রাজধানী

ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি কে হচ্ছেন ?

আলোচনায় এগিয়ে আবু আহমেদ মান্নাফী

জাহাঙ্গীর খান বাবু, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: শুক্রবার সম্মেলনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে । সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে সকলের মাঝেই প্রশ্ন কে হবেন আগামী দিনে দক্ষিণ ঢাকা আওয়ামী লীগের সভাপতি। নেতাকর্মীদের আলোচনা ও দলীয় বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি আবুল হাসনাত। পুরান ঢাকার এই বাসিন্দা বয়সজনিত কারণে এবার বাদ পড়তে পারেন বলে আভাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।এ পদে আলোচনায় আছেন মহানগর দক্ষিণ কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী। ঢাকার ওয়ারী এলাকার বাসিন্দা আবু আহমেদ মন্নাফীর রাজনৈতিক অবস্থান ও দলের জন্য ত্যাগ স্বীকারের কারনেই সম্প্রতী সময়ে তিনি আলোচনায় উঠে এসেছেন।
বর্তমানে আবু আহমেদ মান্নাফী কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কথা বলে জানাগেছে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাসহ নেতাকর্মীদের সাথে দীর্ঘ দিনের পরিক্ষিত নেতা হিসেবে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে আবু আহমেদ মান্নাফী এখন গুড বুকে রয়েছেন।
বিভিন্ন প্রাপ্ত সূত্রে জানাগেছে, ১৯৫৪ সালে ভাসানীর নেতৃত্বে নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনের মাঠে স্লোগান তুলে কিশোর আবু আহমেদ মান্নাফী রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৬৪ সালের নবাবপুর রোডের রথখোলায় যখন বঙ্গবন্ধু আসেন তখন সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালে রাজধানীর বর্তমান ওয়ারী থানা তখন ওয়ারী ইউনিয়ন পরিষদে অন্তভুক্ত। আবু আহমেদ মান্নাফী সেই ওয়ারী ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনীতির নেতৃত্বে আসেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সম্মুখ যুদ্ধে জীবন বাজি রেখে পাক বাহিনীদের মোকাবেলা করেন। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর কুমিল্লার চান্দিনায় পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৫ সালে রাজধানীতে মেয়র হানিফের নেতৃত্বে জনতার মঞ্চে নেতৃত্ব দেন তিনি।
বিএনপি-জামাত জোট সরকারের শাসনামলে ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট দলীয় তৎকালিন নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভায় গ্রেনেড হামলা হয় সেই গ্রেনেড হামলায় আবু আহমেদ মন্নাফী বোমার স্প্রিন্টারে আহত হন। আবু আহমেদ মন্নাফীর বিরুদ্ধে বিএনপির শাসনামলে ১৫-১৬ টি রাজনৈতিক মামলা ঘটনা ঘটেছে এতে আসামি হয়ে তিনি দুঃসহ জীবন যাপন করেও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ওয়ারী নবাবপুর রোড গুলিস্থানসহ আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন। ২০০৩ সালে বিএনপি জামায়াত জোট সরকার বিরোধী দলীয় কর্মসূচী পালনে বাধা প্রদান করলে রাজধানীতে মশাল মিছিল নিশেষ করে তৎকালিন আইন পাশ করে। এই আইন অমান্য করে মশাল মিছিল করেন আবু আহমেদ মন্নাফীর নেত্রীত্বে নেতাকর্মীরা গুলিস্থান নবাবপুর রোডসহ আশপাশের এলাকায়। কমিশনার নির্বাচিত হবার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবু আহমেদ মন্নাফী। ২০১৫ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন আবু আহমেদ মান্নাফী।
এসব বিষয়কে আমলে নিয়েই আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড ইতিমধ্যে আবু আহমেদ মান্নাফীকে বিভিন্ন দিক নিদের্শনা দিয়েছেন বলেও প্রকাশ পেয়েছে।
এছাড়া আলোচনায় আছেন অভিন্ন ঢাকা মহানগর কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য। এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের নাম শোনা যাচ্ছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদে একজন ‘ঢাকাইয়াকে (ঢাকার স্থানীয়) নেতৃত্বে আনার রীতি চালু আছে আওয়ামী লীগে। সে হিসেবেই বর্তমান কমিটির সভাপতি আবুল হাসনাত দায়িত্ব পালন করছেন।

Show More

Related Articles

Bir cevap yazın

E-posta hesabınız yayımlanmayacak. Gerekli alanlar * ile işaretlenmişlerdir