পাকিস্তানে টাইগারদের সফর চূডান্ত : অভিনন্দন জানালেন ইনজামাম

এস.এম.নাহিদ, বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা : অবশেষে নানা দ্বিধা দ্বন্দ কাটিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল পাকিস্তানে খেলতে যাবার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকে দু’দেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের মাঝে স্বস্তির পরিবেশ ফিরে এসেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন টি-টোয়েন্টি, দুই টেস্ট ও একটি ওয়ানডে খেলতে আগামি তিন মাসের মধ্যে তিনবার পাকিস্তান যাবে বাংলাদেশ জাতীয় দল। প্রথম দফায় আগামী ২৪, ২৫ ও ২৭ জানুয়ারি তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলতে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে টাইগাররা। এরপর বাংলাদেশ দল আরেকবার গিয়ে একটা টেস্ট খেলে আসবেন। শেষ সফরে হবে একমাত্র ওয়ানডে ও বাকি টেস্ট।পাকিস্তানের মাটিতে দীর্ঘ ১৩ বছর পর খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এত বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে তাদের আবেগী দর্শকদের সামনে খেলাটা সফরকারি দল খুব উপভোগ করবে বলেই মনে করছেন পাকিস্তানি ক্রিকেট প্রেমিরা।
এদিকে বাংলাদেশ দল মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গত ৩ দিন ধরে টানা অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন নিজেই মাঠে গিয়ে খেলোয়াড়দের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সাথে কথা বলেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি নিজেও টাইগার টীমের সাথে পাকিস্তান যাবেন। আর তাই টাইগারদের জয়ের জন্য সেখানে অনুশীলনে মনযোগি হবার পরামর্শ দেন। বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন, শুধু পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী নয়; বাংলাদেশের দুটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও থাকবেন দলের সঙ্গে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা জানিয়েছেন, তারা নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে না; ভাবছে কীভাবে ভালো খেলা যায় তা নিয়ে।
এদিকে পাকিস্তানে গিয়ে সিরিজ খেলতে সম্মত হওয়ায় নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক, সাবেক প্রধান নির্বাচক ও বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ইনজামাম উল হক। তিনি বলেছেন, ভাগে ভাগে ম্যাচ খেলতে আসছেন তাঁরা। আমার মতে ভাগে ভাগে না খেলে একবারে সিরিজ খেললে ভালো হতো। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত-পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের সামনে ক্রিকেট খেলতে তাঁদের অনেক ভালো লাগবে, তাঁরা অনেক উপভোগ করবেন। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশ টীম নিয়ে চার্টার্ড বিমানে লাহোর যাবার ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। ওদিকে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে শনিবার বৈঠকে করেছে পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি। পাকিস্তানি পত্রিকা দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, সভায় বাংলাদেশ দলের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ দলের হোটেল এবং মাঠে যাওয়া-আসার পথে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবেন টাইগার ক্রিকেটাররা। লাহোরে বাংলাদেশ দলকে নিরাপত্তা দিতে মোতায়েন করা হবে ১০ হাজার পুলিশ। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের জন্য নিরাপত্তা দেবেন সামরিক ব্যাটালিয়ন, রেঞ্জার্স উইং এবং ৪ হাজারের বেশি পাকিস্তানি পুলিশ সদস্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *