আন্তর্জাতিক

মানবদেহে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনে সাফল্য, তৈরি হচ্ছে এন্টিবডি

টাইমস ২৪ ডটনেট, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রাথমিকভাবে মানবদেহে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাকসিন প্রয়োগে সাফল্য দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। মানবদেহে এ ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর নিরাপদে শরীরে প্রবেশ করে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি সিস্টেম) বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ১ হাজার ৭৭ জনের ওপর ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করে দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে তাদের শরীরে এন্টিবডি ও শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি করছে। তবে সংক্রমণের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এটি যথেষ্ট কিনা তার জন্য বড় আকারের পরীক্ষা চলছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের সরকার ১০০ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন নিতে অক্সফোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম করোনার অস্তিত্ব শনাক্ত হয়। এরপর তা ছড়িয়েছে সারা বিশ্বেই।
করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই ভ্যাকসিনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ২০টিরও বেশি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে এরই মধ্যে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনটি মানবদেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টিতে কার্যকর। দশ জন অংশগ্রহণকারীর একটি সাব-গ্রুপ গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার ৭৭ জনের দেহে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট প্রয়োগ করা হয়। ফলাফলে দেখা গেছে পরীক্ষার ৫৬ দিন পর্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টিবডি উৎপাদন ও টি-সেল রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলেছে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পর এই ফল আরও বেশি হতে পারে।
গত ছয় মাসে ছয় লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে একটি ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় ছিল সারা বিশ্ব। কয়েক মাসের অবিরাম চেষ্টা ও গবেষণার পর অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের ফলাফল বিশ্ববাসীকে আশার আলো দেখাবে।

মানবদেহে করোনার ভ্যাকসিন পরীক্ষা চলছে
অ্যাস্ট্রাজেনেকরা লাইসেন্স করা এই ভ্যাকসিনটির নাম সিএইচএডিওএক্সওয়ান এনকোভ-১৯ (ChAdOx1 nCoV-19)। এই ভ্যাকসিন তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘সিএইচএডিওএক্সওয়ান’ ভাইরাস, যা মূলত সাধারণ সর্দিকাশির দুর্বল ভাইরাস (অ্যাডেনোভাইরাস) হিসেবে পরিচিত। এটি শিম্পাঞ্জিকে সংক্রমিত করে। গবেষকেরা এ ভাইরাসের জেনেটিক পরিবর্তন করেছেন, যাতে তা মানুষের ক্ষতি না করে। সব পরীক্ষা সফল হলে অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ আশা করছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তারা কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বাজারে দিতে পারবে।
অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন গবেষণার নেতৃত্বে থাকা অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট বলেন, আমাদের ভ্যাকসিনটি মহামারি ঠেকাতে পারবে কিনা তা নিশ্চিত হতে আরও অনেক কাজ বাকি আছে। কিন্তু প্রথম ধাপের পরীক্ষার ফল আশাব্যঞ্জক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জানিয়েছে, অন্তত ১৪০টি টিকা আবিষ্কারের প্রকল্প চলছে সারা বিশ্বে। তার মধ্যে অন্তত ১৩টি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।
গবেষণা দলের প্রধান অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অ্যান্ড্রিউ পোলার্ড বলেন, আমরা আশা করছি এই ফলাফলের অর্থ হলো শরীরের ইমিউন ব্যবস্থা ভাইরাসটিকে চিহ্নিত করতে পারবে এবং আমাদের ভ্যাকসিন মানুষকেব দীর্ঘ সময়ের জন্য সুরক্ষা দেবে।

সূত্র: ঢাকাটাইমস ও যুগান্তর।

ট্যাগ সমূহ
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

mersin escort mut escort mersin escort canlı tv izle konya escort
sakarya escort sakarya escort sakarya escort sakarya escort sakarya escort
sakarya escort sakarya escort ümraniye escort serdivan escort
ankara escort ankara escort bayan escort ankara
Balıkesir escort Manisa escort Aydın escort Muğla escort Maraş escort Yozgat escort Tekirdağ escort Isparta escort Afyon escort Giresun escort Çanakkale escort Trabzon escort Çorum escort Erzurum escort Sakarya escort Konya escort Elazığ escort Kayseri escort Hatay escort Diyarbakır escort Kocaeli escort Gaziantep escort Adana escort