প্রবাসী কবি মোহিত চৌধুরীর তিনটি কবিতা

বন্দে মাতারাম
———————-
ঐশী বীণার সূর লহড়ীতে
সাম্প্রদায়িকতার পরাকাষ্ঠে অগ্নি জ্বেলে।
কোন জাতকে জ্বালছো তুমি চিতার অগ্নিতে?
মানব জাত?
ধর্ম জাত?
ধর্ম জাতে মুসলমান চিতার অগ্নিতে জ্বলেনা।

বন্দে মাতারাম করোনা ভাইরাস রোধিতে,
মুসলমান কে জ্বালছো তুমি চিতার অগ্নিতে।
চিতার অগ্নিতে ঘৃতাহুতি,
জ্বলছে কৃষ্ণ মুখ নিঃসৃত বাণী।
ধূপ ছায়ার মুখরিত মর্মমূলে।
পাঠিয়া লও শোকাহত কাশীটির,
বিরহ দল শোভিত বোধিদ্রুম করুন সূর।
মন্দিরার সুকরুন কাঁন্নার কলরোল।

বন্দে মাতারাম দেখ আঁখি মেলিয়া।
লাশের জাত!
এ কোন জাত?
লাশের জাত হয় নাকি?
ঐশী বীণা ভিন্ন লাশের জাত হয়না।
ঐশী বীণাই লাশের জাত নির্নয়ক।
তবুও বলছি হৃদয়ের পদ্মরাগ খুলিয়া।

বন্দে মাতারাম দেখ চাহিয়া।
ইহুদি খ্রিস্ট ইসলাম হিন্দুইজম।
বৌদ্ধ জৈন শিখ জোরস্ট্রান
কনফুসিয়ানিজম তাওইজম।
সিন্তো বাহাই ইয়াজিদি
রাস্টাফারিয়ানিজম।

বন্দে মাতারাম….?
ব্যবিলন সুমেরিয়ান এ্যারিসিয়ান
কেনানাইট মিশর গ্রীস রোম।
সামানিজম কেলটিক মিত্রাইজম।
মায়া আজটেক ইনকা ওসেনিয়ান
জান্দি ডগন।

ঐশী বীণার সূরে সূরে।
কোন জাতকে তুমি জ্বালছো
চিতার অগ্নিতে বন্দে মাতারাম?

ফ্লোরেন্স সিটি ইটালী।
রবিবার বিকেল।
গৃহবন্দী থেকে।
৫এপ্রিল ২০২০ইং।

শুনি যেনো তাহার…
———————-

তৃষিত নিশির ধূসর ও মরুলয়ে।
আমি শুনি যেনো তাহার ঘুঙুরের সূর।
চরনে তাহার বেদনার সূর বাজে।
ঘুঙুরের প্রাণ ক্ষয়ে,
তৃষিত নিশির শিশিরের কাঁন্নায়।
আমারও নিশির তৃষিত আকাশে,
শিউলি মালতী মাধবীর এলোকেশে।
বিজলীর আলো জ্বলে অবিরত।

বিজলীর আলোতে ঘুঙুরের প্রাণ দোলে।
নিশি শ্যাম ঘন শ্যামরায়।
তৃষিত নিশির বাতায়নে বাজে,
ব্যাকুল প্রিয়ার বিরহের সূর বেদনায়।
তৃষিত নিশির স্বপনে শিশিরের জোস্নায়।
আমার রচিত কথার কাননে,
শব্দের নিশি জাগরণে প্রভাত হয়।
দেখিনু চাহিয়া সূরের ভুবনে।

শব্দের মালা তোমার ঘুঙুরের,
রাঙা চরন তলে পড়ে লুটিয়া।
সে মালা কখনও তৃষিত নয়নে।
শিমুলের পল্লবে মলিন প্রাতে,
পড়েনি লুটায়ে….।

ফ্লোরেন্স সিটি ইটালী।
বুধবার ভোর ৫:২২মিনিট
২২এপ্রিল ২০২০ইং।

না মিটিতে তৃষা
——————-

না মিটিতে তৃষা মোর নিশি ঘুমায়।
আঁধারের তৃষায় নিশি জাগিয়া থাকি।
এখনও আঁধারের মর্মমূলে,
জোস্না পড়েনি ঢলে।
আঁধারের তৃষ্ণাজলে বিরহ পূর্ণিমা জ্বলে।
নিশি প্রভাতে নিশি ঘুমায়।
আমার নয়ন দ্বীপে জোস্নার প্রদীপ জ্বলে।
শিশিরের কাঁন্না জলে বিরহের মালা গেঁথে।
আঁধার ফুরায় নিশি ঘুমায়।

এখনও আঁধারের দুঃখ নীড়ে।
জোস্নাৎসবে উচ্ছল উচ্ছ্বাস উদ্দামে।
নিশিতা নিশিযাপনে জোস্নার কৃষ্ণমূলে,
কৃষ্ণ তিথির মালা খোঁপায় পড়ে।
নিশি প্রভাতে গিয়ে নিশি ঘুমায়।
ফুরিয়ে আঁধার প্রদীপ জ্বালিয়ে জোস্না প্রদীপ,
নিশি জাগিয়া বিরহের দ্বীপ জ্বালি।
জোস্নার কবরী মূলে প্রাতে ফুরায়।

ফ্লোরেন্স সিটি ইটালী।
মঙ্গলবার প্রথম প্রহর।
২১এপ্রিল ২০২০ই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *