কুড়িগ্রামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা

ইউনুস আলী, টাইমস ২৪ ডটনেট, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রতিবেশির জমিতে গরুর ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের আরও চার জন গুরুত্বর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে অর্জুনডারা গোড়াই মুন্সিপাড়া গ্রামে।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের অর্জুনডারা গোড়াই মুন্সিপাড়া গ্রামের কাচুয়া’র(৬৪) বাছুর গরু ৩ দিন পূর্বে প্রতিবেশি আঃ মজিদের পুত্র আইনুল ইসলামের (৩৫) জমিতে নেমে ধান খায়। এ সময় আইনুলের পরিবারের লোকজন বাছুর গরুটিকে ইট ছুড়ে মারে এবং কাচুয়ার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ পারে। পরে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কাচুয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে শালিস বৈঠক ডাকা হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আইনুলের পরিবারসহ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় কাছুয়ার বাড়িতে বৈঠকে বসেন। বৈঠকের এক পর্যায়ে উভয় পরিবারের মাঝে কথা কাটাকাটি শুরু হলে আইনুলের পরিবার মিমাংসা না মেনে উঠে যান। এ অবস্থায় কাচুয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ঘরের চালে আম পড়া নিয়ে অভিযোগ তুলে আইনুলকে গাছটি কেটে ফেলতে বলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পুণরায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আইনুলের পরিবারের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কাচুয়ার পরিবারের উপর হামলা চালায়। এ সময় হামলায় কাচুয়া, তার পুত্র সাদেকুল ইসলাম (৩৫), সিদ্দিকুর রহমান (৩১), আত্বিয় এনামুল (৪৫) ও মতিউর রহমান মন্ডল (৩৮) গুরুত্বর আহত হন। পরে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে সিদ্দিকুর রহমানের মৃত্যু হয়। বর্তমানে আহতরা কুড়িগ্রাম সদর হাতপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে আশংকা জনক অবস্থা হওয়ায় মতিয়ার রহমান মন্ডলকে রাতেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবেদ আলী সরদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে পাঁচজন রোগীকে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান নামে একজন হাসপাতালে আসার পূর্বেই মারা যান। গুরুত্বর আহত হওয়ায় একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর তিন জন কুড়িগ্রাম হাতপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গরুর বাছুরের ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জের ধরে হত্যা কান্ডের ঘটনাটি ঘটে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত অভিযোগ পাওয়া যায়নি তবে পুলিশি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *