বিটিআরসির উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়নি: মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন

টাইমস ২৪ ডটনেট, বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা: লাইসেন্স প্রদান করার পূর্বে বাজার যাচাই-বাছাই করা উচিত ছিলো। তানা করে লাইসেন্স প্রদান করায় পূর্বের এনটিটিএন লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়বে। তবে এনটিটিএন সেবার মূল্য নির্ধারিত না থাকায় এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে মোবাইল ফোন অপারেটররা যেমন সেবা গ্রহণ করতে অনাগ্রহ দেখাবে তেমনি প্রতিষ্ঠানগুলোও অনৈতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সেবা খাতটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আজ পর্যন্ত বিটিআরসির গাইডলাইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়নি।
২০ জানুয়ারি সোমবার সকালে সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রহক এসোসিয়েশন আয়োজিত এ সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, এসএম ফরহাদ, মাইনুল হক সিদ্দিকী, ড. কামরুজ্জামান, জননেতা জুনাইদ সাকি, অ্যাডভোকেন বাবুল খানসহ অন্যান্যরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ।
সভায় এনটিটিএন’র চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের জন্য বলা হয়, লাইসেন্স নীতিমালার অনুসারে এনটিটিএন লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা বা সেবা দিতে পারবেন না। অপারেটরগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও বেশি মানুষকে সেবা দেয়ার অজুহাতে ফাইবার অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক স্থাপন ও ট্রান্সমিশন সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে বা এনটিটিএন লাইসেন্স নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে করে লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং বিটিআরসি তথা সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। টেলিকম অপারেটরগুলো নিজস্ব ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনী। এক্ষেত্রে নীতিমালা প্রয়োগ করে অপারেটরগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অবৈধভাবে অপটিক্যাল ফাইবার কোর লীজিং ব্যবসা পরিচালনা বন্ধ করতে হবে। রেলওয়ের রবি ও গ্রামীনফোনকে দেয়া টেন্ডার এনটিটিএন নীতিমালার পরিপন্থী। যদি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কোর লীজিং এর একান্ত প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে বিটিআরসির গাইডলাইন অনুযায়ী লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকেই সে সুযোগ দেয়া উচিত। বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান পিজিসিবি শুধুমাত্র তাদের সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণের জন্য এনটিটিএন লাইসেন্স নিলেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সাথে অনৈতিকভাবে ফাইবার ট্রান্সমিশন সেবা দিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। অপারেটরগুলো নিজস্ব উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করে অন্যান্য অপারেটরগুলোকে লীজ দিচ্ছে। বিটিআরসি এখন পর্যন্ত অপারেটরগুলোর জন্য ট্রান্সমিশন ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়নি। যে কারণে গ্রহকরা উচ্চমূল্যে সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছে। বিটিআরসি একটি নির্দিষ্ট ভিত্তিমূল্য ও বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দ্রুত ট্যারিফ নির্ধারণ করে দেয়া জরুরী। একই এলাকায় একাধিক কোম্পানী ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার ফলে জাতীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে। একই সাথে বিপজ্জনকভাবে ক্যাবলের জটলা দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে এবং পরিবেশের ক্ষতি করতে। এক্ষেত্রে লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য সুপারিশ করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, টেলিযোগাযোগ সেবাকে সহজলভ্য ও ব্যাপক করতে এনটিটিএন’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রযুক্তির প্রজন্মের টু-জি থেকে ফোর-জি পর্যন্ত পথচলার বড় যে বিবর্তন হয়েছে সেটিও অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ককেই ঘিরে। এনটিটিএন লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজই হচ্ছে দেশজুড়ে ফাইবার অপটিক্যাল নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি ঘটিয়ে সারাদেশে টেলিযোগাযোগ সেবাকে সহজলভ্য করা। অপারেটর ও আইএসপি কোম্পানিগুলো এনটিটিএন লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলোর কাছে এই সেবা গ্রহণ করবে। এনটিটিএন’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিলো প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহক পর্যন্ত মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেয়া। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়হীনতা, ট্যারিফ নির্ধারণ না হওয়ায় এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা না নিয়ে নন এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা গ্রহণ করায় গ্রহকরা মানহীন টেলিযোগাযোগ সেবা পাচ্ছে। এতে করে কলড্রপ, নেটওয়ার্ক দুর্বলতাসহ নানামুখী সমস্যায় পতিত হচ্ছে গ্রাহকরা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কঠোর নজরদারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই সমস্যা থেকে গ্রাহকরা মুক্তি পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

erotik film izle

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

etiler escort taksim escort beşiktaş escort escort beylikdüzü