মতামত-বিশ্লেষণ

মোদির নতুন বিল : আসাম ও বাংলাদেশ

গৌতম দাস : আবার হেডলাইনে আসাম। নতুন ইস্যু ‘নাগরিকত্ব বিল’। সম্প্রতি আসাম বলতে বাংলাদেশের মানুষ চিনে এনআরসি ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস-এর আসাম। এনআরসি অর্থাৎ আসামে এখন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিয়ে এক নাগরিক তালিকায় নাম তুলতে হবে বসবাসকারী সবাইকে। যার মূল কথা- ‘পড়শি’ দেশ থেকে যারা আসামে ২৪ মার্চ ১৯৭১ এর পরে এসেছে তাদের চিহ্নিত করা। তাদের অনুমান ইতোমধ্যে এক ব্যাপক সংখ্যক লোক আসামে এসে ঢুকেছে। যদিও চিহ্নিত হওয়ার পর ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ দিতে না পারা, এই তাদের নিয়ে কি করা হবে তা ‘আনুষ্ঠানিক’ ভাবে কেউ বলছে না। ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ চালাতে চাইছে। এমনকি এ তালিকা তৈরির নির্দেশ নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী নয়, সুপ্রিম কোর্ট থেকে এসেছে। তা সত্ত্বেও সেই কোর্টও স্পষ্ট করে বলছে না যে, ‘নাগরিক প্রমাণ দিতে না পারা’ ব্যক্তিদের নিয়ে কী করা হবে। কারণ, কারও ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণিত না হওয়া মাত্রই এটা আপনাতেই প্রমাণ হবে না যে, সে বাংলাদেশের নাগরিক। আর মূল কথা সে ক্ষেত্রে ওই নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ইস্যু নিয়ে আগে বাংলাদেশের সাথে কথা বলতে হবে। বাংলাদেশকে রাজি করাতে হবে। এরপরেই কেবল কোনো নাগরিককে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারবে।

তবে সে কথা এখন থাক। কারণ, ইস্যু এখন তার চেয়ে আলাদা এবং ভয়াবহ। এবার আবার আর এক নতুন দানবীয় ইস্যু নিয়ে হাজির হয়েছে। আসাম এটাকে মোদির ‘আসাম ইস্যু’ বা ‘নাগরিকত্ব বিল’ বলা যায়। এর আনুষ্ঠানিক শিরোনাম হলো – সিটিজেনশিপ (সংশোধনী) বিল ২০১৬ (Citizenship (Amendment) Bill, 2016)। এই বিলটা বিজেপি ভারতের লোকসভায় পেশ করা হয়েছিল জুন ২০১৬ সালে। তাই বিলের নামের সাথে সেটা লেগে আছে। এতদিন সেটা যাচাই কমিটিতে ছিল। আসলে মোদি এটা সময়মতো বের করবেন তাই গত দু-আড়াই বছর এটা আটকা ছিল। এখন এ শিরোনামের আইনটা ভারতের লোকসভায় শেষ অধিবেশনে পাস হয়েছে গত ৮ জানুয়ারি ২০১৯। মূলত এটা এর আগের ‘নাগরিকত্ব বিল ১৯৫৫’ (Citizenship Act, 1955) এর কিছু ধারার আনা সংশোধন করে নেয়ার পরের নতুন রূপ। সংশোধিত বিলের সারকথাটা হলো- বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান এই তিন দেশ থেকে (মুসলমান বাদে) হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিষ্টান এই ছয় ধর্মের লোক ভারতে আশ্রয় প্রার্থী হলে- ভারতে আশ্রয় প্রার্থী হিসেবে তাদের ছয় বছর বসবাস পূর্ণ হলে পরে তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়া যাবে।
(মুসলমান বাদে) শব্দগুলো সেখানে লেখা নেই, কিন্তু অর্থ তাই। এমনকি ভারতের মিডিয়া বারবার ছয় ধর্মের উল্লেখ করার ঝামেলা এড়াতে লেখা শুরু করেছে ‘অ-মুসলমান’। অর্থাৎ মোদির সরকার আসলে যা বুঝাতে চেয়েছে, মিডিয়াগুলো তাই লেখা শুরু করেছে।
এর বিরুদ্ধে লিগাল ত্রুটি দেখানোর যুক্তি হলো: এটা বৈষম্যমূলক। বলা হয়েছে- ওই তিন দেশে ‘ধর্মীয় কারণে নির্যাতিত হয়ে ভারতে আশ্রয়প্রার্থীরা’ এ সুযোগ নিতে পারবে। কিন্তু তা সাধারণভাবে সব ধর্মের লোক না বরং মুসলমান বাদে ভারতের ছয় ধর্মের কথা সুনির্দিষ্ট বলা হয়েছে, যাদের বেলায়ই কেবল এটা প্রযোজ্য। এটা স্পষ্টত এক বৈষম্যমূলক আইন। কোনো রিপাবলিক রাষ্ট্র কোনো মুসলমান বা যেকোনো কারও প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করতেই পারে না। এটাই নাগরিক সাম্য বা ইকুয়ালিটির মৌলিক নীতি অথবা রাষ্ট্রের বৈষম্যহীন থাকার প্রতিশ্রুতির সরাসরি লঙ্ঘন।
এখন মোদির নাগরিক বিল পাস হওয়ার দিন ৮ জানুয়ারি এক উল্লেখযোগ্য নতুন বৈষম্যের দিন হয়ে থাকল। কারণ, এটাকে তো এমনিতেই আসামে আগের নাগরিক তালিকা তৈরির এনআরসি ইতোমধ্যেও ৪০ লাখ হিন্দু-মুসলমানকে আসামের অপ্রমাণিত নাগরিক বলে চিহ্নিত করেছিল। যার মধ্যে আবার ১৮ লাখই হিন্দু। অর্থাৎ এনআরসি তৈরির সময় পেছনে অনুমান ছিল যে প্রমাণ করতে না পারা অর্থে অবৈধ নাগরিকের বেশির ভাগ হবে মুসলমান। আর মুসলমান মানেই ধরে নিতে হবে, তারা বাংলাদেশ থেকে এসেছে। কিন্তু দুই অনুমানই ভিত্তিহীন প্রমাণ হয়ে যায়। ফলে তাদের নিয়ে কী করা হবে সেই টেনশন বাড়ছিল। এর ভেতর নতুন করে আর এক দিকে উত্তেজনা ঘুরিয়ে আরো ছড়িয়ে দেয়া হলো।

এই বিলের প্রভাব ও পরিণতি
প্রথমত, আমাদের সুস্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে যে, মোদির এই বিল আসাম এনআরসি বিতর্কের কোনো সুস্থ সুরাহা করার দিকে তাকিয়ে করা হয়নি বরং এর মূল উদ্দেশ্য এ বিতর্ককে ব্যবহার করে বিজেপির বিভাজনের রাজনীতিকে বিস্তার ঘটান। সাধারণভাবে ভারতীয় নাগরিক এ পরিচয়ের রাজনীতি বিজেপি করে না বরং এক বিভক্ত পরিচয় হিন্দুত্ব এমন হিন্দু পরিচয়ের রাজনীতিই বিজেপি করে। এই হিন্দুত্ব পরিচয়ে ভোটারদের জন্য সে হিন্দুত্বের রাজনীতিতে কেবল হিন্দু স্বার্থের আওয়াজ তুলে মেরুকরণ করা ও ভোট বাক্সে তা পৌঁছান- এই হলো বিজেপির রাজনীতির কৌশল। তাই মোদির নাগরিকত্ব বিল সাধারণভাবে ভারতের সব রাজ্যের দিকে তাকিয়ে এমন আড়াল সৃষ্টি করা হলেও এর বিশেষ টার্গেট রাজ্য হলো আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ। যেমন এ বিলের মাধ্যমে আসলে বলা হয়ে গেছে যে, আসামের তাদের এনআরসি-ইস্যুতে অপ্রমাণিত নাগরিকদের মধ্যেকার ১৮ লাখ হিন্দুকে ভারতীয় বৈধ নাগরিকত্ব দেয়ার দায়িত্ব বিজেপি নিয়ে নিলো। আর এতে আসামকে এখন হিন্দুত্বের ভিত্তিতে মেরুকরণের রাজনীতি শুরু করল বিজেপি।

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে এতদিন বিজেপি অভিযোগ করত, কংগ্রেস আর সিপিএম এরা পশ্চিমবঙ্গে ’৪৭ সালের পর পূর্ববঙ্গ থেকে যাওয়া হিন্দু বাঙালি তাদের ভাষায় যারা ‘বাঙাল’ এদের স্বার্থই কেবল নিয়ে রাজনীতি করে গেছে। ‘বাঙালদের’ রেশনকার্ড আর ভোটার বানিয়ে দিয়ে নিজের দল-ভারী করে রাজনীতি করে গেছে। তাৎপর্যপূর্ণ হলো এমন অভিযোগ কংগ্রেস, সিপিএম অথবা বিজেপি এরা কেউই মমতার তৃণমূলের বিরুদ্ধে কখনো করে না। তাহলে কী উল্টা মানে, মমতা বাঙালদের বিরুদ্ধের রাজনীতি করে? না এমন অভিযোগও দেখা যায়নি। তবে এখন এ বিলের মাধ্যমে এবার বিজেপি নিজেই ‘বাঙাল’ মনোরঞ্জনে সবার ওপরে এগিয়ে থাকার রাজনীতিতে নামল। যে অভিযোগ সে এতদিন অন্যদের বিরুদ্ধে করত।

সাধারণভাবে পূর্ববঙ্গ থেকে যাওয়া ধর্ম-নির্বিশেষে যে কেউই হোক, তাকে ভারতে নাগরিক হিসাবে ন্যাচারালাইজ করে নেয়া- এটা কোনোই খারাপ বা অন্যায় কাজ নয়। আইন বানিয়ে নিয়ে তা করলে সেটা তো আরো ভালো। কিন্তু ঘোরতর বেইনসাফি অন্যায় ও খারাপ কাজ হবে যদি বৈষম্য করা হয় যে, ‘কেবল অমুক ধর্ম’ হলে স্বাগত। মানে হিন্দুত্বের রাজনীতির সঙ্কীর্ণ স্বার্থে যখন পদক্ষেপ নেয়া হয়। বিজেপি সেই ভয়ঙ্কর বীজ বপনের কাজ শুরু করল। আসামের ওই ১৮ লাখের কথা তুলে বিজেপি আগামী নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে প্রধান ফোকাসের বক্তব্য করতে চায়। যাতে সাধারণভাবে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু আর বিশেষ করে ‘বাঙাল’ হিন্দু সহানুভূতিশীল হয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভোটের বাক্সে আসে।

তবে আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি, এমনকি এর সাথে পশ্চিমবঙ্গেও আর এক প্রপাগান্ডা চলবে- দাবি তুলতে হবে যে, আসামের মতো সেখানেও এনআরসি বা নাগরিক তালিকা করতে হবে।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, তারা তুচ্ছ তেলাপোকা ও অনুপ্রবেশকারী মুসলমান এভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে নির্বাচনী অপপ্রচার এবং এই চরম ঘৃণা ছড়ান উন্মাদনা, এটাও বিজেপি পাশাপাশি চালাবেই। এটাই হবে, হিন্দুমনে জাগানো ঘৃণা-বিদ্বেষ কাজের মূল ফোকাস বয়ান।

যদিও এখানে খেয়াল রাখতে হবে আসামের মূল এনআরসির দাবি বা চলমান নাগরিক তালিকা তৈরির কাজে বিদেশি বা অ-নাগরিক বলতে তারা মুসলমান বুঝে কাজটা করছে। এটা তেমন ভিত্তির ওপর দাঁড়ান নয়। ফলে তারা কেবল মুসলমানদের বের করে দিতে এ কাজ করছে তা নয়, বরং স্পষ্ট করে বলছে- ২৪ মার্চের পরে ধর্ম-নির্বিশেষে যারাই আসামে এসেছে তাদের বিদেশি বা অ-নাগরিক বলতে হবে। কিন্তু বিজেপি বা মোদি এই সংজ্ঞা বদলে দিচ্ছে। তাদের সোজা ভাষ্য ও অর্থ হলো- এনআরসি মানে ‘মুসলমান অনুপ্রবেশকারী’ বুঝতে হবে।

আসামে এই বিলের প্রতিক্রিয়া
কেবল আসাম নয় উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যেই এই বিলের বিরুদ্ধে প্রবল সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। অনুমান করা যায়- তাদের মূল উদ্বেগের কারণ হলো, এই সাত রাজ্যের মধ্যে যাদের সীমান্তের অপর পাড় বাংলাদেশের তার তো বটেই, এমনকি যারা নয়, তাদের এলাকাতেও বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুরা এবার নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়েই গেড়ে বসে যাবে। সাধারণভাবে এখানে আগে থেকেই থাকাদের টেনশন হলো- সমতলি-পাহাড়ি। কারণ এরা বেশির ভাগ হলো পাহাড়ি বাসিন্দা অথবা উপজাতি বাসিন্দা। ফলে সামাজিক রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্ন আর তা থেকে উচ্চ বা নি¤œস্বরে টেনশন সেখানে সবসময় কাজ করে থাকে। এর মধ্যে আবার বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুরা এলে তাতে আগের টেনশন আরো নতুন মাত্রা পেতে পারে।

তবে সুনির্দিষ্ট করে আসামের প্রতিক্রিয়া হবে খুবই মারাত্মক। যেমন এমনিতেই আসামের এনআরসিতে যে ৪০ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব অ-প্রমাণিত থেকেছিল, তাদের মধ্যকার ১৮ লাখ হিন্দু নিজেদের ভাগ্য ফিরবে এই ভরসায় ইতোমধ্যেই বিজেপির নাগরিকত্ব বিলের ও মোদির ভক্ত হয়েছিলেন। সেটা কেবল ওই ১৮ লাখে সীমাবদ্ধ ছিল না। সারা আসামের বাঙালি হিন্দুমাত্রই ক্রমেই সহানুভূতিশীল হয়ে উঠছিলেন। এককথায় বললে, মোদির হিন্দুত্বের ভিত্তিতে পাবলিক মেরুকরণ এর রাজনীতি এখানে বিভক্তির প্রভাব তৈরি শুরু করে দিয়েছিল। আর তাই এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক ইঙ্গিত।

কেন? এখন এই ১৮ লাখই হবেন আসামের পাহাড়ি বা যারা নিজেদের অহমিয়া পরিচয় দাবি করেন তাদের আক্রমণের প্রধান টার্গেট। আসামের পাহাড়ি বা অহমিয়া পরিচয়ধারীদেরই মূল রাজনৈতিক দল অহম গণপরিষদ ও বোরোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট, যারা বিজেপির সাথে মিলে গত ২০১৬ সালের রাজ্য নির্বাচন থেকে আসামের প্রাদেশিক জোট সরকারে ছিল। মোদির নাগরিকত্ব বিল পাসের প্রতিবাদে যারা জোট থেকে বের হয়ে গেছে। এরাই ১৮৮৫ সালের চুক্তি যার মূলকথা হলো, অ-অহমিয়দের আসাম থেকে বের করে দিতে হবে এর প্রধান প্রবক্তা ও রক্ষক। এর আগে বাঙালি-নিধনের বহু রেকর্ড এদের আছে, এবং সম্প্রতি আসামের তিনসুকিয়া জেলায় পাঁচ বাঙালিকে হত্যা করা হয়েছে, যা ওই ১৮ লাখ হিন্দু বাঙালির ভাগ্যে এখন কী হবে এর ইঙ্গিত বলেছেন অনেকেই।

এ দিকে, আর এক অদ্ভুত ফেনোমেনা হলো- ভারতের গোয়েন্দা বিভাগ মোদির এই বিল পাসে খুশি হয়নি, ভালো কাজ মনে করে না। তবে পেশাদার হিসেবে মনে রাখে। যদিও সেটা তাদের সাথে সম্পর্কিত বা এসাইনড লোকেদের প্রকাশিত কিছু আর্টিকেলে দেখা গেছে। তাদের মূল উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিল পাসের ফলে এতে গত ছয় বছরে উলফার কমে আসা তৎপরতা যা এখন পরেশ বরুয়া অংশের নামে আছে কিন্তু স্তিমিত তাদের পুরনো সেসব তৎপরতা আবার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখে তারা। এমনিতেই জটিল পরিস্থিতি ও সমীকরণের আসাম আবার নতুন উত্তেজনা ও সঙ্ঘাতের ফলে তাদের এতদিনের প্রশাসনিক অর্জনে পানি ঢেলে দেয়া হবে বলে তারা মনে করে।

বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রভাব প্রতিক্রিয়া
এবারের আসন্ন ভারতের নির্বাচনে বিজেপি ও মোদি হবে বাংলাদেশের জন্য ভয়ঙ্কর। অর্থনীতিক ‘উন্নয়ন ও বিকাশে’ রাজনীতিতে মোদি ফেল মারাতে তার এখন একমাত্র সম্ভাব্য ইস্যু হবে হিন্দুত্ব, যার বিশেষ ফোকাস হবে নাগরিকত্ব বিল। তুচ্ছ তেলাপোকা পিসে মেরে ফেলা হবে, বেছে বেছে খুঁজে খুঁজে উপড়ে ফেলা হবে, ইত্যাদি এসব বলে গত নভেম্বর পাঁচ রাজ্য নির্বাচন লড়েছে বিজেপি।

