‘ভালবাসি’ মুখে বলতে হয়না

দুর্গা বেরা
যখন তুমি বলো-তোমার কাজ তুমি করো। বাকিটা আমি সামলাবো।
ঠিক তখনই আমার মাথার উপর অনন্ত আকাশটা হয়ে যায় রাশ-মঞ্চের ধোঁয়া ওঠা নকশি শামিয়ানা।

আমি খুব রেগে গেলে, শান্ত কন্ঠে যখন বলো– চিৎকার করো না, শরীর খারাপ করবে যে, আগের মাসে প্রেশারটা কিন্তু মাপাওনি।
ঠিক তখনই দেখতে পাই — অবিরাম বাদলে কচিপাতার সজীবতা, আর তোমার মধ্যে দেখি আমার অখণ্ড ভালোথাকা।

যখন, অজান্তে পিছন থেকে সামনে এসে দুহাতে গাল টেনে ধরো, আর আমি উহ্ করতেও পারিনা।
ঠিক তখনই ফিরে পাই হাজারটা আনকোরা বসন্ত।

প্রসাধনী লাগানোর পর যখন মুখটা সামনে বাড়িয়ে বলো- দেখো আমি তোমার চেয়েও ফর্সা হয়ে গেছি না?
ঠিক তখনই, আমার ভিতরে আড়মোড়া ভাঙে এক বিশ্বসুন্দরী।

আমার উদরের ভাঁজ টেনে যখন বলো- কিচ্ছু দরকার নেই, আমি বলছি- এই মেদ দিয়েই তুমি একদিন মেদিনী জয় করবে।
হাসতে হাসতে আহ্লাদী মনটা নবমুকুলিত মেদহীন তরুণী হয়ে ওঠে।

যখন বলো– আঘাত পেয়েছো বলেই লিখতে পারো।
ঠিক তখনই আমার কলমটা হয়ে ওঠে শাণিত তরবারি, আমার মধ্যে উঁকি মারে বুক চিতিয়ে পদক্ষেপ নিয়ে ফেলা ঝাঁসির রানী লক্ষ্মী বাঈ।

আর, যখন আমার কলম থামিয়ে দিয়ে বলো– লেখা হয়ে গেলে আমাকে প্রথম দেখাবে।
তখনই আমার ঐ অসমাপ্ত-লেখনী কালজয়ী হয়ে যায়।

মেঝেতে বসলে যখন খুব রেগে গিয়ে বলো- তোমার না নীচে বসা বারণ? এ কথাও কি মনে করিয়ে দিতে হবে? কী লোক রে বাবা! আমার কথা না হয় বাদ-ই দিলাম, ডাক্তারবাবুর কথাও মানবে না! আবার বিছানায় পড়লে! পায়চারি করে ফিরে এসে যখন বলো – এ রকম চললে আমি তোমাকে বাঁচাতে পারব?
এই ভাবে, কতবার যে আমার পরমায়ু দ্বিগুণ হয়েছে —!

নিজের উৎকণ্ঠা থামিয়ে, অনেক পরে একটা লম্বা শ্বাস ফেলে, পাশে বসে শান্ত স্বরে যখন বলো- আমি শুধু চাই, তুমি আমার আগে মরো। নতুবা একসাথে।
তখনই মন বলে- সাতজন্ম বন্ধনের এটা যেন প্রথম জন্ম হয়।

———————————–
[একুশতম বিবাহবার্ষিকী’তে ব‍্যক্তিগত উপলব্ধি]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

etiler escort taksim escort beşiktaş escort escort beylikdüzü