করোনা নিয়ে অহেতুক ভীতি এবং বাড়াবাড়ি বন্ধ হোক

আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ: করোনা মানেই মৃত্যু নাঃ ধুমপানকারী, মাদকসেবী, মদ্যপায়ী, বয়স্ক ব্যক্তি, নানা কারণে জটিল শারীরিক ব্যাধিতে আক্রান্ত, শরীরে ভিটামিন সি-ডি, প্রটিণ- ক্যালসিয়াম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রভৃতি কম থাকলে সেসব ব্যক্তির জন্য করোনা ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে প্রমাণিত এবং এই ধরনের করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিরাই অধিক মৃত্যু বরণ করেছে। তাই এই ধরনের ব্যক্তিদের অধিক সতর্ক থাকতে হবে এবং সদা সতর্কতা অবলম্বন করে চলতে হবে। উল্লেখ্য যে, ইউরোপ, উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দেশগুলোর কিশোর, তরুন, বৃদ্ধ সব বয়সী পুরুষ-নারী ধুমপান, এলকোহল জাতীয় পানীয় পানে, মাদকসেবনে অভ্যস্ত। এজন্য তাদের মধ্যে করোনা আক্রান্তদের মৃত্যর হারও বেশি ছিল।

অপরদিকে বাংলাদেশের মানুষ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দারিদ্রের সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে। ধর্মীয়-সামাজিক কারণে অধিকাংশ মানুষ ধুমপান, এলকোহল জাতীয় পানীয় পান, মাদকসেবন করে না। অধিকাংশ মানুষ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করে এবং নিম্নমানের ভেজাল খাবারে অভ্যস্ত। তাই আমাদের দেশের মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। তবে করোনা ভাইরাস যেহেতু শিশু থেকে তরুন-বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষকেই আক্রমন এবং আক্রান্ত করে তাই সবারই সমভাবে করোনায় আক্রান্ত হবার ব্যাপারে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিকভাবে সতর্ক থাকতে হবে এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

কারো করোনা হলে তার সাথে আর সম্পর্ক রাখা যাবে না, তাকে ছেড়ে ভাগতে হবে, তাদের পরিবার-পরিজনদের বাসা, এলাকা থেকে বের করে দিবেন, করোনা রোগীদের সেবাদানকারী ডাক্তার-নার্স, সেবা কর্মীদের বাসায় এবং এলাকায় থাকতে দিবেন না। তাদের বাসা বা তাদের উপর হামলা করবে। এসব চিন্তা-কার্যকলাপ অত্যন্ত অসভ্য বর্বর মানসিকতা? অমানবিকতা। একটু মাথা ঠান্ডা করে চিন্তা করুন, ভাবুন সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই এখন যখন তখন যে কেউ এই করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন। তখন তো তাকে হাসপাতালে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। ডাক্তার-নার্স, ওয়ার্ড বয়-আয়াদের সেবা-যত্নই নিতে হবে। আর মারা গেলে তারাই উক্ত মৃত ব্যক্তির শেষ কৃত্যের ব্যবস্থা করবে।

তাই করোনা ভাইরাস, করোনা আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে সমাজের মানুষের মধ্যে অহেতুক ভীতি এবং বাড়াবাড়ি বন্ধ করার জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো জোড়দার করা উচিত। করোনা একটি মহামারী রোগ একথা সত্য। এটা শ্বাসতন্ত্রে আঘাত হানে বলে তা বয়স্ক, ছোট শিশু, অসুস্থ্য ব্যক্তি, ধুমপায়ী, মদ-মাদক সেবীদের জন্য অধিক বিপদজনক বলে বিবেচিত। সারা বিশ্বে মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর ১০০% এর মধ্যে মাত্র ৩% রোগী মারা গিয়েছে। অধিকাংশ পর্যায়ক্রমে সুস্থ্য হয়ে নিজ বাসায় ফিরেছেন এবং ফিরছেন। তাই করোনা আক্রান্ত হওয়া মানেই নিশ্চিত মৃত্য, মারা যাব বা যাবেন এইসব ধারনা সঠিক না। বরং এটা অহেতুক ভুল ধারনা এবং মিথ্যা প্রচারণা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে করোনা ভাইরাস একটি মৌসুমী রোগের ন্যায় দীর্ঘস্থায়ী হবে সারা বিশ্বে। তাই করোনা ভাইরাসকে স্বাভাবিকভাবেই সমাজের মানুষকে আতস্থ করে নেয়ার মানসিক এবং সামাজিক প্রস্তুতি নিতে হবে। asifultasin18@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

etiler escort taksim escort beşiktaş escort escort beylikdüzü