এক ব্যক্তি কোম্পানী খোলার সুযোগ রেখে কোম্পানী আইনের খসড়ার অনুমোদন

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগকে আরো এগিয়ে নিতে ‘এক ব্যক্তি কোম্পানি’ খোলার সুযোগ রেখে কোম্পানী (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন,২০২০ এর খসড়ার চুড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সকালে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে সচিবালয়ে বৈঠকরত মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সচিবদের সঙ্গে যোগ দেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘এক ব্যক্তির কোম্পানি’ হল সেই কোম্পানি, যার বোর্ডে সদস্য থাকবেন কেবল একজন। পরিচালক এবং প্রধান ব্যক্তি একজন থাকেন বলে এ ধরনের কোম্পানি পর্ষদ সভা করা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নিয়মের ছাড় পাবে।


মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এক ব্যক্তির কোম্পানি- এটা আমাদের পারসেপশনে ছিল না। এটা আমাদের কাছে বিভিন্ন দিক থেকে প্রস্তাব এসেছে যে এক ব্যক্তিকে কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধন করা হলে অনেক বিনিয়োগ আসবে।’
সে কারণে এক ব্যক্তির কোম্পানির নিবন্ধন, পরিচালনা ও বিধি-বিধান সংশোধিত আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হস্তান্তরকারীর ব্যক্তিগত উপস্থিতি এবং কমিশনের মাধ্যমে হস্তান্তর দলিলে স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে।’
তিনি আরো বলেন,‘কোম্পানি উঠে গেলে পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা দেখেছি যখন কোম্পানি উঠে যায় তখন পাওনাদাররা ঘোরে।’
কোম্পনি আইন সংশোধন করে অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধনের বিধান রাখা হচ্ছে বলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব উল্লেখ করেন।
খন্দকার আনোয়ার বলেন, বর্তমান আইনে ১৪ দিনের নোটিসে বোর্ড মিটিং করার বিধান ছিল, সেটাকে এখন ২১ দিন করা হচ্ছে।


‘এক ব্যক্তির কোম্পানি খোলার সুযোগ এবং ২১ দিনে বোর্ড মিটিংয়ের ব্যবস্থা রাখায় বিশ্ব ব্যাংকের ব্যবসায় পরিবেশের সূচকে আমাদের পয়েন্ট বেড়ে যাবে.’বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর কোম্পানি আইন সংশোধন প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। এখন এই আইন সংশোধনীর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া তা পাসের জন্য সংসদে তোলা হবে।

এদিন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কাজ সুনির্দিষ্ট করে দিতে ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০২০, এর খসড়ার চুড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
আইনে বলা হয়েছে-‘আইন লঙ্ঘন করে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ভিসা বা রিক্রুটিং কাজ পরিচালনা করলে অনধিক ৬ মাসের কারাদ- বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ট্রাভেল এজেন্সির কাজ সুস্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে, তারা শুধু ভিসা করবে।’
তিনি বলেন, ‘আইন বা বিধিমালা লঙ্ঘন করলে অনধিক ৬ মাসের কারাদ- বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ে দ-িত হবে, এরকম বিধান রাখা হয়েছে। এটা করা হয়েছে এ কারণে যে, অনেক সময় ট্রাভেল এজেন্সি রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজ করে, এতে আর তা করতে পারবে না। যদি করে তাহলে তাকে জরিমানা দিতে হবে। কারণ, রিক্রুটিং এজেন্সির রেজিস্ট্রেশন আলাদা।’


মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অনেক সময় দেখা যায় যে, ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ডুয়েল ফাংশন করে ফেলে। অথচ, তার কাজ হলো শুধু মানুষের টিকিট করে দেওয়া। কিন্তু রিক্রুটিং, অ্যাপয়মেন্ট, ভিসা নিয়ে অনেক ট্রাভেল এজেন্সি হ্যান্ডেল করে। যার ফলে আইনগতভাবে তাদের ধরা যেত না এতদিন। কিন্তু এখন থেকে নিশ্চিত হবে যে ট্রাভেল এজেন্সি ভিসা বা রিক্রুট হ্যান্ডেল করতে পারবে না।

অনুমোদন সাপেক্ষে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো দেশে-বিদেশে শাখা খুলতে পারবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনের সংশোধনীতে ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন হস্তান্তর এবং শাখা কার্যালয় স্থাপনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। আগে হস্তান্তরের কোনো বিধান ছিল না।
খন্দকার আনোয়ার আরো বলেন, আগে নিবন্ধনের দরখাস্ত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফলো না করলে তা বাতিল হয়ে যেত। এখন প্রভিশন রাখা হয়েছে- দরখাস্ত করার পর ভ্যালিড কারণে ফলো করতে না পারলে পরবর্তীতে জরিমানা দিয়ে আবার ছয় মাস পর্যন্ত সময় পাবে। একই সাথ মামলা নিষ্পত্তি করতে সিআরপিসি থাকবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এদিন মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বানভাসি মানুষের যেন ত্রাণের কোনো ঘাটতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুত থাকার ও নির্দেশ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে যে, রিলিফ ও রেসকিউ অপারেশন- এগুলো কীভাবে হচ্ছে, এ বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন ফ্রান্স এবং সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ’র মধ্যে স্বাক্ষরের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘টেকনিক্যাল কোঅপারেশন এগ্রিমেন্ট’র খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়। একইসঙ্গে প্রতি বছর ৪ জুনকে ‘জাতীয় চা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা এবং দিবসটি উদযাপনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কতৃর্ক জারিকৃত এতদসংক্রান্ত পরিপত্রের ‘খ’ ক্রমিকে উহা অন্তভর্’ক্তকরনের প্রস্তাবও এদিন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়।

সূত্র: বাসস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

etiler escort taksim escort beşiktaş escort escort beylikdüzü