সাহিত্য

কবিতার নটরাজ বিদ্যুৎ ভৌমিক এর একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা ও তাঁর সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

সম্পাদকীয় কলম- “আত্মদর্শন” তাঁর কবিতার শেষ কথা । আজ্ঞে হ্যাঁ , কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিক যাকে নিয়ে দেশ-বিদেশে এতো চর্চা , আলোচনা- সমালোচনা । একমাত্র কবিতাকেই উপজীব্য করে এই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বর্তমানে তাঁর আকাশ ছোঁয়া নামডাক । প্রায় ৪০ বছরের কাছাকাছি , এই দীর্ঘ সময় ধরে বাংলা সাহিত্যকে সেবা করে আসছেন প্রিয় কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিক ! তাঁর কাব্য প্রতিভার সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে অ্যামেরিকা , অস্ট্রেলিয়া , রোম , ইতালি-র মতো প্রগতিশীল দেশ গুলোতে ! ইদানীং এই মহান প্রতিভাকে নিয়ে কলম ধরছেন বিদগ্ধ কবিতাবিশ্লেষক পণ্ডিতজন ! কালজয়ী কবি ও সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায় ,— “আমি যতটুকু চিনি কবি~ বিদ্যুৎ ভৌমিক’কে , তিনি ভীষণ আত্ম মর্যাদা নিয়ে চলা একজন মানুষ ! আমাকে কখনো আনন্দ বাজার পত্রিকার প্রথম শ্রেণীর ম্যাগাজিন “দেশ” পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ করেন নি ! তাঁর কথায় কোন থালায় খাচ্ছি , সেটা উপজীব্য নয় , কি খাচ্ছি সেটাই লক্ষণীয় ! তাঁর কবিতার এক একটা বাক্যই এক একটা কবিতা । আমি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “কথা না রাখার কথা” যখন পড়লাম ; অবাক হয়ে গিয়েছিলাম কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিক-এর কাব্যশক্তি অনুধাবন করে ! অনেক দূরে যাবেন এই কবি মানুষটি !’ যাই হোক , এই সংখ্যায় প্রকাশ করলাম আমাদের প্রিয় কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিকের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা । এছাড়া থাকছে অ্যামেরিকা বোস্টন থেকে বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক ডঃ আদিত্য বসুর কলমে এই জীবিত কিংবদন্তী কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিক এর সম্পূর্ণ পরিচিতি ! কবিকে আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদন করলাম ]

****************************
কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক এর সম্পূর্ণ
কবি পরিচিতিঃ – লিখছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ডঃ আদিত্য বসু
***************************************
এই সময়ের দুই বাংলার জনপ্রিয় কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক ।
জন্ম ১৯৬৪ সন, ১৬ – ই জুন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে
হুগলি জেলা তারই একটি ঐতিহাসিক শহর শ্রীরামপুরে ।
পিতা ঈঁশ্বর পীযূষ কান্তি ভৌমিক । মাতা শ্রীমতি ছায়ারানী
ভৌমিক । একমাত্র কবিতাকেই উপজীব্য করে ভারত ও
বাংলাদেশের পাঠকবন্ধুদের কাছে তিনি আদর ও সন্মান
পেয়ে চলেছেন । প্রায় ৩০ – ৩৫ বছর ধরে নিয়মিত ভাবে
প্রথম শ্রেণীর বেশির ভাগ পত্র পত্রিকায় লিখে চলেছেন –
কবিতা । কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে প্রখ্যাত
কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বলেছেন, — এ সময়কার তরুণ
কবিদের মধ্যে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের কবিতা পড়লে
মনের গঠনমূলক সৃজনশীল ভাবনা চোখের সামনে এসে
ধরা পরে ” *** আজ সমস্ত বিশ্বের বাঙালি পাঠকবন্ধুদের
আন্তরিক অনুরোধে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিককে নিয়ে একটি
বিশেষ সংখ্যা নিবেদিত হোলো — //

**********************************
¤ কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের কাব্যগ্রন্থ ¤

১ /কথা না রাখার কথা ( আনন্দময়ী প্রকাশনী )
২ /গাছবৃষ্টি চোখের পাতা ভিজিয়ে ছিলো ( আনন্দময়ী )
৩ /নির্বাচিত কবিতা ( পত্রাবলী প্রকাশনী )
৪ / নীল কলম ও একান্নটা চুমু ( ই-বুক কাব্যগ্রন্থ – প্রকাশন
বাংলাদেশের > ছোটকবিতা. কম )
৫ / রেডিও করতোয়া বগুড়া থেকে প্রকাশিত হতে চলেছে
কবিকণ্ঠে কবিতা “— শীর্ষকএকক অডিও এ্যালবাম ।
৬ / আগামী ২০১৭ কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হতে
চলেছে কবিতা সমগ্র” – ( পত্রাবলী প্রকাশনী )
***********************************
¤ কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক – এর পুরস্কার ও সম্মাননা ¤
*************************

২০০০ USA থেকে American Biographical Institute
তাঁকে MAN OF THE YEAR – এবং ওই একই সংস্থা —
থেকে ২০০৬ কবি বিদ্যুৎ – কে WORLD MEDAL OF
FREEDOM সন্মান ও পুরস্কার দেয় । বাংলাদেশের on
Line Mag ChhotoKabita. Com থেকে ২০১৬ শ্রেষ্ঠ
কবির সন্মান ও পুরস্কার । ২০১৩ – সন কবিকে কবিতার
শ্রেষ্ঠত্বের জন্য স্বাধীনতা সংগ্রামী ঈশ্বর শিশির গাঙ্গুলী
স্মৃতি পুরস্কার ও সম্বর্ধনা দেওয়া হয় । ২০১৫ সংবাদ এখন
সংবাদ পত্রিকা থেকে * বাংলা শ্রী * পুরস্কার ও সম্মাননা ।
RADIO KARATOA – বগুড়া থেকে বিশেষ সম্বর্ধনা ।
২০১৪ সমতা পরিষদের পক্ষ থেকে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক-
কে সশ্রদ্ধ সংবর্ধনা দেওয়া হয় । ২০০৯ – পশ্চিমবঙ্গ বাংলা
আকাদেমি ( কলকাতা ) সদ্-ভাবনা “-পুরস্কার লাভ । এ –
ছাড়া তিনি ১৯৯৭ – দক্ষিণ কলকাতা ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক
পরিষদ থেকে সম্বর্ধনা লাভ করেন সেবা উৎসব উপলক্ষে ।
**************************************
¤ কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের কবিতার সংখ্যা ¤
*********************
প্রায় দশ হাজারের অধিক
*********************
কবিতা পাঠ ও পরিবেশনঃ
**********************
বিভিন্ন প্রোফেশন্যাল মঞ্চে কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি ।
কলকাতা দূরদর্শন সহ বেশ কিছু বেসরকারি টিভি
চ্যানেলের আমন্ত্রণে নিয়মিত ভাবে কবিতা পাঠ এবং
কবিতানির্ভর সাক্ষাৎকার দিয়ে চলেছেন । এ ছাড়া –
RADIO JU90.8 MHZ FM – এর অনুষ্ঠান পরিচালনা ও
নিয়মিত ভাবে কবিতা পাঠ ও সাক্ষাৎকারে অংশ গ্রহণ ।
এবং on line RADIO KARATOA – র সাথে যুক্ত ।
***********************************
¤ হৃদয়তান্ত্রিক ধ্রুপদী কবিতা ¤

¤¤ ~জল ছোঁয়া রোগ এবং মৃত্যুঞ্জয়ী দর্পণ~ ¤¤

¤ ~বিদ্যুৎ ভৌমিক~ ¤
——————————————
ক ¤ ]

পাশের চেয়ারে ধ্যানব্রক্ষ্মে গভীর আরক্ত
কোথাও কী তপস্যা ভাঙার মন্ত্র হৃদয় ফুরিয়ে স্বপ্ন বদল করে
এই দু’হাত বুকের মধ্যে স্মৃতি ছুঁয়ে দেখে ; পাঁচ আঙুলের ছাপ লাগে স্বর্গের অলিন্দে ****
প্রতিদিনের অসুখ চরিত্র পতনের শব্দ শুনতে – শুনতে চেনা রাস্তা
দিয়ে ফিরে আসে ! এই তাপ যেমন গভীর ; ঠিক সেরকম অপ্রমেয়
উপমাহীন । তবুও কোথাও লুকিয়ে হারায় মন পোড়ানোর কৌশল
পাশের চেয়ারে অশরীর ক’রে রেখেছে আমায় —
এখানে স্মৃতি নষ্ট হতে – হতে দৃষ্টিও ভুলে যায় !
কেউ একজন অন্ধকার সিঁড়ির কাছে চিরঋণীর মতো চেহারায়
নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে ! অথচ ভালোবাসা মৃত্যু সইতে পারেনা ;
এক বেলাও !
খ ¤ ] যদিও বৃষ্টির দিনে কিছু অসংলগ্ন ভুল
আমাকে সঙ্গে নিয়ে ভেসে গেছে মধ্যরাতে মায়া আকাশে
চিরজীবনের স্রোতে স্বভাবতই নদীর মত শব্দ ওঠে —
কথা ছিল, এখানে নবনীতার সঙ্গে চোখ বন্ধ করে ডুবে যাব,
ভেসে যাব সোহাগ নদীতে ! তবুও তো ভেতরের সব ঢেউ
দেবতার মত নিরাকার ****
এসবের মধ্যে বহুকালের ঋণ দয়া চায় ক্ষমতা চায়
ভ্রাম্যমাণ দুঃখের ভেতর —
পাশের চেয়ারে একাকীত্ব আঁধার পেতে বসে আছে
চিরকালীন স্বপ্নে সাক্ষী থাকা সহস্র ছায়ারা অঘমর্ষী
এভাবে সমস্ত দিক থেকে বহতা স্তব্ধতা মুকুটহীন রাজার মত
বসন্তে জ্বলে ওঠে !
এই চেয়ার থেকে অবিশ্বস্ত হুল্লোড় শুনতে শুনতে
বাকি পথ মন্দ ভাগ্য নিয়ে ভ্রাম্যমাণ !
গ ¤ ]

কোনো কিছুর জন্য ভুলতে পারি কী তোমায়
মনে – মনে ভেতর গর্ভের শরীর চিনি, — বুকের মধ্যে নীল জ্যোৎস্না কবিতার মতো প্রিয় প্রতিবেশী *** এই অন্তরীক্ষ যেখানে প্রতারক
স্মৃতিরা রাতের জন্য চোখ বুজে অপেক্ষায় থাকে অহর্নিশ একটানা ! এদের সবাই মানুষ সেজে থাকতে চায় ,
শেষ পর্যন্ত এদের কারণে আমার নিঃসঙ্গ গোটা রাত জাগা !
কোথাও ভাসমান ভাবনায় অতিরিক্ত অবিশ্বাস মেখে থাকে মায়াময় একশটা আহত শোক ****
এই চেয়ারে ঐশ্বরিক কেউ বোসে না থাকলেও ; কেউ একজন
মৃত্যুর মত স্থির হয়ে ঘুমিয়ে থাকে স্মৃতি বিছানায় —
কোন কিছুর জন্য ছাদের কার্নিস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেইনি তোমার অজস্র অক্ষর মালা ! অথচ এরকম অনন্ত অসুখ অবলা নিরীহ
ছিল সতেরো বছর !
ঘ ¤ ]

সমস্ত ব্যর্থতা অসহবাসের চেয়ে কঠিন ও কঠোর – ভীষণ ধারালো
তবুও স্তব্ধ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি আমার ছায়াকে সতেরো বছর !
সেও দুঃখে ও শোকে নির্ঘুম ঋণী হয়ে আছে ****
এই জানলা দিয়ে চাঁদ এসে বিছানায় সারাদিন ঘুরছে – ফিরছে
কাঙালের দীর্ঘশ্বাস তবু নিঝুম বিষণ্ণ, — সমস্ত স্বপ্নগুলো প্রবল
বৃষ্টিতে ধুয়ে যেতে – যেতে যাবতীয় ইচ্ছার ভেতর মরে পচে গেছে ।
শেষ একবার নিভৃতে চলে এলে অস্তিত্ব নিজের হৃদয়ে
একলক্ষ বার পদাঘাত করে !
শেষ একবার সহজ সত্যে প্রতিপ্রশ্ন ছুঁড়ে দেই মৃত্যুঞ্জয়ী দর্পণে ;
আমি কী মরে যাব ? আমি কী পাখি – ফুল – ফল, অনেক কিছু
হব ? কি জানি মন-তো ব’লছে না সেই কথা !
ঙ ¤ ] সবটাই অমোঘ দোষ ; অধরোষ্টহীন কান্নায় ভাসে জল ছোঁয়া রোগে এক – একটা দুঃখ ; আমি ওদের ভালোভাবে চিনি, —
এই আধোজাগা সময়ে সেই চেয়ার এককালের স্পর্শে
অতল প্রেমহীন ! চোখের কাছে অচেনা কিছু চোখ ; আজব দর্শক
অন্ধকার রাতে মাথার কাছে ওরা কেউ কেউ শ্বাসকষ্টে কাঁপে —
এখানেও ক্ষমা চাওয়া চোখ বুজে অনুসরণ কবিতা পংক্তি ধরে
এখানেও মনের ভেতর জেগে ওঠে দীর্ঘকার ছায়া
অর্ধেক নিঃসঙ্গ এবং নিঃশব্দে নীরব ভিন্ন এলোমেলো !
তাকে নিয়ে ভাবা বিশ্ব – ভুবনময় , ওকি মৃত্যু ; নাকি অন্তরীক্ষে
স্মৃতি ছবি মেলে ধরে অনাদিকালের প্রোজেক্টারে !
এই চেয়ারে পৃথিবীর সব দুঃখ একাই পেতে – পেতে
সিংহাসন হয়ে আছে ;
অথচ আঙুলের কড় গুণে মৃত্যু দিন ভাগ হয়ে গেছে !
চ ¤ ] ত্রিভাঁজ সময়, বুকের ভেতর কথাপাখি ; যেন নিভৃত প্রহরী
ঘরভর্তি মিশে যায় নম্রতার বিবর্ণ ধুলো
কেউ অবিশ্বস্ত, কেউ কেউ বিপরীতে বিরল প্রজাতির ছায়া
খুঁটে খায় ! ওই রাস্তায় চোখ বাঁধা কঙ্কাল হাঁটে বারমাস, —
ওদেরকে চিনি, ওরা রাতে আঁধারে জাদুঘরের আলো নিভিয়ে দেয়
রোজ । কী রকম গুণ টেনে উল্টে যায় দরাজ শিহরণ
তবুও যে রাস্তায় – রাস্তায় আকাশ ভাঙা মেঘ লীলাময় কান্নায়
রাতের জ্যোৎস্না ভেজায় —
এটাতো এই চশমায় স্বপ্ন জাগাতে চেয়ে ছদ্মবেশী গুপ্তচরকে বিছানা থেকে তুলে অলঙ্কৃত আদিখ্যেতার মলম লাগিয়ে দেয়
অতলান্ত ক্ষতে ! এই চেয়ারে বহু শতকের মায়াময় কৌতুক একজন কবির রহস্যময় শোকে প্রেত ও ঈশ্বরের স্পর্শে জন্মঋণের ফর্দ নিয়ে জেগে থাকে !!

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *