রাজনীতি

উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি কম শর্ত আরোপের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি একে আরো টেকসই করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে এই ব্যাপারে বেশি শর্তারোপ না করার আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের আরো উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আমরা আশা করি, আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরাও আমাদেরকে খুব বেশি শর্ত না দিয়ে এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবেন। যেন যে অগ্রযাত্রা আমরা শুরু করেছি সেটাকে যেন আরো ভালভাবে সম্পন্ন করতে পারি, যোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম বিডিএফ)-২০২০’এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যে কাজগুলো শুরু করেছি সেকাজ গুলোকে আমরা সাসটেইনেবল করতে চাই। আর সেটা করতে গেলে আর্থিক সঙ্গতি দরকার। আর সেক্ষেত্রে আমি মনে করি, আমাদের যারা উন্নয়ন সহযোগী আছেন তাঁরাও এগিয়ে আসবেন। সহযোগিতা করবেন।’ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘একটা বিষয়ে কেউ যখন সাকসেসফুল হয় সেখানে সাহায্য করতে তো কারো দ্বিধা থাকে না বরং আগ্রহ আরো বেশি হয়। সেটা আমরা দেখি, কাজেই সেটাই হবে বলে আমরা মনে করি।’
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সরকারের উন্নয়ন চাহিদার সঙ্গে যাতে উন্নয়ন সহযোগীরা যাতে সম্পৃক্ত হতে পারে, সেজন্যই দু’দিন ব্যাপী এই বিডিএফ সভার আয়োজন করেছে। যেখানে সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়া’র পাশাপাশি উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলো তুলে ধরা হবে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বৈঠকের উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন। বিশ্ব ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ সেফার, জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জুনিচি ইয়ামাদা এবং এডিবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট শিক্সিন চেন বক্তৃতা করেন।
ইউএন রেসিডেন্ট কোয়ার্ডিনেটর এবং লোকাল কনসালটেটিভ গ্রুপের কো-চেয়ার মিয়া সেপোও বক্তৃতা করেন এবং ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ স্বাগত বক্তৃতা করেন।
ইআরডি সূত্র জানায়, বিশ্ব ব্যাংক, এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), জাইকা, ইউএসএইড, ইউকে এইড, ভারত, চীনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।
মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশি কূটনিতিক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন। ২০১০ সাল থেকে বিডিএফ’র সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার চতুর্থ বারের মত এই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে বিশ্বব্যাংক ও দ্বিপক্ষীয় দাতা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। সেসময় বিশ্বব্যাংক ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে দাতাদের একটি কনসোর্টিয়াম আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। বঙ্গবন্ধু সরকারের সক্রিয় ভূমিকায় ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের সভাপতিত্বে ঐ কনসোর্টিয়ামটি ঢাকায় আয়োজন করতে সমর্থ হয় জাতির পিতার সরকার। কালক্রমে, দাতাদের সেই কনসোর্টিয়াম বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম নামে পরিচিতি লাভ করে। আর এক সময়ের দাতারা পরিণত হয় ‘উন্নয়ন সহযোগী’ হিসেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এর পর আমাদের অনেক চড়াই উৎরাই পেরোতে হয়েছে, কখনো গণতন্ত্র ধারাবাহিকভাবে চলতে পারেনি, সামরিক স্বৈরশাসন বলবৎ ছিল। ফলে, দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন সাধিত হয়নি।
দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন শুরু হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা মাথায় রাখতে হবে কোন রাজনৈতিক কমিটমেন্ট ছাড়া কখনো কোন দেশ উন্নতি করতে পাওে না। আর সেটা আজকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একেবারে প্রমাণিত সত্য।’
তিনি বলেন, একটি দেশকে গড়ে তোলার জন্য সেখানে যেমন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন থাকে, কমিটমেন্ট থাকা দরকার তেমনি একটি পরিকল্পনা থাকা দরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের যদি একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা থাকে যে, দেশটাকে কিভাবে তাঁরা গড়তে চায় তাহলেই সে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে। আর আমরা সে কাজটাই করেছিলাম। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র নিয়ে আলোচনা করায় আলোচকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। ভবিষ্যতের দিকে আমাদের আরো এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যে লক্ষ্য স্থির করেছি তাতে একজন মানুষও গৃহহারা থাকবে না, কেউ না খেয়ে কষ্ট পাবে না, বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না, নিরক্ষর থাকবে না,প্রতিটি মানুষ স্ন্দুর জীবন পাবে।’ ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের জন্য বাংলাদেশ দায়ী নয় কিন্তু সবচেয়ে নির্মম শিকার’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এই অবস্থার জন্য দায়ী তাদেরই সবথেকে বেশি অবদান রাখা দরকার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষার করার জন্য আমরা ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ প্রণয়ন করে সেটা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আশা করি, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ইতোমধ্যেই আমরা সেটা মোকাবেলা করার মত পদক্ষেপ নিয়েছি।’ এক্ষেত্রে আমি বলবো-‘আমরা যখন জলবায়ুর প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করি তখন অনেক প্রতিশ্রুতি (উন্নত দেশের) পাই। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আর সেভাবে কেউ পূরণ করে না।’
তিনি বলেন, কাজেই জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলায় আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি। নিজেদের টাকা দিয়েই এই ফান্ড গড়েছি তাতে সামান্য কিছু সহযোগিতা আমরা পেয়ে থাকি।
সরকার প্রধান বলেন, ‘আমি মনে করি, উন্নত দেশগুলোর এবং আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের আরো এগিয়ে আসা দরকার। আরো সহযোগিতা দরকার। যে সমস্ত দেশ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিভিন্ন ছোট ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র যারা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে তাঁদের সকলেরই এই সহযোগিতাটা দরকার।’
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই দীর্ঘ মেয়াদি এবং পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে দেশের উন্নয়ন শুরু করে এবং জাতিসংঘের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এমডিজি (সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
তিনি বলেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পাশাপাশি মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে সরকার সে সময় দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে ‘রূপকল্প-২০২১’ নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন শুরু করে। এটি একদিকে যেমন আমাদের দলের অর্থনৈতিক নীতিমালা তেমনি সরকারের উদ্যোগে আসলে দেশের উন্নয়ন কিভাবে করবো সেই পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সময় থেকেই ঢাকা উন্নয়ন সভা (বিডিএফ) শুরু হলো এবং উন্নয়ন সহযোগীরাও সহযোগিতা শুরু করলো।’
বিগত ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে আগের মেয়াদে বিরোধী দলে থাকলেও তাঁকেই বিনা অপরাধে প্রথম গ্রেফতার করে ‘সলিটারি কনফাইনমেন্টে’ রাখে। যে সময় তাঁর দল সরকারে এলে কিভাবে দেশ পরিচালনা করা হবে, সে পরিকল্পনা প্রণয়নের সুযোগটি তিনি গ্রহণ করেন বলেও উল্লেখ করেন।
‘আমরা কত সালে কি কি করবো সেটার একটি খসড়া আমি কারাগারে বসেই প্রনয়ন করি। যেটা আমি পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করি, ’বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা এবং নদী থেকে ভূমি পুণরুদ্ধারে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা এবং গৃহীত পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগের ক্ষেত্রে মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য সমগ্র নদী ড্রেজিং করে নদীগুলোর নব্যতা বাড়াতে হবে। তাহলে বন্যার হাত থেকে দেশের মানুষকে আমরা মুক্ত করতে পারবো এবং ‘ল্যান্ড রিক্লেমেশন’ করতে পারবো। এজন্য আমাদের সহযোগিতা দরকার।’
তাঁর সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নদী পথ, রেল পথ, সড়ক পথ এবং আকাশ পথ-সবক্ষেত্রেই যেন এই যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো ত্বরান্বিত হয় সেজন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছি। সেইসাথে আরো নতুন নতুন প্রকল্পও আমরা নিতে চাই।’
জনগণ যেন রাজধানী মুখী না হয়ে নিজ গ্রামে বসবাস করতে পারে সে সুযোগ সৃষ্টিও তাঁর সরকারের একটি অন্যতম লক্ষ্য অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামেই সাধারণ জনগণ সকল ধরনের নাগরিক সুবিধা এবং সুযোগ লাভ করতে পারে সেজন্য আমার গ্রাম আমার শহর প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করছি।’
তিনি এ সময় সারাদেশে প্রায় ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে সেখান থেকে ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদানের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোড়গোঁড়ায় নিয়ে যাওয়ায় তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে করেন।
তিনি বলেন, ‘সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা লাভের পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। ঐ গ্রামের নারী-পুরুষরাই সেখানে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।’


‘ঝরে পড়া’ বন্ধে তাঁর সরকারের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্গম এলাকা বা চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যেন বিদ্যালয়ে কাছে থেকেই লেখাপড়া করতে পারে সেজন্য আমরা আবাসিক স্কুল করে দিচ্ছি।’
