করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ঘটনায় চীনকে ছাড়িয়ে গেল ইতালি

টাইমস ২৪ ডটনেট, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ঘটনায় এখন সবার উপরে ইতালি। ভাইরাসটির কারণে মৃতের সংখ্যায় চীনকে পেছনে ফেলেছে ইতালি। একদিনে দেশটিতে ৪২৭ জনের মৃত্যু হওয়ায় দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪০৫ জনে। যা ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল চীনে মৃত্যুর চেয়ে বেশি। ইতালিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ হাজার ৩৫ জন। চীনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার। যা ইতালির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। নাগরিকরা ঘরে বন্দি জীবনযাপন করলেও ইতালিতে মৃত্যু ও নতুন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সব মিলিয়ে দেশটিতে ১৩ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে মহামারীতে পরিণত হওয়া করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ১২ মার্চ থেকে ইউরোপের দেশ ইতালি লকডাউন জারি করে। শুরুতে ২৫ মার্চ পর্যন্ত লকডাউন জারি করা হলেও পরে মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়েছে। প্রায় সব ইতালীয় নাগরিক ঘরে বন্দি জীবনযাপন করলেও মৃত্যু ও নতুন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। চীনে তিন মাসে মারা গেছে দুই হাজার ২৪৫ জন। অপরদিকে, ইতালিতে তিন সপ্তাহে তিন হাজার ৪০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অথচ চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ইতালির দ্বিগুণ।
ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ইতালিতে ১২ মার্চ প্রায় সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়। বার, রেস্তোরাঁ ও বেশিরভাগ দোকানপাট এবং স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ লকডাউনের সময়ও বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে ঘোষণা দিয়েছেন, লকডাউনের কারণে পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর খুব দ্রুত স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফেরত যাওয়া সম্ভব হবে না। ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় তিনটি এলাকায় ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।
করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে ইতালিতে নতুন করে আরও পাঁচ চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে ইতালিতে চিকিৎসকের মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।
ইতালির গিম্বে হেলথ ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। গ্লাভস না-পরাসহ বেশ অসচেতনতামূলক কাজের কারণে ইতালিতে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ইতালির এ দুঃসময়ে লকডাউনের সময়সীমা বাড়িয়ে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত করেছে সরকার।

সূত্র: খবর বিবিসি ও রয়টার্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *