রাজনীতি

বিশ্বের সংকট কাটাতে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা প্রস্তাব

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: মহামারি করোনাভাইরাসের ফলে বিশ্ব এক মহাসংকটকাল অতিক্রম করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিগত একশ বছরে বিশ্ব এত বড় সংকটে পড়েনি। এজন্য এই সংকট কাটাতে সমন্বিত দায়িত্বশীলতা ও অংশীদারিত্বমূলক মনোভাবের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশ্ব সম্প্রদায়কে একসঙ্গে সংকটের মোকাবিলা করতে আহ্বান জানিয়ে পাঁচ দফা প্রস্তাবও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার বিষয়ক এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
‘এনহ্যান্সিং রিজিওন্যাল কো-অপারেশন ইন সাউথ এশিয়া টু কমব্যাট কোভিড-১৯ রিলেটেড ইমপ্যাক্ট অন ইটস ইকোনোমিকস’ শীর্ষক এ ভার্চুয়াল সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)। বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্ব সম্ভবত গত একশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি। সুতরাং সবাই একসঙ্গে সংকটের মোকাবিলা করা দরকার। প্রতিটি সমাজ থেকে সমন্বিত দায়িত্বশীলতা এবং অংশীদারিত্বমূলক মনোভাব প্রয়োজন।’

বিচ্ছিন্নতার নীতি বাস্তবমুখি নয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্ব ইতিমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই করছে। এখন, করোনাভাইরাস আমাদের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে। বিশ্বায়নের বর্তমান পর্যায়ে একটি দেশকে পুরো বিশ্ব থেকে আলাদা রাখা সম্ভব নয় এবং এখানে বিচ্ছিন্নতার নীতি আর কাজ করবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানি না এই মহামারি কতদিন থাকবে। এটি ইতিমধ্যে অর্থনীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অর্থনীতি, ব্যবসা ও সমাজের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে; ভয় ও ট্রমা কাটাতে জনগণকে সহযোগিতা করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্ব একটি সংকটময় পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

সংকট কাটাতে পাঁচ দফা প্রস্তাব

বিশ্বের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচটি বিষয়ে সবাইকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী:

প্রথমত, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে দারিদ্র্য এবং বৈষম্য দ্রুত বাড়বে। গেল এক দশকে আমরা আমাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্ধেক দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে এনেছিলাম। তাদের অনেকে এখন আবার আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারে। সুতরাং, বিশ্বকে মানবকল্যাণ, বৈষম্য দূরীকরণ, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা এবং কোভিড-১৯ এর আগের অর্থনৈতিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে নতুন করে ভাবতে হবে।

দ্বিতীয়ত, আমাদের প্রয়োজন জি-৭, জি-২০ এবং ওইসিডির মতো সংগঠনগুলো হতে দৃঢ় ও পরিকল্পিত বৈশ্বিক নেতৃত্ব। জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকেও এগিয়ে আসা উচিত। আমি অধ্যাপক সোয়াবকে (বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরোমের প্রতিষ্ঠাতা) প্রশংসা করছি। কারণ তিনি সংক্রামক রোগগুলোকে ২০২০ এর বৈশ্বিক ঝুঁকি সম্পর্কিত প্রতিবেদনে অন্যতম মুখ্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সুতরাং, ফোরাম ও জাতিসংঘের উচিত সরকার এবং বিশ্ব ব্যবসাকে এ বিষয়ে একত্রিত করা এবং নেতৃত্ব দেওয়া।

তৃতীয়ত, আমরা ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী ব্যবসা, কাজ ও উৎপাদনে পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছি। কোভিড পরবর্তী সময়ে, নতুন নীতি, স্ট্যান্ডার্ড ও পদ্ধতি দেখবো। ইতিমধ্যে আমরা দেখছি সরবরাহ চেইনে থাকা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডকে যথাযথ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে না। সুতরাং, আমাদের এমন কৌশল ও বাস্তবমুখী সহায়তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যেন বাংলাদেশের মতো দেশগুলো টিকে থাকতে পারে।

চতুর্থত, অভিবাসী কর্মীরা বেকারত্বসহ অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি পার করছেন। এটি দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। সুতরাং, বোঝা ও দায়িত্ব শেয়ার করার মতো আমাদের এমন একটি অর্থপূর্ণ বৈশ্বিক কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

পঞ্চমত, এই মহামারির সময়ে আমরা কার্যকরভাবে বেশকিছু ডিজিটাল প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার করেছি। যেমন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংক্রমণ চিহ্নিত করা। ভবিষ্যতের প্রস্তুতির জন্য আমরা বিভিন্ন সেক্টরে এই রকম উদ্ভাবনীমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি।

সংকট উত্তরণে বাংলাদেশের নানা পদক্ষেপ

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বাংলাদেশের সংকটের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, মহামারির প্রাদুর্ভাবের কারণে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরবরাহ ও চাহিদা দ্বিমুখী সংকটের সম্মুখীন। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন খাতে ১১.৬০ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ ঘোষণার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্যাকেজটির মূল সুবিধা ভোগ করবে উৎপাদন ও সেবা খাত, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষামূলক খাতসমূহ। এই সহায়তা প্যাকেজটি আমাদের জিডিপির ৩.৩% এর সমান।

সংকট লম্বা হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত, আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে। তবে সংকট প্রলম্বিত হলে দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ হিসেবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে বিবেচিত হবে।

কৃষিখাত প্রায় সাড়ে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার প্রণোদনা দেয়ার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক সুরক্ষায় সহায়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় পাঁচ কোটি লোককে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করতে যাচ্ছি। ৬০০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ইতিমধ্যে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের সরবরাহের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১.১ মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিষয়টিও সরকারের সার্বিক পরিকল্পনায় রয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা।

ভার্চুয়াল এ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সভাপতি বরজ ব্রেন্ডে (Borge Brende)। করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতি ও সংকট থেকে উত্তরণের উপায় তুলে ধরেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পুনম ক্ষেত্রপাল সিং এবং ডব্লিউইএফ-এর স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য সেবার ভবিষ্যত কর্মসূচির প্রধান আর্নোড বার্নায়েট (Arnaud Bernaert) ।

সূত্র: ঢাকাটাইমস।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

mersin escort mut escort mersin escort canlı tv izle konya escort
sakarya escort sakarya escort sakarya escort sakarya escort sakarya escort
sakarya escort sakarya escort ümraniye escort serdivan escort
ankara escort ankara escort bayan escort ankara
Balıkesir escort Manisa escort Aydın escort Muğla escort Maraş escort Yozgat escort Tekirdağ escort Isparta escort Afyon escort Giresun escort Çanakkale escort Trabzon escort Çorum escort Erzurum escort Zonguldak escort Sivas escort Düzce escort Tokat escort Osmaniye escort Didim escort Kütahya escort Mardin escort Van escort Yalova escort Şanlıurfa escort Ordu escort Alanya escort Fethiye escort Sakarya escort Konya escort Elazığ escort Kayseri escort Hatay escort Diyarbakır escort Kocaeli escort Gaziantep escort Adana escort Van mutlu son Maraş mutlu son Şanlıurfa mutlu son Isparta mutlu son Amasya mutlu son Afyon mutlu son Denizli mutlu son Kayseri mutlu son Eskişehir mutlu son Tekirdağ mutlu son Adana mutlu son Çanakkale mutlu son Kayseri mutlu son Denizli mutlu son Tokat mutlu son Yalova mutlu son Sivas mutlu son Kırklareli mutlu son Osmaniye mutlu son Mardin mutlu son Zonguldak mutlu son