সেই মহড়ার পর এবার আবার মুসলমান-বিদ্বেষ আর অনুপ্রবেশকারী বলে সরাসরি বাংলাদেশ-বিরোধী প্রপাগান্ডায় নামতে হবে মোদিকে। গতবার কেবল তথ্যমন্ত্রী ইনুকে দিয়ে ভারতের কাছে আপত্তি জানানো হয়েছিল। কিন্তু এবার নাগরিকত্বের বিল পাস করার পরে মুসলমান-বিদ্বেষ আর অনুপ্রবেশকারী বলে সরাসরি বাংলাদেশ-বিরোধী প্রপাগান্ডা আরো তীব্র হবে বলে অনুমান করা যায়। বিশেষ করে আসামে যে অহমিয়া-বাঙালি সঙ্ঘাত উসকে গেল সে পরিপ্রেক্ষিতে। হাসিনা সরকার প্রথম পাঁচ বছরেই উলফা দমনে যে ভূমিকা ও সহায়তা দিয়েছিল এর প্রশংসায় ভারতের গোয়েন্দা-আমলা থেকে রাজনীতিক সবাই পঞ্চমুখ। যদি তাই হয় তবে একদিকে এখন সেই অর্জন ভেঙে ফেলতে হবে আর অন্যদিকে বাংলাদেশের মুসলমান বা তেলাপোকা বলে ঘৃণা আর গালি খাওয়া এটা কী ফেয়ার? এবারো তাই মনে হবে? মনে হয় না।

এ হবু নির্বাচনে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের দুই দিকে মোদির সম্ভাব্য বাংলাদেশ-বিরোধী প্রপাগান্ডায় (যা ইতোমধ্যে আমরা রাজস্থান, ছত্তিসগড় নির্বাচনে দেখেছি) বাংলাদেশে এর বিরুদ্ধে সরব প্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। আর সম্ভাব্য সে পরিস্থিতির কথা আঁচ করে আগে থেকেই ভারতকে সাবধান করে নিজেদের স্বার্থ-প্রতিক্রিয়ার কথা তুলে না ধরা হবে আর এক বড় ভুল।

গুরুতর প্রশ্ন, এ নাগরিকত্ব বিল পাসের পরে আসামের নাগরিকত্ব অ-প্রমাণিত থেকে যাওয়া প্রায় ১৭ লাখ মুসলমানের কী হবে? রোহিঙ্গাদের মতো তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হবে? অথবা মোদি উসকানি ও ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্যের কারণে জীবনের ভয়ে তারা আসাম ছেড়ে বাংলাদেশের দিকে ঢল নামাবে, নাকি বাধ্য করা হবে। আমাদের উচিত হবে যেকোনো কিছুর আগে এনিয়ে মোদির সাথে ‘ডায়লগ ওপেন’ করা। মোদিকে আগে থেকেই সংযত করা, আমাদের উদ্বেগের কথা বলা এবং প্রতিশ্রুতি আদায় করা হবে আমাদের প্রাথমিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ। অন্যথায় আমাদের সরকারকে অজনপ্রিয় হওয়ার অপ্রয়োজনীয় রিস্ক নিতে হবে।

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
goutamdas1958@hotmail.com

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

mersin escort mut escort mersin escort canlı tv izle konya escort
sakarya escort sakarya escort sakarya escort sakarya escort sakarya escort
sakarya escort sakarya escort ümraniye escort serdivan escort
ankara escort ankara escort bayan escort ankara
Balıkesir escort Manisa escort Aydın escort Muğla escort Maraş escort Yozgat escort Tekirdağ escort Isparta escort Afyon escort Giresun escort Çanakkale escort Trabzon escort Çorum escort Erzurum escort Zonguldak escort Sivas escort Düzce escort Tokat escort Osmaniye escort Didim escort Kütahya escort Mardin escort Van escort Yalova escort Şanlıurfa escort Ordu escort Alanya escort Fethiye escort Sakarya escort Konya escort Elazığ escort Kayseri escort Hatay escort Diyarbakır escort Kocaeli escort Gaziantep escort Adana escort Van mutlu son Maraş mutlu son Şanlıurfa mutlu son Isparta mutlu son Amasya mutlu son Afyon mutlu son Denizli mutlu son Kayseri mutlu son Eskişehir mutlu son Tekirdağ mutlu son Adana mutlu son Çanakkale mutlu son Kayseri mutlu son Denizli mutlu son Tokat mutlu son Yalova mutlu son Sivas mutlu son Kırklareli mutlu son Osmaniye mutlu son Mardin mutlu son Zonguldak mutlu son