সরকার করিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৬ষ্ঠ শ্রেনী থেকে যে কোন একটা বিষয়ে বাচ্চাদের হাত কলমে শিক্ষা দেওয়া হবে এবং ৪৯২টি উপজেলার প্রত্যেকটিতে একটি করে কারিগরি স্কুলও করে দিচ্ছি।’
শেখ হাসিনা তাঁর এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, শিক্ষায় সকলেই উচ্চশিক্ষায় যাবে না, ‘কিন্তু শিক্ষা শেষে যেন কর্মসংস্থান তে পারে সেজন্যই এই ব্যবস্থা। অর্থাৎ যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আসছে তাঁরসঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আমাদের জনংখ্যাকে তৈরী করতে হবে।’
সারাদেশে ৫ হাজার ৮শ’ ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ এবং দেশের সকল উপজেলায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার প্রকল্প তাঁর সরকার বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে গ্রামে নিজ ঘরে বসেই যেন আয় রোজগার করে জীবিকা নির্বাহ করা যায়-তার নিশ্চয়তা বিধান করা।’ ‘লার্নিং এন্ড আর্নিং’ কর্মসূচির মাধ্যমে এখন অনেকেই ঘরে বসে তাঁদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে পারছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
‘দেশের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধূলা, শরিরচর্চা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সাহিত্য চর্চায় আরো মননিবেশ করবে এটাই তার সরকার চায়’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারণ, আমরা বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতি দূর করতে চাই। আর সেদিকে লক্ষ্য নিয়েই শিশুদের বহুমুখী প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে তাঁদের আমরা বড় করে তুলতে চাই। কারণ, একটা জাতিকে সুষ্ঠুভাবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য, ’যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
মাতৃ মৃত্যু ও শিশু মৃত্যু হার হ্রাস, হত দরিদ্রের হার কমানো এবং মাতৃত্বকালিন ভাতা এবং মাতৃদুগ্ধদানকারী মায়েদের জন্যও সরকারের ভাতার প্রচলনসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ততা ভাতা, প্রতিবন্ধী, পঙ্গু ভাতাসহ তাঁর সরকারের ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি এবং উপবৃত্তি প্রদানের পদক্ষেপের উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মায়ের মোবাইল ফোনে প্রতি মাসের শেষে বৃত্তির টাকা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। যাতে সামাজিক এবং দারিদ্র বিমোচনের ক্ষেত্রে উপকার হচ্ছে।
‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প চালু, ‘কর্মসংস্থান ব্যাংক’ থেকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বিনা জমানতে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান সুবিধা প্রদান এবং প্রবাস গমনেচ্ছুদের জন্য ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা, গৃহহীনদের ঘরবাড়ি তৈরীতে ‘আশ্রয়ন প্রকল্প’ বাস্তায়নে সরকারের পদক্ষেপের তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর-বাড়ি-তৈরীর জন্য ১শ’ কোটি টাকা বাজেট রয়েছে এবং তাঁদেরকে খুঁজে খুঁজে তা দেযা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবথেকে বড় কথা হলো দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে। জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করে গেছেন এবং তাঁর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলাদেশ আরা গড়ে তুলবো। আমরা সেই কর্মপরিকল্পনা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি।’

ট্যাগ সমূহ
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

mersin escort mut escort mersin escort canlı tv izle konya escort
sakarya escort sakarya escort sakarya escort sakarya escort sakarya escort
sakarya escort sakarya escort ümraniye escort serdivan escort
ankara escort ankara escort bayan escort ankara
Balıkesir escort Manisa escort Aydın escort Muğla escort Maraş escort Yozgat escort Tekirdağ escort Isparta escort Afyon escort Giresun escort Çanakkale escort Trabzon escort Çorum escort Erzurum escort Zonguldak escort Sivas escort Düzce escort Tokat escort Osmaniye escort Didim escort Kütahya escort Mardin escort Van escort Yalova escort Şanlıurfa escort Ordu escort Alanya escort Fethiye escort Sakarya escort Konya escort Elazığ escort Kayseri escort Hatay escort Diyarbakır escort Kocaeli escort Gaziantep escort Adana escort Van mutlu son Maraş mutlu son Şanlıurfa mutlu son Isparta mutlu son Amasya mutlu son Afyon mutlu son Denizli mutlu son Kayseri mutlu son Eskişehir mutlu son Tekirdağ mutlu son Adana mutlu son Çanakkale mutlu son Kayseri mutlu son Denizli mutlu son Tokat mutlu son Yalova mutlu son Sivas mutlu son Kırklareli mutlu son Osmaniye mutlu son Mardin mutlu son Zonguldak mutlu son