প্রবাসীদের বাংলাদেশে প্রবেশ না করার অনুরোধ

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: প্রবাসীদের বাংলাদেশে প্রবেশ না করার অনুরোধ করেছেন স্বাস্থমন্ত্রীস্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহেদ মালিক । তবে সচেতনা তা বাড়াতে হবে। আর আতঙ্কিত না হয়ে দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে প্রবাসীদের এই মুহূর্তে দেশে না আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, বিদেশ থেকে যারা বাংলাদেশে আসছেন, এই মুহূর্তে আপনারা দেশে আসবেন না। নিজ নিজ স্থানে থাকুন। ‘আপাতত স্কুল-কলেজ স্বাভাবিকভাবে চলবে। তবে সারাদেশের স্কুল ও কলেজগুলোতে হাত ধোয়ার জন্য সরকারিভাবে বিনামূল্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হবে। সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় কমিটির বৈঠক শেষে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এ এ তথ্য জানান মন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহেদ মালিক বলেছেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে আমরা আতঙ্কিত। তবে এটি মারাত্মক নয়। করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হারও অনেক কম। সারাবিশ্বে ২ বা ৩ শতাংশ।
জাতীয় কমিটির বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিকে স্কুল ও কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত হাত ধোয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবানের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেয়া হয়। বর্তমান করোনাপরিস্থিতিতে আপাতত স্কুল স্বাভাবিকভাবে চলবে। তবে পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। খেলাধূলা, ধর্মীয় বা সামাজিক প্রোগ্রাম সীমিত আকারে করার অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো না করলেই ভালো– এ বিষয়ে ডিসিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ক্যাবল টিভিতে স্থানীয়ভাবে প্রচারণা চালানোরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, করোনা প্রতিরোধে কোরিয়া, ইরান, ইতালি ও চীনের নাগরিকদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশ থেকে যারা আসবে তাদের সবাইকে প্রয়োজন হলে কোয়ারেন্টাইন করা হবে। সচেতনতা বাড়ানোর জন্য পোস্টার, ব্যানার, লিফলেটসহ প্রচারপত্র বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
করোনার চিকিৎসায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, জানুয়ারি থেকে আমরা প্রস্ততি নিচ্ছিলাম। আমাদের আশঙ্কা ছিল ভাইরাস আমাদের আক্রমণ করতে পারে। গতকাল তিন জন শনাক্ত হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় জেলা পর্যায়ে ১০০ বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঢাকায় ৪০০ বেডের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডাক্তার ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া করোনা পরীক্ষার পর্যাপ্ত কিট, মেশিন ও ওষুধ রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে। আরও ওষুধ ও কিট সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আমাদের ১০০ মিলিয়নের ফান্ড দিয়েছে। তবে আরও ফান্ডের দরকার। সমাজের বিত্তবান এবং বিভিন্ন কোম্পানিকেও সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। তারা এই মুহূর্তে মাস্ক ও গাউন দিলে উপকার হবে। এরআগে গত রোববার সরকারের আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ তিনজন ছাড়া আরও দুজনকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দু’জন ইতালিফেরত। তৃতীয় জন এদেরই মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। সোমবার দুপুরের প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আরো চারজনের পরীক্ষা হয়েছে। তবে পরীক্ষায় কারোর মধ্যেই করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তার মানে এ পর্যন্ত সর্বমোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা তিনজনই।
ওই সংবাদ সম্মেলনের পর করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে মন্ত্রী বলেন, বিদেশফেরত বিশেষ করে করোনাভাইরাসে বেশি আক্রান্ত ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো থেকে আসা বাংলাদেশিদের বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। তাদের পরীক্ষার মাধ্যমে প্রয়োজন হলে কোয়ারেন্টাইনে (সংক্রমণরোধে আলাদাভাবে) রাখার ব্যবস্থাও নেয়া হবে।
বিদেশ ফেরত দু’জনের মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে করোনা প্রতিরোধ করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে যারা বাংলাদেশে আসছেন, আমি বলব, এই মুহূর্তে আপনারা দেশে আসবেন না। নিজ নিজ স্থানে থাকুন। এটা আগেও আমরা বলেছি। অ্যাম্বাসেডরদেরও (রাষ্ট্রদূত) আমরা নির্দেশনা দিয়েছি- তাদের জন্য সেফ জোনের ব্যবস্থা করতে। মন্ত্রী বলেন, দেশ থেকে যারা বেশি যাবেন, আমরা সেটাও চাই না। সবাইকে সেল্ফ-কোয়ারেন্টাইনে (স্বেচ্ছায়) থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে খবর দেয়া হয়েছে, যারা আসবেন (বিদেশফেরত) সেল্ফ- কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। তার যারা প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন- বিষয়টি আমাদের জানাবেন। আমরা তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করে দেব।
জাহিদ মালেক বলেন, সচেতনতামূলক কার্যক্রম আমরা আগে থেকেই নিয়েছিলাম। এখন নতুন করে পোস্টার ও ব্যানার তৈরি করা হচ্ছে। আগামী দু’দিনের মধ্যে তা সারাদেশে পৌঁছে দেয়া হবে।
দেশে তিনজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হলেও আপাতত স্কুল স্বাভাবিকভাবে চলবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সারাদেশের স্কুল ও কলেজগুলোতে হাত ধৌত করার জন্য সরকারিভাবে বিনামূল্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। তবে পরিবর্তিত ব্যবস্থায় প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে।
খেলাধুলা, ধর্মীয় বা সামাজিক প্রোগ্রাম সীমিত আকারে করার অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এগুলো না করলেই ভালো– এ বিষয়ে ডিসিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ক্যাবল টিভিতে স্থানীয়ভাবে প্রচারণা চালানোরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দর্শক সমাগম যেন না হয়, সে বিষয়ে আমরা বলেছি।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দাম হঠাৎ বৃদ্ধির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা আমরা নেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

etiler escort taksim escort beşiktaş escort escort beylikdüzü