সাহিত্য

গাড়িভাড়া বৃদ্ধি, বেতনে ধস ও পরিবহনে স্বাস্থ্য সচেতনতা!

শাহাদাৎ হোসেন মুন্না: বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাস তাণ্ডব চালাচ্ছে। আমাদের দেশও এর বাইরে নয়। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। ফলে দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজমান করছে। যদিও দেশে করোনার সংক্রমণ কমাতে দুই মাসেরও বেশি সময় (মার্চের কিছু অংশ এবং এপ্রিল-মে) ধরে দেশে লকডাউন রাখা হয়েছিলো।

এই লকডাউনের কারণে আমাদের জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়তে হয় পোশাক, কাঁচামালসহ সকল আমদানি-রফতানি প্রতিষ্ঠানকে।

এর প্রভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। একইসঙ্গে চাকরি হারিয়েছেন অনেকে। আবার কোনো কোনো অফিসে এমন পরিস্থিতিতে বাড়েনি কারো বেতন কাঠামো।

অবশেষে সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে মানুষের জীবনকে সচল রাখতে আজ সোমবার (১লা জুন) থেকে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। চলছে গণপরিবনও।

চলছে গণপরিবনও।

কিন্তু লক্ষ্যনীয় ব্যাপার সড়কের এই পরিবহন সেক্টর। তারা করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কথা জানিয়ে পরিবহনে ৮০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেন। তাদের এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিআরটিএ ৬০ শতাংশ ভাড়া বেশি নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

যদি এখানে শুধুমাত্র একটা মহলকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তাহলে এতোদিন করোনাকালে জনগণকে সকল রকম সাহায্য সহযোগিতা করাসহ সর্বশেষ নিন্ম আয়ের মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপলক্ষে যে ২৫০০ টাকা প্রণোদনা দিয়েছেন তা তো পরোক্ষভাবে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের পকেটেই যাচ্ছে। আবার, তারা এখন যে ক্ষতির কথা বলছে। যখন প্রতিটি স্ট্যান্ডে সারা বছর ধরে প্রতিদিন পরিবহনের বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের নামে যে লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা চাঁদা উঠাতো তা করোনাকালে কোথায় গেছে? এতদিন পরিবহনের নেতারা শ্রমিকদের কোনো খোঁজ নেওয়া আমাদের চোখে পড়েছে বলে মনে হয় না।

আরেকটা দিক হলো, আমাদের যদি ভাড়া বাড়িয়ে দিতে হয়। তাহলে আমাদের আয় রোজগারের যে জায়গা, সেখানে আমাদের কতটুকু সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে? আমাদের বেতন কি এমন ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে? প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহনগুলো চলতে হবে। কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে গণপরিবহনগুলো কিছুক্ষণ লোক দেখানো দূরত্ব বজায় রাখলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে গাদাগাদি করে লোকও উঠাচ্ছে, আবার যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়াও নিচ্ছে ডাবল। তাহলে তাদের প্রতি যে নির্দেশনা রয়েছে তার কোন দিকটি তারা পালন করছে?

লেখক
শাহাদাৎ হোসেন মুন্না
ভাইস চেয়ারম্যান, সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

Close
mersin escort mut escort mersin escort canlı tv izle konya escort
sakarya escort sakarya escort sakarya escort sakarya escort sakarya escort
sakarya escort sakarya escort ümraniye escort serdivan escort
ankara escort ankara escort bayan escort ankara
Balıkesir escort Manisa escort Aydın escort Muğla escort Maraş escort Yozgat escort Tekirdağ escort Isparta escort Afyon escort Giresun escort Çanakkale escort Trabzon escort Çorum escort Erzurum escort Zonguldak escort Sivas escort Düzce escort Tokat escort Osmaniye escort Didim escort Kütahya escort Mardin escort Van escort Yalova escort Şanlıurfa escort Ordu escort Alanya escort Fethiye escort Sakarya escort Konya escort Elazığ escort Kayseri escort Hatay escort Diyarbakır escort Kocaeli escort Gaziantep escort Adana escort Van mutlu son Maraş mutlu son Şanlıurfa mutlu son Isparta mutlu son Amasya mutlu son Afyon mutlu son Denizli mutlu son Kayseri mutlu son Eskişehir mutlu son Tekirdağ mutlu son Adana mutlu son Çanakkale mutlu son Kayseri mutlu son Denizli mutlu son Tokat mutlu son Yalova mutlu son Sivas mutlu son Kırklareli mutlu son Osmaniye mutlu son Mardin mutlu son Zonguldak mutlu son