লাইফ স্টাইল

ভালাবাসা দিবস নিয়ে যত কথা

জিয়াউদ্দীন চৌধুরী (জেড সেলিম) টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা :গোটা বাঙালি জাতি একটা ভয়ঙ্কর মহামারি ব্যাধিতে ভুগছে। রোগটা একটা মানসিক ব্যাধি, নাম যার ‘হীনম্মন্যতা’। এই রোগে বেশি আক্রান্ত এদেশের আঁতেল সমাজ অর্থাৎ তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজ তথা মসিজীবীরা। বাংলাদেশে বিজাতীয় অপসংস্কৃতি কথিত ভালবাসা দিবসের আমদানিকারক হচ্ছে শফিক রেহমান ম্যাগাজিন যায়যায়দিন পত্রিকার মাধ্যমে এর প্রচার চালান। বাঙালি সমাজে প্রচলিত এরূপ বহু অপসংস্কৃতির সাথে একটি সাম্প্রতিক সংযোজন হচেছ “ভ্যালেন্টাইন’স ডে”, যা “ভালবাসা দিবস” নামে বাঙালী সমাজের যুবক-যুবতীদের মাঝে ঢুকে পড়েছে এবং ক্রমে জনপ্রিয়তা লাভ করছে,বাংলাদেশে এ দিবসটি পালন করা শুরু হয় ১৯৯৩ইং সালে। কিছু ব্যবসায়ীর মদদে এটি প্রথম চালু হয়। অপরিণামদর্শী মিডিয়া কর্মীরা এর ব্যাপক কভারেজ দেয়। আর যায় কোথায় ! লুফে নেয় বাংলার তরুণ-তরুণীরা। আমরা কেন পশ্চীমাদের অপসংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হবো? আমাদের সমাজের কৃষ্টি ও রীতিনীতি আজো পশ্চিমা বিশ্বের তুলনায় অনেক উন্নত। আমাদের সমাজে রয়েছে পারিবারিক বন্ধন ও সুসম্পর্ক। আমরা তো তা হারাতে পারি না। ১৮ বছর বয়সে পশ্চীমাদের ছেলেমেয়েরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ওদের মা দিবস বা বাবা দিবস প্রয়োজন, ওরা অপরিষ্কার থাকে তাদের ওযু গোসল নেই; টিস্যুই পরিচ্ছন্নতার একমাত্র ভরসা আর দুর্গন্ধ এড়াতে কৃত্রিম পারফিউম ব্যবহার করা। ওদের বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের প্রয়োজন থাকতে পারে, আমাদের প্রয়োজন নেই। ওদের কাছ থেকে আমাদের শেখার কিছু নেই। আমাদের প্রয়োজন আমাদের ইতিহাস অধ্যয়ন করা। আমাদের ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস। ইতিহাসের জ্ঞানই পারে হীনম্মন্যতা নামক মানসিক ব্যাধি থেকে মুক্তি দিতে। আমাদের পূর্বপুরুষরা যখন মসলিন, রেশমী ও সুতি কাপড় পরতো, তখনও ওরা গাছের ছাল বাকল দিয়ে তৈরি পোশাক পরতো। সুতরাং বাঙালীদের হীনম্মন্যতার কোনো কারণ নেই ।
প্রথমেই জেনে নিব ভালোবাসা কি? : ভালোবাসাকে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন।একে কিভাবে মোহ ও যৌনকামনা থেকে পৃথক করা যায় ? দার্শনিক ও মনোবিজ্ঞানীগণ ভালোবাসাকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছেন অথবা ন্যূনতম মোহ ও যৌন কামনা থেকে ভালোবাসাকে পৃথক করেছেন । যদি তুমি ভালোবাসার সংজ্ঞা খুঁজতে চাও, তবে নিচের অনুচ্ছেদটি তোমাকে সাহায্য করবে ।
১ভালোবাসার আভিধানিক অর্থ । বিভিন্ন ভাবে অভিধানে ভালোবাসাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে ।ভালোবাসা হলো :ক)একটি জোরালো আবেগ, অনুরাগ বা সুখানুভব। যেমন, কাজের প্রতি ভালোবাসা। খ)কোন বস্তুর প্রতি উষ্ণ আবেগ বা মনোনিবেশ করা বা পছন্দ করা। যেমন, আমি বাংলাদেশী খাবার ভালোবাসি।গ)প্রিয় ব্যক্তি বা প্রিয়জনের প্রতি স্নেহ আদর কোমলতা প্রকাশে।ঘ)যৌন আকাঙ্খা বা আবেগের গভীর অনুভূতি। যেমন, সে তার স্বামীকে ভালোবাসে।ঙ)যৌন ভালোবাসা। দুজন ব্যক্তির মধ্যে যৌন মিলন, সহবাস।
২) গ্রীকরা ভালোবাসাকে চার ধাপে সংজ্ঞায়িত করেছে:ক)Agape হলো শর্তহীন ভালোবাসা। যেমন, সৃষ্টিকর্তা আমাদের ত্রুটিসহ আমাদের ভালোবাসেন।খ)Phi Leo হলো সেই ভালোবাসা যা আমাদের পছন্দ বা স্বাস্থকর বা অস্বাস্থকর প্রয়োজন বা আশক্তি দ্বারা আকৃষ্ট।গ)Storge হলো পারিবারিক ভালোবাসা। অনেক সময় বন্ধুত্বটাও এই ভালোবাসার মধ্যে পড়ে ।ঘ)Eros হলো শারিরীক যৌন আকাঙ্খা।৩. মনোবিজ্ঞানীরা ভালোবাসাকে তিনটি পর্যায়ে ফেলেছেন:ক)তীব্র অনুভূতি: যা থেকে শারিরীক আকাঙ্খা তৈরী হয়।খ)অন্তরঙ্গতা: যা থেকে একে অপরের কাছে আসা।গ)অঙ্গীকার: যেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, আমরা ভালোবাসি।৪. বলা হয় যে, ঈশ্বরের সবচেয়ে মহান এবং জটিল সৃষ্টি হচ্ছে ভালোবাসা; এমনকি ঈশ্বরই ভালোবাসা।৫. ভালোবাসা শুধুই একটি অনুভূতি নয়, এটা এক সক্ষমতা ।৬. নিজের মত করেও ভালোবাসাকে সংজ্ঞায়িত করা যায়। এজন্য ভালোবসা সম্পর্কে তোমার আবেগ এবং ভাবনা প্রথমে চিহ্নিত কর এবং লিখে রাখ । কারো প্রতি ভালোবাসার মুহুর্তটিতে সর্তক থাকো।
হরমোনের প্রভাব :ভালোবাসা আর কিছু নয়, অক্সিটোসিন নামে একটি হরমোনের কারসাজি মাত্র। এই অক্সিটোসিন মানুষকে একে অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। তাতেই মানুষ মানুষকে ভালোবাসে, সম্মান করে, করুণা দেখায়, সহানুভূতিতে অভিষিক্ত করে। এমনিতে পৃথিবীতে মানুষের সঙ্গে সবচেয়ে জটিল সম্পর্ক মানুষেরই। মানুষের সঙ্গে এত বিচিত্র সম্পর্কে সম্পৃক্ত নয় অন্য কোনো প্রাণী। রাগ-ঘৃণা-ঈর্ষা-হিংসা-ভয় নামক অনেক নেতিবাচক অনুভূতির পরও শেষ পর্যন্ত মানুষ একে অন্যের সঙ্গে প্রীতির সম্পর্কে আবদ্ধ হয়। আর মানুষকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তার শরীরের ভেতর বিরাজমান যে বস্তুটি সেটি হলো অক্সিটোসিন হরমোন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন এক তথ্য আবিষ্কারের ঘোষণা দিলেন বিজ্ঞানীরা। এর মাধ্যমেই ফুটে ওঠে মা-শিশুর অনন্য মায়া-মমতা আর বড় হলে নারী-পুরুষের চিরায়ত আকর্ষণ। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। গবেষণাটি মোট ৪৪ জন অংশগ্রহণকারীকে পর্যবেক্ষণ করে অনুষ্ঠিত হয়। তাদের প্রথমে অক্সিটোসিন হরমোন দেওয়া হয়। নিজেদের মুখের ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। অবশ্য এর আগে তাদের নিজের মুখকে এভাবে পরিবর্তিত করা হয় যাতে নিজেদের মুখের সঙ্গে মানুষের যে পরিচিতি, তা যেন অস্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু গবেষকরা দেখেছেন, নিজের মুখ ও অন্যের মুখ দুটোই অপরিচিত হওয়া সত্ত্বেও মানুষ অনেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যেন নিজের ছবিটির দিকে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকায়।গবেষণাপত্রটি ছাপা হয়েছে সাইকোনিউরোন্ডক্রিনোলজি নামে একটি জার্নালে।গবেষণায় দেখা গেছে, অক্সিটোসিন হরমোনের প্রভাবে মানুষের মধ্যে আপন-পর বোধ জাগে। এটা এমন এক হরমোন, যা মানুষকে সামাজিক জীব হিসেবে বেঁচে থাকার ব্যাপারে প্রণোদিত করে এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা, যোগাযোগ তথা ইন্টারঅ্যাকশনের মাধ্যমে ত্যাগ-তিতিক্ষায়ও উদ্বুদ্ধ করে। তাদের মতে, অক্সিটোসিন বা লাভ হরমোন মানুষের মনে অন্য মানুষের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটায়। নিউরোসাইকোঅ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশনের গবেষকদের একজন ড. ভ্যালেন্টিনা কলোন্নেল্লো বলেন, ‘সামাজিক বন্ধন, পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা, সঙ্গী-সঙ্গিনী নির্বাচন, মাতৃত্ব বা পিতৃত্ববোধ প্রকাশের মূলে কাজ করে এই হরমোন। এটা এমন এক জিনিস, যা মানুষের মনে আপন-পর বোধ এবং সে অনুযায়ী সম্পর্কের বিন্যাস সাধন করে থাকে।ভালোবাসা দিবস বা সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’স ডে (সংহ্মেপে ভ্যালেন্টাইন’স ডে নাম পরিচিত) একটি বার্ষিক উৎসবের দিন যা ১৪ই ফেব্রুয়ারি প্রেম এবং অনুরাগের মধ্যে উৎযাপিত করা হয়।
ভালবাসার সম্পর্ক ভাল রাখতে যা প্রয়োজন : এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন অনেক প্রেমিক প্রেমিকা ভালবাসা অনেক সাধনার ব্যাপার, তাড়া হুড়ো কওে কখনো ভালবাসা হয় না। ভালবাসার সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন শুধু ভালবাসা ভালোবাসার বিনিময়ে শুধু ভালবাসাই মিলে অন্য কিছু নয়। আপনার সঙ্গীকে সঙ্গীকে সুখী করতে, আপনার প্রেমকে দির্ঘদিন বাচিয়ে রাখতে আর মজবুত করতে কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে। চলুন দেখে নেই সেই নিয়মগুলো কি…

 ভ্যালেন্টাইনের আগেই তাকে বলে রাখুন আপনি ভ্যালেন্টাইন ডে সেলিব্রেট করা পছন্দ করেনা। হঠাৎ করে এই দিনটিতে একগুচ্ছ ফুল নিয়ে হাজির হন তার কাছে।

 ১৩ই ফেব্র“য়ারী রাত ১২টার আগে সুন্দর একটি এস এম এস তৈরী করে রাখুন ১২টা বাজলেই পাঠিয়ে দিন আপনার কাঙ্খিত নম্বরটিতে।

 সম্ভব হলে ১৩ তারিখ রাতেই পাঠিয়ে দিন সুন্দর কোন গিফট।

 আমরা প্রায় সবাই একই ধরনের একটা ভুল করে থাকি। তাহলো, আমরা ধওে নেই বেউ যখন আমাকে ভালবাসবে তখন আমার স্বর জেনেই ভালবাসবে এই ধরানা মনের ভিতর পুসে রাখা একেবারেই অনুচিত।

 স্বাধীনতা ভোগ কারার অধিকার সবারই রয়েছে আমরা সবাই চাই স্বাধীনভাবে চলতে, তাই প্রিয় মানুষটিকেও স্বাধীনতা দেয়া উচিত। সেই সাথে এর ভালমন্দ পছন্দ অপছন্দ, চাওয়া পাওয়া বন কিছুর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

 কথা দিয়ে কথা রাখার চেষ্টা করুন। আপনার সঙ্গিটি আপনার জীবনেরই আশা তার মাঝে সমস্ত কিছু শেয়ার করার চেষ্টা করুন। তার কাছে কোন কিছু গোপন করবেন না বা তাকে কখনো মিথ্যে বলবেন না।

 সবসময় চেষ্টা করুন প্রিয় মানুষটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। প্রিয় মানুষটিকে বেশী সময়ের জন্য অপেক্ষায় রাখবেন না। কোথাও দেখা করার কথা থাকলে সময় মতো উপস্থিত হন। দেরী হলে মোবাইলে বলে দিন যে একটু দেরী হতে পারে।

 দুটি মানুষ দুটি মতাদর্শনের , দুটি ধারার হবে এটাই স্বাভাবিক। আপনার মতের সঙ্গে মিলছেনা বলে আপনি পাত্তাই দিবেন না, এই ভুলটি করবেন না, তার মতামতকে গুরুত্ব দিন, গ্রহন করুন । তাকে বোঝান তার মতামতের যথেষ্ট গুরুত্ব আছে আপনার কাছে। দেখবেন যে ও আপনার মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে।

 একজন মনের ভেতরে ভালো মন্দ দুদিকই থাকে। যখন কাউকে জীবনসঙ্গী করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তখন তার ভালো দিকের সাথে মন্দ দিকটিও মেনে নেওয়া উচিত। একজন সত্যিকারের মানুষের উচিত হবে প্রিয় মানুষটির মন্দ দিকগুলো তাকে বুঝিয়ে সঠিক পথে নিয়ে আসা।

 দুজন মিলে যখন কোন বিষয়ে কথা বলবেন তখন শুধু আপনিই বলে যাবেন এটা করবেন না, তার কথা শুনুন মনযোগ দিয়ে, তার কথাকে প্রাধান্য দিন। দুজনের কথা থেকে ভালো একটি সমাধান বের হয়ে আসতে পারে।

 সন্দেহ থেকে দুরে থাকুন। যে সম্পর্কের মধ্যে সন্দেহ প্রবেশ করবে সে সম্পর্ক না রাখাই ভালো বিশ্বাস ছাড়া কোন সম্পর্ক টিকে থাকতে পারেনা যে বিষয় নিয়ে সন্দেহ করছেন সে বিষয় নিয়ে সঙ্গীর সাথে কথা বলুন। তৃতীয় কোন পক্ষকে এই বিষয়ে টানবেন না।

 ভুল সঙ্গী পছন্দ করছেন? অথবা আসক্তির মতো খারাপ দিক? একই ভুল বার বার করছেন? যদি আপনার সম্পর্ক ভালো না হয়, তাহলে কিভাবে ভালবাসি বলতে হবে তা জেনেও লাভ হবেনা। তাই সঙ্গীর ভুল গুলোকে ধরিয়ে দিন।

 ভালোবাসার আগে ভালোভাবে জেনে নিন। সম্ভব হলে তার পরিচিত কারো সঙ্গে কথা বলে নিন। মনে রাখেবেন। মনে রাখবেন ভালোসাবা কখনো একতরফা ভাবে হয় না। দুজন দুজনকে ভালোভাবে জানার পরই দীর্ঘসূত্রতায় রাজি হন। ভালোসাবা কে কখনো খেলা হিসেবে নিবেন না।

 তার মতো যেন যাকে আপনি পছন্দ করেন । শ্রদ্ধা করুন অর্থপূর্ন কাজ করুন, সামাজিক কাজে যুক্ত করুন। আপনার আগ্রহকে যুক্ত করুন। আবিষ্কার করুন। এবং আপনার সঙ্গীর সঙ্গে শেয়ার করুন। ভালোবাসা বাড়বে। দুজন যদি দুজনের কাছে পরিষ্কার থাকেন তাহলে কোন সমস্যাই সমস্যা সৃষ্টি করতে পারবে না।

 খেয়াল করুন কি আপনাকে যখন মুভি, কৌতুক অথবা কনিকলাম যাই আপনার পছন্দ আলাদা করুন। ভালবাসি বলার আগে মনে রাখুন আপনার সঙ্গীর সেন্দা অথাবা হিউমার আপনার থেকে আলাদা হতেই পারে। তাই হলে তাকে আপনি অবহেলা করবেন সেটা ঠিক হবেনা। বরং এটিকে শ্রদ্ধা করুন। হতে পারে তা সেন্দ অন হিউমার আপনাকে অবাক করবে ।

 দিনে একবার হলেও চেষ্টা করুন ও ষড়াবফ ুড়ঁ’ বলতে । এই কথাটি বলার মধ্যে সত্যি না আনন্দ পাওয়া যায়। তার চেয়ে বেশী আনন্দ পাওয়া যায় শুনতে। আপনি প্রেমিক অথবা প্রেমিকা যাই হোন না কেন ইংরেজিতে ও ষড়াবফ ুড়ঁ’ না বলে বাংলা বলুন ‘‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’’।

 প্রত্যেকটি মানুষই চায় তার প্রিয় মানুষটি তাকে ভাবুক, তার সঙ্গেই শুধু কথা বলুক ভীড়ের মধ্যে বা কোন অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে কথা বলুক। থাকুক। চেষ্টা করুন আপনার সঙ্গীর চাহিদা গুলো পূরন করুন তবে মনে রাখিবেন খুব বেশী বেধে রাখার চেষ্টা করবেন না। হিতে বিপরীত হতে পারে।

 বিয়ের আগে এক ধরনের জীবন থাকে। বিয়ের পর সেটা পরিবর্তিত রুপ দেখা যায়। এটা নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। জীবনে পরিবর্তন আসবে এটা মেনে নিতে হবে। এবং মেনে নেওয়াটাই হবে স্বাভাবিক ব্যাপার। বিয়ের পর হয়তো আপনি কিছুটা হলেও আলাদা হয়ে যাবেন। নানা ধরনের পরিবর্তন আসবে তখন। দৈনন্দিন রুটিন অথবা অর্থনৈতিক সংগ্রাম আসতে পারে এবং আপনি তখনই সফল হবেন যখন আপনি এগুলো ঠিক মতো কওে পরিচালনা করতে পরবেন। তাই বলে ভালবাসি বলতে ভুলবেন না। জীবন যত কঠিনই হোক না কেন তাকে বহন করে নিতে হবে। তাহলে দেখবে সেও আপনার প্রতি আপানারই মতো সম্মান ভালবাসবে।

 ভালবাসাকে ধরে রাখার জন্য ব্যাগ সবচেয়ে জরুরী বন্ধন কে দুর রাখতে সহৃদয় এবং সহমর্মী হওয়া উচিত। সাথে মনের মিল রাখাও খুব জরুরী।

 বর্তমানে ভ্যালেন্টইনডে পালনঃ এখন অনেকে হ্যাপি ভ্যালেন্টাইনসডে না বলে ভ্যালেন্টইনসডে না হলে হ্যাপি হলমার্কডে বলে থাকে। আমেরিকানরা ভ্যালেন্টাইনসডে উপলক্ষে ১৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যায়ে কার্ড আদান প্রদান করে থাকে। বৃটেনে ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে ২২ মিলিয়ন পাউন্ড রিয়ান ফুল কেনা বেচা হয়। ক্রিসমাসের পর ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে নিম্নে সব চেয়ে বেশী কার্ড কেনা বেচা হয়। ভ্যালেন্টাইনস গিফট হিসেবে বিক্রয় হচ্ছে। ভ্যালেন্টাইনস ডেকে লক্ষ রেখে আমেরিকায় ১৯৮৭ সালে হীরার গয়না তৈরী শিল্প গড়ে ওঠে। ভ্যালেন্টাইনস উপহার সাধারনত প্রেমিকা বা স্বামীরা তাদের স্ত্রীদেও দিয়ে থাকে। এসব পন্য ছাড়া ও বিভিন্ন ধরনের সেবার ছাড় দেয়া হয় ভ্যালেন্টাইনস ডে তো নামী দামি থেকে ছোট খাটো মেঠেল গুলো ১৪ই ফেব্র“য়ারীতে তাদেও সেবায় বিভিন্ন আকর্ষনীয় উপহার দিয়ে থাকে। নৌবিহারের ও আয়োজন করা হয় এ উপলক্ষে। স্ত্রী বা প্রেমিকাকে হতবাক কওে দেয়ার জন্য ধনী স্বামীরা নানা রকম আয়োজন কওে থাকে ভ্যালেন্টাইনস ডেতে। বহু ঘটনার কাহিনী রয়েছে ভ্যালেন্টাইনস ডেকে ঘিরে।

ভালবাসা দিবস কী? :বছরে মাত্র একটি দিন ও রাত প্রেম সরোবরে ডুব দেয়া, সাঁতার কাটা, চরিত্রের নৈতিক ভূষণ খুলে প্রেম সরোবরের সলিলে হারিয়ে যাওয়ার দিবস হচ্ছে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বা ‘ভালবাসা দিবস’। সারাবিশ্বে ভ্যালেন্টাইন ডে পালিত হয় প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারী।

ইতিহাসে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ :‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’র ইতিহাস প্রাচীন। এর উৎস হচ্ছে ১৭শ’ বছর আগের পৌত্তলিক রোমকদের মাঝে প্রচলিত ‘আধ্যাত্মিক ভালবাসা’র উৎসব। এ পৌত্তলিক উৎসবের সাথে কিছু কল্পকাহিনী জড়িত ছিল, যা পরবর্তীতে রোমীয় খৃষ্টানদের মাঝেও প্রচলিত হয়। এ সমস্ত কল্প-কাহিনীর অন্যতম হচ্ছে, এ দিনে পৌত্তলিক (অগ্নি উপাসক) রোমের পৌরাণিক কাহিনীতে বর্ণিত রোমিউলাস নামক জনৈক ব্যক্তি একদা নেকড়ের দুধ পান করায় অসীম শক্তি ও জ্ঞানের অধিকারী হয়ে প্রাচীন রোমের প্রতিষ্ঠা করেন। রোমানরা এ পৌরাণিক কাহিনীকে কেন্দ্র করে ১৫ ফেব্রুয়ারী উৎসব পালন করত। এ দিনে পালিত বিচিত্র অনুষ্ঠানাদির মধ্যে একটি হচ্ছে, দু’জন শক্তিশালী পেশীবহুল যুবক গায়ে কুকুর ও ভেড়ার রক্ত মাখত। অতঃপর দুধ দিয়ে তা ধুয়ে ফেলার পর এ দু’জনকে সামনে নিয়ে বের করা হতে দীর্ঘ পদযাত্রা। এ দু’যুবকের হাতে চাবুক থাকত, যা দিয়ে তারা পদযাত্রার সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে আঘাত করত।

ট্যাগ সমূহ
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

mersin escort mut escort mersin escort canlı tv izle konya escort
sakarya escort sakarya escort sakarya escort sakarya escort sakarya escort
sakarya escort sakarya escort ümraniye escort serdivan escort
ankara escort ankara escort bayan escort ankara
Balıkesir escort Manisa escort Aydın escort Muğla escort Maraş escort Yozgat escort Tekirdağ escort Isparta escort Afyon escort Giresun escort Çanakkale escort Trabzon escort Çorum escort Erzurum escort Zonguldak escort Sivas escort Düzce escort Tokat escort Osmaniye escort Didim escort Kütahya escort Mardin escort Van escort Yalova escort Şanlıurfa escort Ordu escort Alanya escort Fethiye escort Sakarya escort Konya escort Elazığ escort Kayseri escort Hatay escort Diyarbakır escort Kocaeli escort Gaziantep escort Adana escort Van mutlu son Maraş mutlu son Şanlıurfa mutlu son Isparta mutlu son Amasya mutlu son Afyon mutlu son Denizli mutlu son Kayseri mutlu son Eskişehir mutlu son Tekirdağ mutlu son Adana mutlu son Çanakkale mutlu son Kayseri mutlu son Denizli mutlu son Tokat mutlu son Yalova mutlu son Sivas mutlu son Kırklareli mutlu son Osmaniye mutlu son Mardin mutlu son Zonguldak mutlu son