সারা বাংলা

করোনায় গ্রামের অটো চালকদের দুঃসহ জীবন

খন্দকার হানিফ রাজা, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস২৪ ডটনেট, ঢাকা: নভেল করোনা ভাইরাস মহামারি সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশকেও করেছে বিপর্যস্ত। এ ভাইরাসটির বাহক উচ্চবিত্তরা হলেও খেসারত দিতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের, ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করেছে। দুই মাসের অধিক সময়যাবত পরিবার-পরিজন নিয়ে নিম্ন আয়ের গরীব মানুষরা দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে। তারপরও তারা হাসিমুখে সরকারকে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ব্যাটারিচালিত অটোচলকরা তাদের গাড়ী নিয়ে রাস্তায় বের হয়নি কেভিট-১৯ এ-র সংক্রমনের ভয়ে। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছে। লকডাউন শিথিল করার পর তারা পেটের দায়ে রাস্তায় বের হলেও যাত্রী পাচ্ছে না, যা পাওয়া যায় তাতে খাওয়া দূরে থাক বিদ্যুৎ বিলের টাকাও হচ্ছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যাদের সম্পর্ক ভালো তারা কেউ কেউ সরকারী সাহায্য পেলেও বাকীরা কিছুই পায়নি। এর ফলে তারা কষ্টে দিনাতিপাত করতে বাধ্য হচ্ছে। কয়েকটি উপজেলা পর্যায়ের একাধিক অটো চালকদের সাথে আলাপ করে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, লকডাউন শিথিল হওয়ার পর যেসব অটো চালক গাড়ী নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছে তারা সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ী চলাচ্ছে, কিন্তু যাত্রী না পাওয়া যাওয়ায় তাদের চাল কেনার টাকাও উঠছে না। তাদের ত্রাণ সহায়তা জরুরী হওয়ার পরও কেউ তা পাচ্ছে না। কেউ কেউ ঋণ নিয়ে গাড়ী কিনে পড়েছে বিপাকে, তারা ঋণ পরিশোধ করা দূরে থাক তিনবেলা খাবারও ঠিকভাবে জোগার করতে পারছেনা বলে জানা গেছে।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ নামক এক অটো চালক এই প্রতিবেদককে জানান, আমাদের দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর তা প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউন ঘোষণার পর একবারের জন্য্যও গাড়ী নিয়ে বের হইনি, শুনেছিলাম আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে, ভেবেছিলাম সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া ত্রাণ পাবো কিন্তু লিস্টে নাম না থাকায় ত্রাণ পাইনি। ঘরে বৃদ্ধ মা ও তিন সন্তানসহ ৬ জনকে নিয়ে আমার সংসার। লকডাউনের দিনগুলোতে খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্ট করে দিনাতিপাত করতে হয়েছে। লকডাউন শিথিলের পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও যাত্রীদের তা মেনে চলতে উৎসাহিত করে গাড়ী চালাচ্ছি। তবে যাত্রী সংখ্যা খুবই কমে হওয়ায় নিয়মিত বাজারও করতে পারছিনা। আমার মতো খেটে খাওয়া মানুষদের কষ্ট হলেও মনেপ্রাণে চাই এই জীবন সংহারি ভাইরাস থেকে সবাই মুক্ত হই। আমরা যে পূর্বের মতো সুন্দরভাবে সকলে চলতে পারি। এ ক্ষেত্রে সবার প্রতি স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানায় সে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

mersin escort mut escort mersin escort canlı tv izle konya escort
sakarya escort sakarya escort sakarya escort sakarya escort sakarya escort
sakarya escort sakarya escort ümraniye escort serdivan escort
ankara escort ankara escort bayan escort ankara