আইন-অপরাধ

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সমাবেশে বোমা হামলায় ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড

মোহাম্মদ রফিক, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : গত ১৯ বছর আগে রাজধানীর পল্টন ময়দানে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বোমা হামলা মামলার রায়ে ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় দুই জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর সালাউদ্দিন হাওলাদার এ তথ্য জানান।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, নূর ইসলাম, মুফতি আব্দুল হাই ও মুফতি শফিকুর রহমান। আর খালাসপ্রাপ্ত দুই জন হলো, মো. মশিউর রহমান ও রফিকুল ইসলাম মিরাজ।
ওই সমাবেশে বোমা হামলায় নিহতরা হলেন, খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল, খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার সিপিবি নেতা ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদ, ঢাকার ডেমরা থানার লতিফ বাওয়ানি জুট মিলের শ্রমিক নেতা আবুল হাসেম, মাদারীপুরের মুক্তার হোসেন ও খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস। এর আগে সোমবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কারাগারে থাকা চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আদালতের এজলাসে সকাল সাড়ে ১০টায় তাদের হাজির করা হয়।
তবে বোমা হামলা মামলার রায়ের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় দলের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেছেন, এ হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দলের সমাবেশে প্রথম বোমা হামলা। এই জঘন্যতম বোমা হামলার বিচারের জন্য নানা বাধা-বিপত্তি পার করে দেশবাসীকে সুদীর্ঘ ১৯ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে বিচার হওয়াটা সন্তোষের বিষয়। বিচারের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
সিপিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, সিপিবির মহাসমাবেশে বোমা হামলার যদি দ্রুত বিচার হতো, তাহলে পরবর্তী হামলাগুলো নাও ঘটতে পারত। আলোচিত এ বোমা হামলার বিচারের জন্য শুধু দীর্ঘ সময় ক্ষেপণই করা হয়নি, উপরন্তু নানা অন্তর্ঘাতমূলক ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। শুধু দায়িত্বহীনতা ও অবহেলাই নয়, সরকারের পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। জনমতকে বিভ্রান্ত করার জন্য নানা কল্পকাহিনী সাজানো হয়েছে।
তারা বলেন, বোমা হামলাকে সিপিবির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বলে চালিয়ে দেয়া, পার্টির আহত কমরেডকে বোমা বহনকারী সাজানোর অপচেষ্টাসহ সরকারের পক্ষ থেকে বিচারের ক্ষেত্রে নানাভাবে বাধা-বিঘ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছিল। এক সময় চূড়ান্ত প্রতিবেদনের নামে মামলা শেষ করে দেয়ারও চেষ্টা হয়েছিল। বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার এসব প্রচেষ্টারও বিচার হওয়া প্রয়োজন।

১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দ্রুত কার্যকর চায় সিপিবি
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সিপিবির মহাসমাবেশে বোমা হামলার বিচার হয়েছে আইনগতভাবে। হরকাতুল জিহাদের কিলিং স্কোয়াড চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু এই হামলার পেছনে বিভিন্ন শক্তির যোগসাজশ ছিল। শুধু আইনগতভাবে নয়, বোমা হামলার পেছনের অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক-সামাজিক বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক শক্তির উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি কর্তব্য। এ জন্য উচ্চ পর্যায়ের ট্রুথ কমিশন গঠন করতে হবে। এ হামলায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা দুঃসহ জীবনযাপন করছেন। সিপিবি সাধ্যমতো সাহায্য সহযোগিতা করছে। এসব পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহায়তার ব্যবস্থা করতে তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি সিপিবির সমাবেশে দুর্বৃত্তরা বোমা হামলা করে। এতে পাঁচ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হন। ওই ঘটনায় সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে আসামিদের বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি মর্মে তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এরপর ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ও ২০০৫ সালের আগস্টে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা হয়।
এসব ঘটনায় জঙ্গিরা জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়ার পর ২০০৫ সালে মামলাটি আবারও তদন্তের আদেশ দেওয়া হয়। তদন্তের পর ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর মৃণাল কান্তি সাহা। পরের বছর ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জগঠন) করেন আদালত।

ট্যাগ সমূহ
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

mersin escort mut escort mersin escort canlı tv izle konya escort