ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহবান

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জনগণকে সচেতন করতে সরকারের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি সোমবার দুপুরে সচিবালয়ের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ আহবান জানান। এ সময় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন(ডিইউজে)’র সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপুসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন,‘আপনাদের অনুরোধ জানাবো, জনগণ ইতোমধ্যে অনেক সচেতন হয়েছে। তবে গ্রামে-গঞ্জে এখনও সচেতনতার অভাব রয়েছে। সবাই যাতে আরো সচেতন হয় সে বিষয়ে আপনারা সরকারের সঙ্গে একত্রিত হয়ে কাজ করবেন।’
তিনি বলেন, করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক দুর্যোগ। আপনারা করোনাভাইরাস নিয়ে অত্যন্ত উদ্যোগী হয়ে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। জাতিকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ড.হাছান বলেন, আপনারা এক্ষেত্রে ইতোমধ্যে অনেক উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। আমরা আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাংবাদিক ইউনিয়ন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক দুর্যোগ। এই দুর্যোগকে সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করতে হবে। এখন বাদানুবাদ ও দোষারূপের সংস্কৃতি থেকে আমাদের সকলকে বের হয়ে এসে এই দুর্যোগ মোকাবেলা করা প্রয়োজন। মন্ত্রী বলেন, এখন রাজনীতি করার সময় নয়। সবাই মিলে দুর্যোগ মোকাবেলা করার সময়। সেক্ষেত্রে সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর পাশাপাশি আরো কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন ,‘সংবাদপত্রে দেখতে পেলাম ইতোমধ্যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক ওষুধ আবিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবী করা হয়েছে। এটি কয়েকদিনের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাবে। যদি তা হয় তাহলে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে বৈশ্বিক এই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে সমর্থ হবো।’ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সাংবাদিকদের চাকুরীচ্যুতির বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখন বৈশ্বিক একটি দুর্যোগ চলছে। এই দুর্যোগের সময় কারো উৎকন্ঠা বাড়ানো সমীচীন নয়। এই সময় কোন ধরনের চাকুরীচ্যূতি অত্যন্ত দু:খজনক। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের মাধ্যমে অনুরোধ জানাবো, মালিকদের পক্ষে কারো যদি অসুবিধাও হয়, তাহলেও এই সময়ে যাতে চাকুরীচ্যূত করা না হয়। এই চাকরীচ্যূতির ঘটনা ব্যক্তিগতভাবেও আমার কাছে অত্যন্ত দু:খজনক।
সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য বীমার বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, আমি ইতোপূর্বে বিএফইউজে ও ডিইউজে’র নেতাদের সঙ্গে যখন বসেছিলাম তখন গ্রুপ ইনসুরেন্স করার জন্য বলেছিলাম। কারণ তা করা হলে মিডিয়া হাউজগুলোর জন্যই ভাল হবে। কারণ কোন সাংবাদিক অসুস্থ্য হলে বা কোন দুর্ঘটনায় পতিত হলে গ্রুপ ইনসুরেন্সের মাধ্যমে তারা সহায়তা পেতে পারে।
এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকদের জন্য গ্রুপ ইনসুরেন্স করা সম্ভব হলে সবার জন্যই কল্যাণকর হবে। নবম ওয়েজবোর্ডের গ্র্যাচুইটি ও আয়কর পরিশোধের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নবম ওয়েজবোর্ড নিয়ে অনেক কথা-বার্তা হয়েছে। এটি একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে। আমার পক্ষে এককভাবে কোন কিছু করা সম্ভব নয়।
হাছান বলেন, এখন যে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করার জন্য যে মনিটরিং কমিটি গঠন করার কথা সে কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটিতে সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিও আছেন। এই কমিটি মনিটরিং করবে ওয়েজবোর্ড কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে। সকল পত্রিকা নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করবে বলে আশাবাদও ব্যক্ত করেন তথ্যমন্ত্রী।
পার্লামেন্টের আগামী অধিবেশনে গণমাধ্যম কর্মী বিল উত্থাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করে হাছান মাহমুদ বলেন, গণমাধ্যম কর্মী আইন ও জাতীয় সম্প্রচার আইন পাশ করার পর সকল সাংবাদিকদের আইনী সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হবে। জাতীয় সম্প্রচার আইন সম্পর্কে তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এই আইন নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে তাকে জানিয়েছে। সহসা গণমাধ্যম কর্মী আইনটি পাশ করার বিষয়ে আশা প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, এই আইন দু’টি পাশ করা হলে শুধু ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক নয়, অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকসহ সকল সাংবাদিকদের আইনী সুরক্ষা দেয়া যাবে।
ডিইউজে’র নব-নির্বাচিত কমিটির নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে খুব স্বল্প পরিসরে আপনাদের সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিলাম। এজন্য আমরা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আহবান জানিয়েছিলাম একই ধরনের একটি ক্যামেরা যাতে আসে। তাহলে শুধু চারটি ক্যামেরা আসার কথা। কিন্তু আপনারা স্ব-উৎসাহে অনেকেই এসেছেন। এ জন্য আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি আরো বলেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ যদি আরো বাড়ে তাহলে আমাদের অবশ্যই স্বল্প পরিসরে কাজ করতে হবে। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করার মতো যে কারিগরি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন তার অভাব রয়েছে। সেগুলি এখনো পাওয়া সম্ভবপর হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রেডিও অফিসে যে মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে সে সিদ্ধান্ত অনেক আগের। পরীক্ষাও শুরু হয়েছে বেশ আগে। আর একজন একজন করে ভাইভা পরীক্ষা নেয়া হয়, হলে বসিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয় না। সবাইকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দিয়ে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে।

সূত্র: বাসস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *