লাইফ স্টাইল

নৌকা চলে জীবন চলে না

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: ‘পাল তোলা ওই নায়ের মাঝি/ভাটিয়ালি গায়/ঘোমটা পরা গাঁয়ের বধূ/শ্বশুরবাড়ি যায়। ও মাঝি ভাই ও মাঝি ভাই/কোন সে গাঁয়ে যাও/চলন বিলে মামার বাড়ি/আমায় নিয়ে যাও।’ গাঁয়ের বধূর এমন আকুতি হারিয়ে গেছে। বাংলাদেশের নদী-বিলে নেই আর সেই মাঝি ভাইয়ের পালতোলা নৌকা। আছে শুধু সেসব সোনাঝরা দিনের স্মৃতি নিয়ে ছড়া-কবিতা।
আধুনিক নগর সভ্যতার যুগে যান্ত্রিক যানবাহনের ভারে পালতোলা নৌকা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। হাতেগোনা দু’য়েকটা চোখে পড়লেও তাদের নৌকায় আগের মতো আর মানুষ ওঠে না।
তবে এখন চলছে যান্ত্রিক সভ্যতা প্রসারের যুগ। আর পানিতেও লেগেছে পরির্বতনের হাওয়া। পানিতে চলমান নৌকার শতকরা ৮০ ভাগই হচ্ছে ইঞ্জিনচালিত নৌকা। যাত্রী কিংবা মালামাল পরিবহনের অপেক্ষায় ঘাটে-ঘাটে বাঁধা থাকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা। শুন-শান নদীতে ভটভট আওয়াজ করে প্রচণ্ড ঢেউ তুলে চলাচল করে ওই সব নৌকা। ইঞ্জিনচালিত নৌকার বিকট আওয়াজে নদী কিংবা হাওরের দু’পাড়ের গ্রামবাসীর কান ঝালাপালা। আর এগুলো চলার ফলে সৃষ্ট ঢেউয়ের আঘাতে নদীর দু’পাড়ের গ্রামগুলোও ভয়াবহ ভাঙনে হুমকির সম্মুখীন।
ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে তিন শতাধিক মাঝি নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বুড়িগঙ্গা নদীর সদরঘাটের খেয়া নৌকার মাঝি আব্দুস শহীদ। বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে তার বাড়ি। ২০ বছর ধরে তিনি সদরঘাটে খেয়া পারাপার করছেন। দীর্ঘদিন ধরে সকাল-সন্ধ্যা মানুষ পারাপার করে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যেন বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন আব্দুস শহীদ।
সারাদিন নৌকা বেয়ে ৩/৪শ’ টাকা আয় করেন মাঝি আব্দুস শহীদ। এর মধ্যে থেকে প্রতিদিন নৌকা খরচ ও চাঁদা বাবদ গুণতে হয় ১৬০ টাকা। সদরঘাটে তিনবেলা খেয়ে সামান্য ‍টাকা নিয়ে ঘরে ফেরেন তিনি। এতে করে ছেলে মেয়েদের নিয়ে সংসার চলে টানা-পড়েনের মধ্য দিয়ে। তারপরেও মাঝি আব্দুস শহীদ মনের আনন্দে গান খেয়ে খেয়া পারাপার করছেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *