করোনা সংকট এবং লকডাউন কালে গাড়ির যত্ন

আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ্ঃ করোনা ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার রোধ এবং মহামারী সৃষ্টির আশংকা থেকে নিরাপদ থাকার লক্ষ্যে বিশ্বের অনেক দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও লকডাউন এবং কোয়ারেন্টিন চলছে। এতে করে সবার ব্যবসা- বাণিজ্য, চাকুরী, পেশাগত কাজকর্ম, দোকান, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সব বন্ধ এবং রাস্তায় সব ধরনের যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল বন্ধ। সরকার বিশেষ কোন কাজ ছাড়া রাস্তাঘাটে বের হতে নিষেধ করেছেন। এজন্য কেউই এই মুহুর্তে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হন না। তাই এখন প্রত্যেকে মনে করে নির্দিষ্ট স্থানে যত্ন সহকারে গাড়ির চাবি এবং ব্ল বুক রাখবেন। গাড়িতে ব্ল বুক রাখা নিরাপদ মনে করলে গাড়ির গ্লাব বক্সের ভেতরেই রাখুন।

বিশেষত ২ সপ্তাহের বেশি গাড়ি গ্যারেজে বসিয়ে রাখলে এবং গাড়ি প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১/২ দিন ১৫/২০ মিনিট স্টার্ট দিয়ে চেক না করলে গাড়ির ব্যাটারী বসে যাবার নিশ্চিত সম্ভাবনা আছে। অনেকেই এই ব্যাপারটি লক্ষ্য না করায় গাড়ির ব্যাটারী ডাউনের সমস্যায় পড়ছেন। লকডাউনের সময় অন্যান্য সব কিছুর ন্যায় গাড়ির ওয়ার্ক সপগুলো বন্ধ। তাই এখন কারো গাড়ির ব্যাটারী বসে গেলে তা সারানো বেশ কষ্টকর ব্যাপার হবে। আবার বেশি দিন গাড়ি গ্যারেজে বসিয়ে রাখলে গাড়ির কভার এবং গাড়ির বডির উপর ঝুলাবালির চট পড়ে বা স্তর জমে যায়। বেশিদিন বন্ধ গাড়ির ভেতর একটা গুমট গন্ধ, গ্যাস সৃষ্টি হয় এবং তেলাপোকারা বাসা বাঁধে। তাছাড়া কর্মহীনভাবে একটানা বসিয়ে রাখলে বা বসে থাকলে ড্রাইভারও অলস, অকর্মণ্য এবং কাম চোর হয়ে যাবে।

এজন্য যারা নিজেরা গাড়ি চালান এবং গাড়ির যত্ন নেন তারা তো নিজেরাই গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করবেন। আর যাদের ড্রাইভার আছে তারা এই করোনা মহামারী এবং লকডাউনের সময় ড্রাইভারদের বসিয়ে বসিয়ে মাসিক বেতন দিচ্ছেন। তাই সবাই সবার ড্রাইভারকে বলে দিন/বলে রাখুন রুটিন করে প্রতি সপ্তাহে ১ দিন অবশ্যই বাসায় আসতে এবং এসে গাড়ি ভালভাবে দেখভাল করে যেতে। ড্রাইভার বাসায় আসার পর গ্লাভস হাতে ড্রাইভারের হাতে গাড়ির চাবি দেন। সম্ভব হলে এই সময় বাসার কেউ একজন ভালভাবে সুরক্ষা নিয়ে এবং নিরাপদ দূরুত্ব বজায় রেখে গাড়ি-ড্রাইভারের সামনে থেকে অথবা জানালা/বারান্দায় দাড়িয়ে থেকে থেকে তার কাজ দেখুন। অন্তত ১০/১৫ মিনিট গাড়ি স্ট্রার্ট করে চেক করতে বলবেন। বাসার ভেতর খালি জায়গা থাকলে বা গলি থাকলে গাড়ি একটু ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে এবং আগেপরে করে চালাতে বলুন।

