাশি আমি উপন্যাস রচনার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।

৮/পড়াশোনা এবং পারিবারিক জীবন সম্পর্কে বলুন-
: এলএলবি পড়ছি। বাবা মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী। আমার মা ছিলেন গ্র্যাজুয়েশন করা একজন রাজনীতিবিদ এবং সমাজসেবক। তিনি আবার বিখ্যাত দৌলত কবির বংশধরও ছিলেন। আর আমার ছোট বোনও একজন লেখক তানজিন তিপিয়া। সে রান্না বিষয়ে লেখালেখি করছে।

৯/আপনার লেখালেখির মূল উপাদান কী? কল্পনা ও বাস্তবতা কোনটা নিয়ে লিখতে বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
: লেখালেখির মূল উপাদান কল্পনা-বাস্তবতা দুটোই। দুটোর মধ্যেই অজস্র উপাদান আছে। একটি আরেকটির পরিপূরক।

১০/কোন লেখকের লেখা আপনাকে টানে বেশি?
: চির বিদ্রোহের কবি নজরুল আর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ তো আছেনই। এছাড়া বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, জহির রায়হান। এদের লেখাই আমাকে টানে বেশি। তবে নিজস্বতা দিয়ে লেখার চেষ্টা করি।হবে। নিজের মাথায় যা আছে সেগুলো আগে উপস্থাপন করতে হবে। কারণ মানুষ নিজস্ব মেধা মনন নিয়েই জন্মে।

১১/সাহিত্যচর্চাকে বেগবান করার জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে? থাকলে সেটা কী?
: এখনও সেভাবে ভাবিনি। অনবরত সাহিত্য চর্চা করে যেতে চাই।

১২/সাহিত্যচর্চায় সংগঠন কোনো প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন কি?
: আমার মনে হয় সাহিত্য চর্চায় সংগঠন তেমন একটা প্রভাব ফেলে না। যখন কেউ এগিয়ে যায় নিজ স্ট্র্যাগল করে নিজ উদ্যোগে, তখন সংগঠনগুলো এগিয়ে আসে। কোনো সংগঠন যদি স্বজনপ্রীতি না করে একজন ভালো লেখকের সাহিত্যকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রকৃতপক্ষে প্রচার, প্রসারে দাঁড়াত তাহলে লেখকরা তাদের সঠিক সময়ে সন্মান পেত এবং মানুষ বুঝতে পারত ভালো ভালো লেখক কারা। কিছু কিছু লেখকের শেষ সময়ে বিভিন্ন সংগঠন থেকে স্বীকৃতি-সম্মাননা পেয়ে থাকেন কিন্তু এটা অনেক দেরি হয়ে যায়।

১৩/যারা লেখালেখিতে আসতে চান তাদের উদ্দেশে কিছু বলবেন?
:যারা লেখালেখিতে আসতে চান তাদের বলতে চাই লেখালেখি ধৈর্য্যরে ব্যাপার। অনেককে আমি দেখি পত্রিকায় লেখা না ছাপালে একবারেই হাল ছেড়ে দেন। এক্ষেত্রে প্রচুর খাটতে হবে। লেগে থাকতে হবে। আর প্রচুর বই পড়তে হবে। বেছে বেছে পড়া উচিত। নিজের পছন্দের লেখকের বই রুটিন করে পড়তে হবে।

১৪/টাকা দিয়ে পুরস্কার-পদক নেয়া সম্পর্কে কিছু বলুন? একজন লেখককে পুরস্কারের পেছনে ছোটা উচিত নাকি পুরস্কারকেই লেখকের পেছনে ছোটা উচিত বলেন মনে করেন?
: টাকা দিয়ে পুরস্কার যেই নেন না কেন, আমি মনে করি তিনি নিজের কাছে ঠিকই ছোট হয়ে থাকেন। পুরস্কার কখনো কাঙ্খিত লক্ষ্য হতে পারে না একজন লেখকের। কেউ পুরস্কারের কথা ভেবে তার কাজের শুরুটা করে না। তবে যদি স্বজনপ্রীতি বা অসদুপায় ছাড়া কেউ যোগ্যতার ভিত্তিতে পুরস্কার পায় এটা অবশ্যই অনুপ্রেরণাদায়ী।

১৫/একজন কবি-সাহিত্যিক তথা লেখক হতে গেলে একটা জীবন উৎসর্গ করতে হয় এ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?
: যে যেই কাজ করুক না কেন, তাকে তার সেই কাজের জন্যই নিবেদিত প্রাণ হতে হবে। কাজের সাধনায় মন-প্রাণ ঢেলে দিতে হয়। এটি শুধু সাহিত্যের ক্ষেত্রে নয়। মানুষ সকল কাজকে ভালোবেসেই জীবন উৎসর্গ করে। নয়তো সফলতা কোনোদিন ধরা দেয় না।

১৬/আপনি শিশু সাহিত্য নিয়ে কাজ করেন, প্রতিভা বিকশিত করার জন্য কি শিশুদের লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটে?
: মোটেও না । পরিবারের সবচেয়ে ফাকিবাজ একটি মেয়ে ছিলাম আমি।কিন্তু আজ আমি দেশ সেরা কলেজের ছাত্রী। ইচ্ছাশক্তি থাকলে দুদিকেই ব্যাল্যান্স করা সম্ভব। তবে হ্যাঁ পারিবারিক সহযোগিতা অবশ্যই দরকার হবে।তা না হলে শিশু কখনোই তার মেধা সব দিকে কাজে লাগাতে পারবে না।

১৭/আপনাকে সবাই ফ্যাশন সচেতন বলেন এই সম্পর্কে কিছু বলুন?
: আমি আমার দেশকে সব দিক থেকে ভালোবাসি।আমি চেষ্টা করি আমার দেশীয় পণ্য বা জামা কাপড় পরিধান করতে।তার মধ্যে জামদানী কাপড় অন্যতম।আমাদের পরিবার যুগ যুগ ধরে পরিধান করে আসছেন এই কাপড়।আমিও তাই সেটাকে ধারণ করছি।তাছাড়া আমাদের পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ী পোশাক পড়েও আমি খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
আর কি কি কাজ নিয়ে আছেন বর্তমানে?
উপন্যাসের কাজ হাতে নিয়েছি গত বছর থেকে। একটি তথ্য বহুল কাজ করতে চাই।তাই এটি প্রচুর সময় লাগতে পারে।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
: অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকেও।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

mersin escort mut escort mersin escort canlı tv izle konya escort