“খিলক্ষেতে সরকারি জমি নিয়ে ব্যাক্তি মালিকানা দ্বন্দ্বের জেরে খুন হয় জনি”

এস.এম.নাহিদ, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : রাজধানীর খিলক্ষেতে মস্তুল বেলতলা এলাকায় বালুর গদির সামনে গত ১৩/১০/২০ইং তারিখ ফজরের নামাজের পূর্বে রাত আনু: পৌনে ৪টার সময়ে মো:জনি মিয়া (২১) নামের যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে খিলক্ষেত থানা পুলিশ।পরবর্তিতে ০৭ জনের নাম উল্লেখ করে নিহতের পিতা মো:জাইদুল মিয়া বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানাতে (৩০২/৩৪)ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যাহার মামলা নং- ১৯।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায় – নিহত মো:জনি রাজধানীর মিরপুরে সেন্ট্রাল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সিভিল ইঞ্জি:এর শেষ বর্ষের ছাত্র ছিল।করোনায় দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাড়ির নিকটস্থ বালুর গদিতে বিগত ১৫ দিন যাবৎ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিল।মূলত: জনির কাজ ছিল বালু আনা নেওয়ার কাজে নিয়োজিত সকল ড্রামট্রাকের টোকেন দেওয়া এবং হিসাব রাখা।হত্যাকান্ডের রাতেও অন্যান্য সময়ের মত পার্শ্ববর্তী বালুনদী থেকে ড্রেজারের সাহায্যে মোটা প্লাষ্টিকের পাইপের দ্বারা বালুর গদিতে বালু ভরাট হতে থাকে।রাত আনু:০১টায় জনিদের সাবেক মালিকানাধীন জমিতে বালু ভরাট হতে থাকলে মামলার অন্যান্য আসামি রাকিব,আরিফ,দুলাল মিয়া ও আব্বাসের সাথে জমির মালিকানা নিয়ে জনি মিয়ার তুমুল কথা কাটাকাটি হয়।সেই সময় থেকে রাত পৌনে ৩টার মধ্যকার যে কোন একসময়ে জনিকে গামছা দিয়ে বেধে গদির পার্শ্ববর্তী এপাচি বিল্ডিংয়ে নিয়ে ভারী বস্তু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে সম্পূর্ণ মুখ থেতলে দেয়া হয়।এমনকি ধারালো বস্তু দিয়ে জনির অণ্ডকোষ দুইটিও কেটে বের করে ফেলে খুনিরা।পরে ভেকুর সামনে বালুর গদিতে ট্রাক চলাচলের রাস্তার উপরে নিহত জনিকে ফেলে রাখা হয় লাশ গায়েব করার উদ্দেশ্যে।এপাচি বিল্ডিং এর বাথরুমের ভিতরে,সামনের সেফটি ট্যাংকির উপরে এবং সেখান থেকে বালুর গদি পর্যন্ত রাস্তার উপরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।এমনকি ঘটনার ০২ দিন পরেই ১৫/১০/২০ ইং তারিখ সকাল আনু:১০টায় বালুর গদির সামনে রাস্তার পশ্চিম পাশে সবজি ও মুরগীর দোকানের পিছন থেকে সেই রক্তমাখা গামছা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় খিলক্ষেত থানা পুলিশ।এদিকে মামলায় এজাহারভুক্ত ১নং আসামি মো:রাকিব রাত আনু:০৩টার সময়ে নিহত জনির পিতাকে তার বাড়িতে গিয়ে সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ পৌছে দিয়েই নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।

উল্ল্যেখ্য, বালুনদীর তীরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব সম্পত্তিতে গড়ে ওঠেছে অবৈধ এইসব একাধিক বালুর গদি।সরকার গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৮৯ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডেমরা হতে টঙ্গী ব্রীজ পর্যন্ত ৩০০ ফিট প্রশস্থ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় শুধু মস্তুল মৌজায় ৯৬ টি দাগে সম্পত্তি অধিগ্রহণ বিধিমালা (১৯৮৯ এর বিধি ৭ দ্রষ্টব্য) এবং অধিগ্রহণ কেস নং- ৫২/৮৯-৯০ মোতাবেক সর্বমোট ৩৩.৫৬ একর জমি সরকার গ্রহণ করে। জমি অধিগ্রহণ আইন ১৯৮৯ এর ৪ ধারার অধীনে বিগত ০৭/০৩/১৯৮৯ ইং তারিখে জেলা প্রশাসক কর্তৃক উক্ত জমির মালিকদের নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও প্রদান করা হয়। অতঃপর অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি গত ১৬/০৮/১৯৯০ ইং তারিখে সম্পূর্ণ দায়মুক্ত অবস্থাতে সরকারের অধীনে ন্যস্ত হয়। এমনকি ধারা ৯ (২) এর বিধান মোতাবেক উক্ত সম্পত্তি অধিগ্রহণের আদেশ, সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণসহ জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে গত ২১/০৩/১৯৯১ ইং তারিখে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি সরকারের ন্যস্ত হওয়ার প্রজ্ঞাপন সরকারি ভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।পরে ৩০০ফুট রাস্তার উত্তর ও দক্ষিন পাশে জনগনের সুবিধার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বড় করে একাধিক সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়া হয়।সরকারের এহেন সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যাক্তি তাদের নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য উক্ত সরকারি সম্পত্তি ভাড়া দেয়া সহ অবৈধ বালু ব্যাবসা,জুয়া ও মাদক সহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। ফলে আজ হয়ত এই অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা বালুর গদি না থাকলে উক্ত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো:জাইদুল মিয়া তার সবার বড় ও একমাত্র ছেলে জনি মিয়ার এমন নৃশংস এবং অমানবিক মৃত্যু তার জীবদ্দশায় দেখে যেতে হত না।তারপরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যদি টনক না নড়ে তাহলে ভবিষ্যতে আরো অনেক বাবা-মায়ের বুক এইভাবে খালি হয়ে যাবার আশংকা রয়ে যায় জনমনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

etiler escort taksim escort beşiktaş escort escort beylikdüzü