ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার ১০টি বিদ্যমান প্রকল্পের সঙ্গে আরো বেশকিছু প্রকল্পকে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে কয়েকটি প্রকল্পকে ফাস্ট ট্র্যাক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং প্রকল্পগুলোর সামগ্রিক বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছি। কমিটির (ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটি) আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রকল্প পর্যবেক্ষণ করা উচিত।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে (পিএমও) ‘ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প’ মনিটরিং কমিটির পঞ্চম সভায় সভাপতিত্বকালে একথা বলেন।
ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত ১০টি প্রকল্প ছাড়াও অন্যান্য বড় প্রকল্পগুলো মনিটর করতে ‘ফাস্ট ট্র্যাক মনিটরিং কমিটি’কে নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেগুলোতো মনিটর করবোই ভবিষ্যতে আমার মনে হয় এই কমিটি থেকে শুধু এই কয়েকটা দেখলে হবে না আরও অনেকগুলো প্রজেক্ট আছে যেগুলো দেখতে হবে।’ সরকারের ধারাবাহিকতার সুফল তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এই ধারবাহিকতা না থাকলে সরকার পরিবর্তন হলে কাজের ধারাও নষ্ট হয়ে যায়। টানা তিন বার আওয়ামী লীগকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জনগণের কাছে কৃতজ্ঞ যে, অন্তত তারা আমাদের এইটুকু সুযোগ দিয়েছে এবং এবার নিয়ে আমরা পর পর তৃতীয় বার এসেছি (রাষ্ট্র পরিচালনায়)। তাতে আমাদের উন্নয়নের কাজগুলো বাস্তবায়নও করতে পারছি এবং মানসম্মতও করতে পারছি।’
পদ্মা বহুমুখী মূল সেতুর নির্মাণ কাজ ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় ফাস্ট ট্র্যাক মনিটরিং কমিটি। পদ্মা সেতুসহ ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত ১০টি প্রকল্পের প্রতিটির অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয় এ সভায়।
১০টি ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প হচ্ছে-পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল), মহেশখালি-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম, ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মান প্রকল্প, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ এবং দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মায়ানমারের নিকটে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

সূত্র: বাসস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

etiler escort taksim escort beşiktaş escort escort beylikdüzü