এন্টি সাইবার বুলিং এক্ট প্রণয়ন করতে হবে

আশিফুল ইসলাম জিন্নাহঃ মানুষ তার জীবনের নৈতিক শিক্ষার প্রথম পাঠ পরিবার থেকে এবং প্রাতিষ্ঠানিক পুঁথিগত বিদ্যার পাঠ শিক্ষাঙ্গণ থেকে নিয়ে থাকে। এজন্য শিশুকে প্রথম থেকেই মুখস্ত বিদ্যা নির্ভর, বইপোকা, ভাল রেজাল্ট করার এবং ক্যারিয়ার গড়ার উপর গুরুত্ব, চাপ না দিয়ে বরং আনন্দের সাথে জ্ঞান, শিক্ষা অর্জন, ভাল মানুষ হবার এবং সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই আমরা আমাদের সন্তানদের কাছ থেকে ভাল মার্জিত ব্যবহার, সম্মান -শ্রদ্ধা, ভালবাসা আশা করতে পারি এবং দেশ- জাতি তাদের মধ্য থেকে সুশিক্ষিত সচেতন সুনাগরিক, সেবা/সৃজনশীলতা/ভাল কিছু লাভ/আশা করতে পারে।

যখন কোন ব্যক্তি কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ভার্চ্যুয়াল গেমসে অন্যকে অশ্লীল, ব্যঙ্গাত্নক, আক্রমনাত্নক, নিচু অমার্জিত শব্দ, ভাষায় কথা বলে/লিখে, ছবি/ভিডিও শেয়ার করে তখন তাকে সাইবার বুলিং বলে। আমার ধারনায় সাইবার বুলিং যারা করে তারা মূলত স্বল্পশিক্ষিত, বর্বর, বিকৃত রুচি সম্পন্ন মানসিকতার মানুষরূপী অমানুষ। কারণ তারা যখন অন্য কাওকে এরূপ শব্দ, ভাষায় সম্বোধন করে, লিখে তখন তারা এটা ভাবে না যে অপরদিকে থাকা ব্যক্তির মন-মস্তিষ্কের উপর কতটা চাপ, আঘাত দিচ্ছেন? তাকে কতটা অপমান, অপদস্ত করছেন? এসব ব্যক্তির চিন্তা, কথা, লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে যেকোনভাবে অপর ব্যক্তিকে অপমান, অপদস্ত, ছোট, নিচু করা এবং এর মাধ্যমে বিকৃত আনন্দ, সুখ, তৃপ্তি অনুভব করা।

বাহ্যিক ব্যবহারের মত ইন্টারনেটে লেখা, ছবি/ভিডিও শেয়ারের মধ্যেও যে একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এটা অনেকেই বুঝেন না/বুঝতে চান না। আবার সবাই একই ধরনের পরিবেশে বেড়ে উঠেন নি, শিক্ষা নেন নি এটাও আমাদের বুঝতে হবে। যেকোন ব্যক্তি, বস্তু, ঘটনা, বিষয়, বক্তব্য সম্পর্কে স্বাভাবিকভাবে সবার নিজস্ব ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গী, মূল্যবোধ, বিবেচনাবোধ থাকবে। একইভাবে তাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়ে, স্বীকার, সহ্য করে তার বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ, যুক্তিপূর্ণ, সুন্দর, মার্জিত ভাবে বলার অধিকার সবার আছে। সেভাবেই সবার মৌখিক বা লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করা/পাওয়া উচিত। কিন্তু তাই বলে অন্যকে যখন যা ইচ্ছা, যা তা নোংরা, নিচু, অশ্লীল ভাষায় শব্দ ব্যবহার করা, কথা বলা/লেখা মানসিক সুস্থ্যতার লক্ষণ হতে পারে না এবং ভদ্র সমাজে তা কোনভাবে সমর্থন/গ্রহনযোগ্য না।

মানুষের সাথে বাহ্যিকভাবে হাসি মুখে, ভদ্র নমনীভাবে, রসিকতার সাথে কথাবার্তা বলা, মার্জিত ভঙ্গিতে তাকানোর মত ব্যাপারগুলো একপ্রকার শিল্পকলা। আর তারই বহিঃ প্রকাশ ঘটে যখন এসবের আলোকে তার লেখা কাব্য-সাহিত্যে রূপ লাভ করে। প্রেস-ইলেক্ট্রিক মিডিয়া, ভার্চ্যুয়াল জগতে/সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাঠকদের কাছে কোন লিখিত বক্তব্য পোস্ট, কমেন্ট, ভয়েস মেসেজ আকারে প্রকাশ পায় এবং সেগুলো, কোনপ্রকার পিকচার/ভিডিও ক্লিপ লোড/শেয়ার করা হয়। তার এসব আচার-ব্যবহার, রুচি-অভ্যাস থেকে আমরা সাধারণত একজন ব্যক্তির পারিবারিক পর্যায়, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাঙ্গণ থেকে জ্ঞান-শিক্ষা অর্জনের ব্যাকগ্রাউন্ড এবং নিজস্ব জ্ঞান-অভিজ্ঞতা লব্ধ নৈতিক-প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, শিষ্টাচার, বুদ্ধিমত্তা, রুচিশীলতা, সৃজনশীলতা তথা তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সম্মুখ জ্ঞান লাভ করে থাকি।

তাই সাইবার বুলিং এর বিরুদ্ধে সবার সামাজিকভাবে সচেতন হওয়া, জনমত গড়ে তোলার উদ্যেগ নেয়া, এন্টি সাইবার বুলিং ক্যাম্পেইন করা এবং একে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়া উচিত। ভারতের বলিউডের চলচ্চিত্র শিল্পীরা এই সাইবার বুলিংকারীদের বুলিং এর ব্যাপারে বিরক্ত, অসহ্য হয়ে সাইবার বুলিং এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি তীব্র প্রতিবাদ, ক্যাম্পেইন শুরু করেছে এবং একে এক সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার উদ্যেগ নিয়েছে। যাতে আইন প্রশাসন সংস্থা সাইবার বুলিংকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান এবং ব্যবস্থা নেয়। এই সাইবার বুলিং এর ব্যাপারে/বিরুদ্ধে ভারতের ন্যায় বাংলাদেশেও সচেতন হওয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে এক্টি সাইবার বুলিং ক্যাম্পেইন শুরু করা এবং জনমত গড়ে তোলার উদ্যেগ নেয়া উচিত।

যাতে দেশের সাধারণ শান্তিপ্রিয় মানুষ নিজ নিজ আত্নসম্মানবোধ নিয়ে স্বাধীনভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করার এবং সমাজে চলার এবং বাঁচার সুযোগ পায়। এজন্য সাইবার বুলিং, সাইবার বুলিংকারীদের জন্য আলাদাভাবে এন্টি সাইবার বুলিং এক্ট প্রণয়ন করা উচিত এবং একে ডিজিটাল সাইবার ক্রাইম এক্টের আওতায় আনা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করে দিতে হবে যে, প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে ভার্চুয়াল জগতে অন্য/যাকে যা ইচ্ছা বলে এবং যা ইচ্ছা করে পার পাওয়া/বাঁচা যাবে না। এজন্য তাকে ডিজিটাল সাইবার ক্রাইম ল’র ফাঁদে পড়তে, এন্টি সাইবার বুলিং এক্ট মামলা-বিচারের সম্মুখীন হতে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতে হবে/আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবেই এখনকার প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল সমাজ, ভার্চ্যুয়াল জগত এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থিতিশীলতা, সাম্য এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে। asifultasin18@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

etiler escort taksim escort beşiktaş escort escort beylikdüzü