মাঝেমধ্যে হেড লাইট, বেক লাইট, আগে-পরে ইন্ডিকেটার জ্বালিয়ে, উইন্ডো গ্লাসগুলো উঠিয়ে-নামিয়ে, গাড়ির সব টায়ারেত সব নাট-বল্টু ঠিক মত টাইট আছে কিনা? গাড়ির সব চাকা এবং স্পেয়ার টায়ারে হাওয়া ঠিকমত আছে কিনা? প্রভৃতি চেক করা। গাড়ির বডিকে ফোম স্যাম্পু দিয়ে এবং চাকাগুলো ব্রাস, সাবান পানি দিয়ে ভালভাবে ঘষিয়ে পরিষ্কার করান। গাড়ির ভেতরের সব কিছু ভালভাবে ভেজানো কাপড় দিয়ে ধোয়ান এবং মুছিয়ে নিন। গাড়ির পাদানির সব মেট উঠিয়ে মেটগুলো সাবান দিয়ে ঘোষে ধোয়ান এবং গাড়ির মেঝে মুছে পরিষ্কার করান। বেকডালা ডাস্টার দিয়ে ভালভাবে ঝেড়ে পরিষ্কার করান। গাড়ির কভার গুড়া সাবান দিয়ে ভালভাবে ধুইয়ে দড়িতে টাঙিয়ে রোদে শুকাতে দিন। শুকালে পরে গাড়ির কভার দিয়ে গাড়ি ঢেকে দিন।

করোনা সংকট চলাকালে বিশেষ কোন প্রয়োজনে গাড়ি বের করলে গাড়িতে অবশ্যই গ্যাস, তেল ভরে নিন সিএনজি, পেট্টোল পাম্প থেকে। এছাড়া গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু গাড়ির ভেতর আছে কিনা? গাড়ির ভেতরে আর কি কি জিনিস দরকার, কি কি যন্ত্রপাতি অধিক পুরান, অচল হয়ে গেছে/যাচ্ছে, পাল্টাতে হবে, নতুন কিনতে হবে এগুলো ব্যাপার সব ভালভাবে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখুন, খেয়াল করুন এবং ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিন/রাখুন। আর এসব মনে রাখার জন্য মোবাইলে লিখে সেইভ করুন অথবা দ্রুত কাগজে লিখে লিস্ট করে তা মোবাইলে পিক তুলে রাখুন এবং লিস্টটি আপনার কোন ড্র‍য়ারে যত্ন সহকারে রেখে দিন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরে সেগুলো মটর ওয়ার্ক সপ এবং মটর পার্টস সপ থেকে কিনে গাড়িতে লাগিয়ে নিবেন।

করোনা মহামারীর আশংকা দূর এবং অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সম্ভবত এভাবেই চলবে।
তাই ড্রাইভারকে প্রতি সপ্তাহে রুটিন মাফিক ১/২ দিন সকালে বাসায় আনিনে গাড়ি পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন করিয়ে নিন। ড্রাইভারের মূল কাজই তো হচ্ছে গাড়ি চালানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, গাড়ির যত্ন নেয় এবং গাড়ির সব ব্যাপার খেয়াল রাখার। এছাড়া এখন অন্য কোথাও থেকে কিছু আনতে হলে আনিয়ে নেন বা পাঠালে হলে পাঠান। অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে ড্রাইভারকে সাথে নিন বা তাকে দিয়ে করিয়ে নিন। এই করোনা সংকটকালে এবং লকডাউনের কারণে বসে বসে মাসিক বেতন পাচ্ছে এই কথাটা ড্রাইভারকে সরাসরি ভালভাবে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলুন। সবাই নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করুন। ভাল, সুস্থ্য, সতর্ক, নিরাপদ থাকুন এবং সুরক্ষা নিয়ে, সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে চলুন।
asifultasin18@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *