বাংলাদেশে ২৩১৪ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: বাংলাদেশে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সারাদেশে ২ হাজার ৩১৪ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। রোববার রাজধানীর মহাখালীর আইইডিসিআর-এর কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সারাদেশে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন মোট ২৩১৪ জন। এরা সবাই বিদেশে থেকে এসেছেন। তাছাড়া আজকে ইতালিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকে এসেছেন। তারা এখন হাজী ক্যাম্পে আছেন। এছাড়া গতকাল রাতে আসা প্রবাসীদের মধ্যে গাজীপুরে আছেন ৪৮ জন। হাজী ক্যাম্পে ৭২ জন ছিলেন। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রশাসনের মাধ্যমে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তারা যেন হোম কোয়ারেন্টাইনে নিশ্চিত করতে পারে।
ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, ‘২৪ ঘণ্টায় ২০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৩১ জনের। এদের মধ্যে দুইজন করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তারা হাসপাতালে আইসোলেশন আছে। দুই জনের মধ্যে একজনের বয়স ২৯ বছর। অন্য একজনের বয়স ৪০ বছর। এক ব্যক্তির ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ রয়েছে। এতে দুজনেরই ঝুঁকি আছে বলে মনে করেন আইইডিসিআর। এখন পর্যন্ত ১০ জন হসপিটালের আইসোলেশন আছে। এছাড়া ৪ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছে।’ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের জেরে মাস্ক পরে ক্লাসে আসছে শিক্ষার্থীরা। ছবিটি সিলেটের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট
এদিকে, করোনাভাইরাস থেকে রক্ষায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। পাশাপাশি সব বিমানবন্দর, নৌ বন্দর ও স্থল বন্দরে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্তে ও মনিটরিংয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট দায়ের করেন। তিনি বলেন, সোমবার (১৬ মার্চ) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
আবেদনে সকল বিমানবন্দর, নৌ বন্দর ও স্থল বন্দরে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তিকে সনাক্তে এবং সকল বন্দরের প্রবেশমুখে মনিটরিংয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে, করোনা ভাইরাস থেকে জনগণকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না এবং করোনা ভাইরাস থেকে জনগণকে রক্ষায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না এ মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, শিক্ষা সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যেটন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রিটের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ ও দিকনির্দেশনা প্রদান-সংক্রান্ত জরুরি সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
জাহিদ মালেক আরো বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপদে রাখতে চাই। সে কারণে গত দুই মাস পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আজকের সভায় ১৮টি মন্ত্রণালয় অংশ নিয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে আমরা আমাদের পরামর্শ দিয়েছি। সে অনুযায়ী তাদের কাজ করার পরামর্শ দিয়েছি। আমরা আহ্বান করতে পারি, চাপিয়ে দিতে পারি না।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হবে কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখানে আমাদের এখতিয়ার নেই। আমরা স্বাস্থ্যগত বিষয়ে তাদের পরামর্শ দিয়েছি। বন্ধ করা না করা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।’
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ছাড়া অন্যরা খুব কম যায়। কার অসুখ হয়েছে, কার শরীর খারাপ সবাই জানে সেখানে। আক্রান্তদের মধ্যে বাচ্চার সংখ্যা খুব কম। শূন্য থেকে ৯ বছরে অলমোস্ট নেই বললেই চলে। ফলে এইসব দিক থেকে এখনই স্কুলশিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।’
সচিব বলেন, ‘অভিভাবকরা অবশ্যই আতঙ্কিত হবেন। আমিও অভিভাবক হিসেবে আতঙ্কিত। তেমন পরিস্থিতি হলে অবশ্যই সরকার বন্ধ করবে।’
শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, নতুন করে আরও দুই বাংলাদেশির শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে। এ দুজন ইতালি ও জার্মানি থেকে এসেছেন।
এর আগে গত ৮ মার্চ তিনজনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। ওই তিনজনের দুইজন ছিলেন ইতালি প্রবাসী, অপরজন ছিলেন তাদের একজনের স্ত্রী। এদের নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে।

সূত্র: পার্সটুডে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

etiler escort taksim escort beşiktaş escort escort beylikdüzü