অস্ত্র মামলায় সাহেদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মোহাম্মদ রফিক, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : করোনাভাইরাসের পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার হোতা রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ সাহেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে করা একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুর ২টায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় শাহেদকে আদালতে এনে গারদখানায় রাখা হয়। এরপর তার উপস্থিতিতেই বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তাপস কুমার পাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত রায়ের জন্য ২৮ সেপ্টেম্ববর দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর একই আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেকে ‘সম্পূর্ণ নির্দোষ’ দাবি করে ন্যায়বিচার চান শাহেদ করিম। ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতের কাছে শাহেদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. শায়রুলের সাক্ষগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন আদালত। এ মামলায় মোট ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে তিন ধাপে ১১ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত। একই আদালতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ৫ জন ও পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর আরও ৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
গত ২৭ আগস্ট অস্ত্র মামলায় শাহেদের বিরুদ্ধে একই আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকাজ শুরু হয়। গত ৩০ জুলাই ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় শাহেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের মামলায় চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. শায়রুল।
করোনা ভাইরাস নমুনা পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট জালিয়াতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগে গত ৭ জুলাই শাহেদসহ ১৭ জনকে আসামি করে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করা হয়। শুরুতে মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে দেয়া হলেও পরে তা র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শাহেদকেও হস্তান্তর করা হয় র‌্যাবে।
সূত্র জানায়, এই আইনের অপর ধারায় সাহেদকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ে আদালত বলেছেন উভয় ধারা একসঙ্গে কার্যকর হবে। আলোচিত এ মামলার রায়ে আদালত দুটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে-সাহেদ ধুরন্ধর। যে গাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি যে তার তিনি স্বীকার করেননি। গাড়িটি পূবালী ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা লোন নিয়ে কেনা হয়েছিল। পূবালী ব্যাংক কর্মকর্তা সাক্ষ্য দেয়ার পর গাড়ি যে সাহেদের সেটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দ্বিতীয় পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, আমাদের সমাজে সাহেদের মতো ভদ্রবেশী অপরাধীদের জন্য এ রায়টি একটি বার্তা হয়ে থাকবে। সাহেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে প্রথম কোনো মামলার রায় এটি।
প্রসঙ্গত সাহেদের বিরুদ্ধে করোনাভাইরাসের টেস্ট নিয়ে জালিয়াতির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। শাহেদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ সারা দেশে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগই প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *