শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না

মো. সোহেল, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে এখন শিক্ষা অনেক টা অবহেলিত । সমগ্র বিশ্বে করোনা ভাইরাসের করাল থাবায় ক্ষতবিক্ষত। এমন কোনো সেক্টর নেই, যেখানে করোনা ভাইরাস এর কারণে ক্ষতিসাধন হয় নি। কিন্তু ধীরে ধীরে সকল ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবার পথ চলতে শুরু করেছে বাংলাদেশের মানুষ। সকল সেক্টরে চাকা সচল ভাবে ঘুরতে শুরু করেছে। কিন্তু এখন ও শিক্ষা কার্যক্রম পিছিয়ে আছে । কিন্তু কেন?
সরকারের উচিত পড়ালেখা কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দেয়া। অনেক দিন ধরে স্কুল বন্ধ আছে। করোনা ভাইরাস কবে বাংলাদেশ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হবে তা কেউ বলতে পারে না। তাই শিক্ষার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প ব্যবস্থাপনা আনতে সরকারের উচিত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বাংলাদেশে এখন প্রায় সব কিছু স্বাভাবিক। শুধু পিছনে আছে শিক্ষা ব্যবস্থাপনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে এটা উত্তম সময়। বর্তমান যুগ ডিজিটালাইজেশনের যুগ। বিশ্বের অনেক দেশেই পূর্ব থেকেই আপগ্রেড প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক ‌উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশে ও আধুনিকতার সোয়া দিয়েছেন। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। তার বাস্তবায়ন হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সয়ং তার অফিস এ বসে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মত বিনিময় করতে পারছেন। মিটিং করতে পারছেন। এছাড়া ও সরকারি বেসরকারি সব অফিস এ অনলাইন ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শহরের কিছু কিছু স্কুল অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস পরিচালনা ও করেছে।
সব সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়মিত তাদের স্ব স্ব অফিস করছেন। তবে শিক্ষকগণ সরকারি কর্মচারী হয়ে কেন ঘরে বসে আছেন। তারা তো অফিস করতে পারেন । কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আমরা স্কুলে নিতে পারি না। শুধু পিতা মাতা নয় সমগ্র বিশ্ব‌ই তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিন্তিত। তাই একটি শিশুর যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় দেশ বা জাতি সবচেয়ে প্রথম এই চিন্তা করবেন এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশে শুধু মাত্র শিক্ষা কে কেন্দ্র করে একাধিক মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রী কাজ করছেন। কাজ করছেন শিক্ষা বিষয়ক একাধিক অধিদপ্তর। এতো বড় জনসম্পৃক্ততা থাকা সত্ত্বেও কেন এই সেক্টর কে বিকল্প ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছে না। কেন শিক্ষা সেক্টর ৭/৮ মাস ধরে তার সমগ্র কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। স্ব স্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী ও অধিদপ্তরের উচিত শিক্ষকদের কাজে লাগিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বিকল্প পন্থায় জাগ্রত রাখা। শিক্ষকগণ অনলাইনে বা যেখানে যেখানে যেরকম প্রয়োজন সেখানে সে রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমাদের অনেকের ছেলে মেয়েরা শহরের ভালো স্কুলে পড়াশোনা করছে। তারা অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস করছে। কিন্তু সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কি সরকারের আওতায় এনে অনলাইন ভিত্তিক পড়াশোনা নির্দেশ দিয়েছেন সরকার? গ্রামের ছেলে মেয়েরা কি পিছিয়ে পরছে না? আমরা অনেকেই ভাবছি অনলাইন ভিত্তিক পড়াশোনা আবার কোনো পড়াশোনা হলো? হুম তা ঠিক ! অনলাইন ভিত্তিক পড়াশোনা আর স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা কখনো এক নয়। কিন্তু কি আর করার। যেখানে সমগ্র বিশ্ব মহামারীর কারণে স্থির হয়েছিল। যেখানে সমগ্র বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিন্মগামী। পরাক্রমশালী দেশগুলো আজ করোনা ভাইরাসের কাছে পরাজিত। যেখানে মহান আল্লাহ তায়ালার হাত ছাড়া কারোর কোনো শক্তি নেই এই সমস্যা সমাধান আনার। সেখানে আমরা কিইবা করতে পারি। তবে কথায় আছে না? নাই মামার থেকে কানা মামা ভাল। এই প্রবাদ কে কাজে লাগিয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সব সেক্টরের মত শিক্ষা সেক্টর কে গতিশীল রাখতে হবে।
শুধু মাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠান না হ‌ওয়ায় স্কুল কলেজ কে প্রাধান্য দেয়া হবে না তা হতে পারে না। হয়তো আপাতদৃষ্টিতে আমরা এই ক্ষতি দেখতে পারছি না। কিন্তু সামগ্রীকভাবে শিক্ষা কে গুরুত্ব না দিলে সমগ্র বাংলাদেশের কতটা পিছিয়ে পরবে তা আরেকবার ভাবা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *