সারা বাংলা

দেশের ৬৭ ভাগ মানুষের মৃত্যুই অসংক্রামক রোগে

এস.এম.নাহিদ, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও মানসিকসহ অসংক্রামক রোগের প্রকোপ মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক-তৃতীয়াংশ লোকই দুই বা ততোধিক অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এর মধ্যে ২৩ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপ ও ৫ শতাংশ আছেন ডায়বেটিসজনিত ঝুঁকিতে। দেশে প্রতিবছরই ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক রোগ, যা মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য বহুখাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ২০১৮-২০২৫’ শীর্ষক কর্মশালায় ভয়াবহ এ তথ্য তুলে ধরা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ কর্মশালার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্ল্যানিং ও ডেভেলপমেন্ট) অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেন। প্রবন্ধে অপর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া, কম শারীরিক পরিশ্রম, স্থুলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মদপান, তামাক সেবন ইত্যাদিকে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাই এগুলো কমিয়ে আনতে পারলে বেশিরভাগ অসংক্রামক রোগই প্রতিরোধ সম্ভব বলেও জানান তিনি। প্রবন্ধে উঠে আসে- অসংক্রামক রোগের মধ্যে ৩০ শতাংশ হৃদরোগ, ১২ শতাংশ ক্যানসার, ১০ শতাংশ বক্ষব্যাধি, ৭ শতাংশ আঘাতজনিত, ৩ শতাংশ ডায়বেটিস ও অন্যান্য রোগে ১২ শতাংশ লোক আক্রান্ত হন। আবার দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। তাই খরচ চালাতে গিয়ে প্রতিবছর লক্ষাধিক মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে যায়। এ ছাড়া মারা যাওয়া রোগীর ২২ শতাংশই হয় অকাল মৃত্যু। এতে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সে জন্যই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় অসংক্রামক রোগকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন,বর্তমানে ক্যানসার, ডায়াবেটিস, সিরোসিসসহ নানাবিধ অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত লোক প্রায় বাড়িতেই দেখা যায়। এর প্রধান কারণ আমাদের জীবনযাপনে অসতর্কতা। মানুষ এখন তাদের নিজেদের শরীরের যতœ নেন না। চর্বি, তেল, চিনিযুক্ত খাবার বেশি খায়। শারীরিক ব্যায়াম করে না, সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ করে না। ফলে নিজেদের অজান্তেই শরীরে অসংক্রামক রোগের বাসা বানিয়ে ফেলছেন। এ রোগগুলোর কারণে রোগাক্রান্ত মানুষটির যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি তার পরিবার তথা দেশেরও সমান ক্ষতি হচ্ছে। তাই এখন রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের বহুমাত্রিক পরিকল্পনার পাশাপাশি জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ মতে- অসংক্রামক রোগের ঝুঁকির কারণ তামাক সেবন, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর তৈলাক্ত খাবার, অতিরিক্ত লবণ, শারীরিক অলসতা, মদ্যপান ইত্যাদি। কারও জীবনাচরণে যদি এসব বিদ্যমান থাকে, তা হলে বিভিন্ন রোগ হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। যেহেতু এ দীর্ঘমেয়াদি রোগগুলো একবার হয়ে গেলে তা সারাজীবন থাকে, তাই রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে আমাদের রোগ প্রতিরোধের ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করা উচিত। আর এসব ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সরকারের অন্যান্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। সমাজের সব অংশ, গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব যদি একযোগে কাজ করে; তবেই অসংক্রামক রোগের আসন্ন মহামারী মোকাবিলায় সফলতা আসবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুণসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, গবেষক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ও সমাজকর্মী।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *