আলোচিত শিল্পপতি রাজা মিয়াকে হত্যার অভিযোগে এফআইআর এর নির্দেশ

হৃদয় দেবনাথ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার মতিগঞ্জ এলাকায় স্বনামধন্য সুবিশাল এক মৎস খামার রাজা ফিসারী এন্ড হ্যাচারি কমপ্লেক্স। অনেক স্বপ্ন নিয়ে সুদূর লন্ডন থেকে মাটির টানে দেশে ফিরে এসে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অন্যতম এক মৎস খামার প্রতিষ্ঠা করেন প্রয়াত মাস্টার গোলাম মোস্তফা রাজা। স্বল্প সময়েই এই ফিসারির সুনাম ছড়িয়ে পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রয়াত মাস্টার গোলাম মোস্তফা রাজা সাহেবের ছেলে মাষ্টার গোলাম মোরসালিন মোস্তফা জানান তিনি বিগত ২৬-০৮-২০২০ ইং তারিখের মাননীয় সিনিয়র জুডিসিয়্যাল ম্যাজিষ্ট্রেট ২নং আমলী আদালতে দায়েরী নালিশে উল্লেখ করেন বিগত ৩১-১২-২০১৭ তারিখ রাত ১২টা থেকে ৪.০০ টার মধ্যে আমার পিতা প্রয়াত মাস্টার গোলাম মোস্তফা রাজার মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা পরিবারের সকলকে নিয়ে লন্ডন থেকে শ্রীমঙ্গলের মতিগঞ্জ এলাকার তাদের মৎস খামার বাড়িতে আসেন। আমরা দেশে এসে লাশ দেখে লক্ষ্য করেছি মৃত্যুর পর বাবার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। মুখ দিয়ে লালা ঝরছিল এবং মূখ কালচে রং ধারন করে তাছাড়া পেট অনেক ফুলেফেপে ছিল। তাছাড়া আমরা আমাদের পিতার লাশ আমাদের স্থায়ী ঠিকানা মৌলভীবাজার থানাধীন আসিয়া (মাষ্টার বাড়ী) গ্রামে দাফন করার কথা বলিলেও দেওয়ান নুরজাহান আমাদের কথা না শুনে জ্বোরপূবক ফিশারিতে লাশ দাফন করে। আমরা আমাদের পিতার লাশের মেডিকেল পরীক্ষা করতে চাইলেও মহিলা বাধা প্রদান করে। আমার প্রয়াত পিতা মাস্টার গোলাম মোস্তফা রাজার সাথে অভিযুক্তা এই নারী দেওয়ান নুরজাহান বেগমের অতীতের অশালীন ব্যবহার সেই সাথে মানুষিকভাবে নির্যাতন, বাবার শরীরের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে গলায় আঘাতের চিহ্ন সহ বিভিন্ন সন্দেহজনক লক্ষণ এবং মৃত্যুর পর দিন থেকেই অভিযুক্ত মহিলা শোক প্রকাশ না করে বরং বাবার বিভিন্ন সম্পদ এবং বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টের হিসেব নিকেশ নিয়ে দৌড়ঝাপ সহ সব মিলিয়ে অভিযুক্ত নূরজাহান বেগমের প্রতি আমাদের পরিবারের লোকজন ছাড়াও স্থানীয় লোকজনও সন্দেহ প্রকাশ করেন। আর এসব বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয়লোকজন সহ আমাদের পরিবারের কেউ এ মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসাবে মেনে নিতে পারছেনা। তাই আমি প্রয়াত মাস্টার গোলাম মোস্তফা রাজা মিয়ার সন্তান মাষ্টার গোলাম মোরসালিন মোস্তফা বাদী হয়ে গত ২৬/০৮/২০২০ তারিখে অভিযুক্ত নুরজাহান বেগমকে প্রধান আসামি করে তার ভাই দেওয়ান আলামিন (৩৩), দেওয়ান সেলিম(৪৬), বোন দেওয়ান জান্নাতুল ফেরদৌস লিখন (৩৮), ও সহচর নাছির মিয়া (৪৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরো বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। মামলার এজাহারে মাস্টার গোলাম মোরসালিন মোস্তফা উল্লেখ করেন মৃত্যুর কিছুদিন আগে থেকেই তার প্রয়াত বাবা সন্তানদের দেশে আসার জন্য বলতেন। এবং মামলার প্রধান আসামি অভিযুক্তা নুরজাহান বেগম নিজেকে আমার বাবার স্ত্রী দাবী করে সমস্ত সম্পদ তার নামে লিখে দেয়ার জন্য তার ভাই দেওয়ান আলামিন(৩৩) এবং দেওয়ান সেলিম (৪৬), বোন দেওয়ান জান্নাতুল ফেরদৌস লিখন(৩৮), সহচর নাছির মিয়া(৪৫) সহ অজ্ঞাতনামা লোকজন নিয়ে এসে হুমকি ধামকিসহ মানুষিকভাবে নির্যাতন করছেন বলে লন্ডনে বসবাসরত আমাদের পরিবারের সকল সদস্যকেই বাবা মুঠোফোনে জানিয়েছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন প্রয়াত মাস্টার গোলাম মোস্তফা রাজার ছেলে মাস্টার গোলাম মোরসালিন মোস্তফা। তিনি আরো বলেন আমার বাবার সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্যই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমরা লন্ডনে অবস্থান করার সুযোগ ব্যবহার করে নির্জন হাওর অঞ্চলে আমাদের ফিসারির বাড়িতে খুব ঠান্ডা মাথায় আমার বাবাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন ভোরে আমার বাবা হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে প্রচার করেন নুরজাহান বেগম। মামলার এজাহারে তিনি আরো উল্লেখ করেন, আমার বাবা মৃত মাষ্টার গোলাম মোস্তফা রাজা মতিগঞ্জ ফিসারির বাড়িতে একা থাকতেন। তাই হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং বড় বাজার এলাকার মৃত দেওয়ান গোফরান মিয়ার মেয়ে দেওয়ান নুরজাহান বেগম বাসার রান্না বান্না সহ বিভিন্ন কাজ করতেন। তিনি বলেন এই বিষয়টি ফোনে বাবা আমাদের পরিবারের সকলকেই জানিয়েছেন। কিন্তু সুচতুর লোভী এই নারী অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েই শ্রীমঙ্গল মতিগঞ্জ বাজার সংলগ্ন আমাদের ফিসারির বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন যা আমরা বুজতে পারিনি। আমার বৃদ্ধ বাবার সরলতার সুযোগ নিয়ে দেওয়ান নূরজাহান বেগম এবং ওনার ভাইসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজন বাবার সমস্ত সম্পদ অভিযুক্তা দেওয়ান নুরজাহান বেগমের নামে লিখে দেয়ার জন্য বাবাকে অনবরত ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন। সেই সাথে বাবার নামে বিভিন্ন ব্যাংকে যে একাউন্টগুলো ছিল সব ব্যাংক একাউন্টে ওনাকে নমিনি করার জন্য চাপ দিতে দিতে থাকেন। এসব খবর পেয়ে আমরা পরিবারের সকলেই লন্ডন থেকে বাবার কাছে মতিগঞ্জ এলাকায় আমাদের ফিসারির বাড়িতে আসি। আমার বাবা তিনির সমস্ত সম্পদ একটি ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন। এ কথা শুনেই দেওয়ান নুরজাহান বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বাবাকে আপত্তি প্রদান করেন। এজাহার থেকে জানা যায়, অভিযুক্তা দেওয়ান নুরজাহান বেগম ফিশারীতে আসার পূর্বেই আরো ২টি বিয়ে হয়েছিল তার। হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় ১ম বিয়ে বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পরে ২য় বিয়ে হলেও ২য় বিয়ের কিছুদিন পরই তার ২য় স্বামী মৌলভীবাজার জেলার মোস্তফাপুর এলাকার মৃত সৈয়দ নুরুল হকের ছেলে সৈয়দ আহমদ মিয়ার রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়। নুরজাহান বেগম টাকার লোভে এবং স্বভাবগত চরিত্রের কারনে পূর্বের স্বামীদের সহিত অশালিন আচরন ও কাবিনের টাকার জন্য ঝগড়া বিবাদ এমনকি কাবিনের টাকা আদায় করার জন্য মামলা দিয়ে তাদেরও হয়রানি করে কাবিনের টাকা আদায় করে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানোই এই মহিলার পেশা এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় অনেকে। উক্ত মহিলা তার নিজ এলাকায় একজন প্রতারক হিসেবে পরিচিত। বাদী বলেন সম্প্রতি আমি পুনরায় লন্ডন থেকে ফিরে এসে দেখি আমার নিজ নামীয় ফিসারির মূল্যবান গাছ এবং মাছ, রেণু সহ অনেক টাকার মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে বিক্রি করে দিয়েছে এই চতুর মহিলা। এ বিষয়ে আমি প্রতিবাদ করলে এই মহিলা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং দেশের সব সম্পদ তাকে দিয়ে লন্ডনে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রকাশ্যেই হুমকি দিয়ে আসছেন। একাধিকবার ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে এসে ফিসারীতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে হামলা করে অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র ও নষ্ট করে দিয়েছেন। এমনকি তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর আঘাতে ফিসারিতে কর্মরত লোকজনও মারাত্মকভাবে জখম হয়। এ ঘটনায় আমরা থানার আশ্রয় নিয়েছি ইতিমধ্যে। তবে একের পর এক সাজানো মিথ্যে মামলা দিয়ে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছেন এই নিসন্তান সম্পদ লোভী মহিলা। গত ২৬ আগস্ট ২০২০ ইং তারিখে মাস্টার গোলাম মোরসালিন মোস্তফা বাদী হয়ে মৌলভীবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দন্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করিলে, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আরজিকে বা নালিশকে আগামী ০৭/০৯/২০২০ ইং তারিখের মধ্যে এফ. আই. আর(FIR)হিসেবে গণ্য করতে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি)কে নির্দেশ প্রদান করেন।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান বলেন, মহামান্য আদালত যেহেতু এফ আই আর এর নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুতই আমরা এফ.আই.আর রুজু করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *